নিহত সমীর কুমার দাস। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১৩ জানুয়ারি- বাংলাদেশের ফেনী জেলার দাগনভূঁইয়া উপজেলায় এক হিন্দু অটোরিকশা চালককে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। হত্যা করার পর ঐ যুবকের অটোরিকশা ছিনতাই করা হয়েছে বলে অভিযোগ করছে পরিবার। এই ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
নিহতের নাম সমীর কুমার দাস। তার বয়স ২৮ বছর। তিনি দাগনভূঁইয়া উপজেলার মাতুভূঁইয়া ইউনিয়নের রামানন্দপুর গ্রামের জেলে বাড়ির কার্তিক কুমার দাসের ছেলে। পেশায় তিনি একজন অটোরিকশা চালক ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রোববার রাতের দিকে সমীর কুমার দাস অটোরিকশা চালিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে দাগনভূঁইয়া হাসপাতালের কাছাকাছি পৌঁছালে অজ্ঞাত পরিচয়ের কয়েকজন ব্যক্তি তাকে পথরোধ করে। প্রথমে তাকে মারধর করা হয়। পরে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয় তাকে।
ঘটনার পর হামলাকারীরা সমীরের অটোরিকশাটি নিয়ে পালিয়ে যায়। কিছু সময় পর স্থানীয় লোকজন রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে পড়ে থাকতে দেখে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। দাগনভূঁইয়া থানার অফিসার ইনচার্জ জানান, প্রাথমিক তদন্তে এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলেই মনে হচ্ছে। হত্যায় ছুরি বা চাপাতির মতো দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং স্থানীয় লোকজনের বক্তব্য নেওয়া হচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হবে বলে পুলিশ আশাবাদী। পুলিশের ধারণা, এটি ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে অথবা ব্যক্তিগত শত্রুতার কারণে হয়ে থাকতে পারে।
এদিকে নিহত সমীর কুমার দাসের পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোক। তার বাবা কার্তিক কুমার দাস বলেন, তার ছেলের কারও সঙ্গে কোনো বিরোধ ছিল না। জীবিকার তাগিদে সে নিয়মিত অটোরিকশা চালাত। হামলাকারীরা শুধু তার ছেলেকে হত্যা করেনি, তার একমাত্র আয়ের উৎস অটোরিকশাটিও নিয়ে গেছে।
সমীরের স্ত্রী ও ছোট সন্তান এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। পরিবারের সদস্যরা এই ঘটনাকে হত্যা ও ছিনতাই দুটিই বলে দাবি করছেন। স্থানীয় কয়েকজন সমাজকর্মী নিহতের পরিবারকে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।
এই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার খবর সামনে আসায় উদ্বেগ বেড়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, এ ধরনের ঘটনায় দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত না হলে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে।
ঘটনার পর দাগনভূঁইয়া এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ফেনী জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, এলাকার শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে ।
এর আগে, গত মঙ্গলবার নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলায় চোর সন্দেহে স্থানীয়দের ধাওয়া খেয়ে খারিতে ঝাঁপ দিয়ে মিঠুন সরকার (২৫) নামে এক হিন্দু যুবকের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার চকগৌরি বাজার এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
তার আগে গত সোমবার রাতে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তদের নৃশংস হামলায় নরসিংদীর শরৎ মণি চক্রবর্তী নিহত হন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ধারালো অস্ত্রের অসংখ্য আঘাতে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ নিয় গত ২৩ দিনে কমপক্ষে ১০ জন হিন্দু যুবকের অস্বাভাবিক মৃত্য হলো। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হিন্দু বলেই টার্গেট কিলিংয়ের শিকার তারা।