চাঁদা না পেয়ে কক্সবাজারে গণেশ পালকে কুপিয়ে হত্যা
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- কক্সবাজার শহরে বাড়ি নির্মাণের চাঁদা না দেওয়ার জেরে গণেশ পাল (২৯) নামে এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৭ মার্চ)…
মেলবোর্ন, ১২ জানুয়ারি- ইরানে চলমান বিক্ষোভ দমনে কঠোর অভিযানের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপসহ বিভিন্ন শক্ত প্রতিক্রিয়া বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনাও রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরোধী শক্তির সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছে। এই বিক্ষোভ ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর দেশটির ধর্মীয় শাসনের জন্য অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সোমবার তেহরানে বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে এক ব্রিফিংয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি বলেন, ইরান যুদ্ধের জন্য যেমন প্রস্তুত, তেমনি আলোচনার পথও খোলা রাখতে চায়।
এর আগে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, নিরাপত্তা বাহিনী যদি বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালাতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন এইচআরএএনএ জানিয়েছে, তারা অন্তত ৪৯০ জন বিক্ষোভকারী এবং ৪৮ জন নিরাপত্তা সদস্যের মৃত্যুর তথ্য যাচাই করেছে। এ ছাড়া ১০ হাজার ৬০০ জনের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। তবে ইরান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো হতাহতের সংখ্যা প্রকাশ করেনি এবং এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
রোববার ট্রাম্প জানান, ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় বসতে চেয়েছে। গত জুনে ১২ দিনের যুদ্ধে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছিল। এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ইরান আলোচনায় আগ্রহী এবং বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে। তবে বৈঠকের আগেই পরিস্থিতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রকে পদক্ষেপ নিতে হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, মঙ্গলবার ট্রাম্প তার শীর্ষ উপদেষ্টাদের সঙ্গে ইরান ইস্যুতে করণীয় নিয়ে বৈঠক করবেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য পদক্ষেপের মধ্যে সামরিক হামলা, গোপন সাইবার আক্রমণ, নিষেধাজ্ঞা জোরদার এবং সরকারবিরোধী গোষ্ঠীগুলোকে অনলাইনে সহায়তা দেওয়ার বিষয় রয়েছে। ট্রাম্প বলেন, সামরিক বাহিনী বিষয়টি পর্যালোচনা করছে এবং যুক্তরাষ্ট্র খুব শক্ত বিকল্প বিবেচনা করছে।
এদিকে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ যুক্তরাষ্ট্রকে ভুল হিসাব না করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেন, ইরানে হামলা হলে ইসরায়েলসহ যুক্তরাষ্ট্রের সব ঘাঁটি ও জাহাজ বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে।
গত ২৮ ডিসেম্বর দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে ইরানে বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে তা দেশটির ধর্মীয় শাসকদের বিরুদ্ধেও ছড়িয়ে পড়ে। জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ায় সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর ব্যাপক অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়েও অসন্তোষ বাড়ছে।
সোমবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে নিহত নিরাপত্তা সদস্যদের জানাজায় বড় জমায়েত এবং বিভিন্ন শহরে সরকারপন্থী বিক্ষোভের দৃশ্য দেখানো হয়। সরকার এসব বিক্ষোভকে সাম্প্রতিক তথাকথিত সন্ত্রাসী ঘটনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হিসেবে তুলে ধরছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে অস্থিরতা উসকে দেওয়ার জন্য দায়ী করে সোমবার দেশজুড়ে সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাকচি দাবি করেন, সহিংসতার পর পরিস্থিতি এখন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তিনি বলেন, ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির কারণে কিছু গোষ্ঠী সহিংসতা বাড়িয়ে বিদেশি হস্তক্ষেপের সুযোগ তৈরি করতে চাইছে।
ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ থাকায় ইরান থেকে তথ্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। ট্রাম্প জানান, ইরানে স্টারলিংক সেবার মাধ্যমে ইন্টারনেট চালুর বিষয়ে তিনি ইলন মাস্কের সঙ্গে কথা বলবেন। অন্যদিকে আরাকচি বলেছেন, নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে ইন্টারনেট সেবা পুনরায় চালু করা হবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে তেহরানের রাস্তায় রাতে বড় মিছিল ও স্লোগানের দৃশ্য দেখা গেছে। রাষ্ট্রীয় টিভি আবার তেহরানের মর্গে সারি সারি মরদেহের ব্যাগ দেখিয়ে দাবি করেছে, নিহতরা সশস্ত্র সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের শিকার।
রোববার সরকার তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করে। ইসরায়েলি সূত্রগুলো জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র কোনো পদক্ষেপ নিলে সে আশঙ্কায় ইসরায়েল সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, অতীতেও ইরান সরকার বিক্ষোভ সামাল দিতে পেরেছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশটি আগের তুলনায় দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। সাবেক মার্কিন কূটনীতিক অ্যালান আইরের মতে, এই বিক্ষোভ সরকার পতন ঘটাবে না, তবে শাসনব্যবস্থাকে আরও দুর্বল করে দেবে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প লিখেছেন, ইরান হয়তো আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি স্বাধীনতার দিকে তাকিয়ে আছে এবং যুক্তরাষ্ট্র সহায়তার জন্য প্রস্তুত।
সূত্রঃ রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au