চাঁদা না পেয়ে কক্সবাজারে গণেশ পালকে কুপিয়ে হত্যা
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- কক্সবাজার শহরে বাড়ি নির্মাণের চাঁদা না দেওয়ার জেরে গণেশ পাল (২৯) নামে এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৭ মার্চ)…
মেলবোর্ন, ১৩ জানুয়ারি: অস্ট্রেলিয়ার যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রদূত কেভিন রাড আগামী মার্চ মাসের শেষে তাঁর দায়িত্ব শেষ করছেন। প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ মঙ্গলবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ৩১ মার্চ ২০২৬ তারিখে রাড আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব ছাড়বেন, যা নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক বছর আগেই।
আলবানিজ ক্যানবেরায় সাংবাদিকদের বলেন,
“অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ নিরাপত্তা মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে কেভিন রাড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। কংগ্রেস, সিনেট, ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান উভয় পক্ষ এবং নাগরিক সমাজের সঙ্গে তিনি গভীর সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন।”
রাষ্ট্রদূতের পদ ছাড়ার পর কেভিন রাড যুক্ত হচ্ছেন Asia Society Policy Institute–এ, যেখানে তিনি সংস্থাটির গ্লোবাল প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেবেন। আলবানিজ তাঁকে “চীন ও যুক্তরাষ্ট্র–চীন সম্পর্ক বিষয়ে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ বিশেষজ্ঞ” বলে উল্লেখ করেন।
এশিয়া সোসাইটির ওয়েবসাইটে দেওয়া এক বিবৃতিতে রাড বলেন,
“এশিয়া সোসাইটি বিশ্বজুড়ে চিন্তাকেন্দ্র, শিল্প ও সাংস্কৃতিক কূটনীতিতে অন্যতম সম্মানিত প্রতিষ্ঠান। এখানে কাজ করার সুযোগ পেয়ে আমি গর্বিত।”
গত অক্টোবর হোয়াইট হাউসে এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে রাডের পুরনো মন্তব্য নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হয়। রাষ্ট্রদূত হওয়ার আগে রাড সামাজিক মাধ্যমে ট্রাম্পকে “ভিলেজ ইডিয়ট” ও “পশ্চিমা বিশ্বের বিশ্বাসঘাতক” বলেছিলেন। সেই প্রসঙ্গ উঠলে ট্রাম্প বলেছিলেন, “আমি তোমাকে পছন্দ করি না, হয়তো কখনও করবও না।” পরে রাড ক্ষমা চাইলে ট্রাম্প তা গ্রহণ করেন।
তবে আলবানিজ স্পষ্ট করে বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের এই ঘটনায় রাডের বিদায়ের কোনো সম্পর্ক নেই।
“ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান—দুই প্রশাসনের সঙ্গেই কেভিন সফলভাবে কাজ করেছেন,” বলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী জানান, রাড মনে করেন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সম্পর্কই এই শতকের মাঝামাঝি সময়ের বৈশ্বিক রাজনীতির গতিপথ নির্ধারণ করবে। তাই নতুন দায়িত্বকে তিনি শুধু অস্ট্রেলিয়ার নয়, বরং বিশ্বজনতার সেবার ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখছেন।
রাডের উত্তরসূরি এখনো ঠিক হয়নি। আলবানিজ বলেন, নতুন রাষ্ট্রদূতের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় যোগ্যতা হবে রাজনৈতিকভাবে দুই পক্ষের সঙ্গে কাজ করার সক্ষমতা এবং কূটনৈতিক দক্ষতা।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং রাডকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন,
“তিনি অসাধারণ শক্তি, শৃঙ্খলা ও মেধা দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার স্বার্থ এগিয়ে নিয়েছেন।”
রাডের পূর্বসূরি আর্থার সিনোডিনোস বলেন, রাডের আগেভাগে সরে যাওয়ায় তিনি বিস্মিত। তবে তিনি স্বীকার করেন,
“ওয়াশিংটনে কেভিন রাড ভালো কাজই করেছেন।”
কেভিন রাডের বিদায়ে ওয়াশিংটন–ক্যানবেরা কূটনীতিতে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের অবসান ঘটতে যাচ্ছে, যদিও নতুন ভূমিকায় তাঁর প্রভাব বৈশ্বিক রাজনীতিতেই প্রতিফলিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au