ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে ফুল দিতে এসে গ্রেপ্তার ৪, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে ফুল দিতে এসে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন চারজন। তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দিয়ে আদালতে…
মেলবোর্ন, ১৩ জানুয়ারি: অস্ট্রেলিয়াজুড়ে চালু হওয়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই–চালিত সড়ক ক্যামেরা ইতিমধ্যেই বড় ধরনের ভুল করতে শুরু করেছে। এর ফলে অনেক নির্দোষ চালককে মোটা অঙ্কের জরিমানা গুনতে হচ্ছে, কারণ এআই ক্যামেরা সাধারণ জিনিসপত্রকেও মোবাইল ফোন ভেবে শনাক্ত করছে।
এই প্রযুক্তি মূলত চালকের হাতে মোবাইল ফোন থাকা, সিটবেল্ট না পরা এবং কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো শনাক্ত করার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে।
নিউ সাউথ ওয়েলস (NSW) ছিল অস্ট্রেলিয়ার প্রথম রাজ্য যেখানে এই এআই ক্যামেরা চালু হয়। ২০২০ সাল থেকে এখন পর্যন্ত সেখানে ৯ লাখ ২১ হাজারের বেশি জরিমানা জারি করা হয়েছে। ট্রান্সপোর্ট ফর এনএসডব্লিউ দাবি করেছে, এই প্রযুক্তি চালকদের আচরণ বদলে দিয়েছে।
এক মুখপাত্র বলেন,
“২০১৯ সালের পরীক্ষামূলক পর্যায়ে প্রতি ৮২ জনে একজন চালক ধরা পড়ত। ২০২৪ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে প্রতি ৯৫৭ জনে একজন।”
তবে তিনি সতর্ক করেন,
“৬০ কিলোমিটার গতিতে গাড়ি চালানোর সময় মাত্র দুই সেকেন্ড ফোনের দিকে তাকালে গাড়ি ৩৩ মিটার অদেখা পথে চলে যায়।”
তবে আইনজীবীরা বলছেন, এআই ক্যামেরা মোটেও নির্ভুল নয়। অ্যাস্টর লিগালের প্রধান আইনজীবী অবিনাশ সিং বলেন, আদালতে ইতিমধ্যেই এমন বহু মামলা এসেছে যেখানে এআই ভুল করে ওয়ালেট, পাওয়ার ব্যাংক বা মেকআপ আয়নাকেও মোবাইল ফোন হিসেবে শনাক্ত করেছে।
তিনি বলেন,
“আমাদের সাম্প্রতিক অনেক মামলায় দেখা গেছে, চালকের হাতে পাওয়ার ব্যাংক, চার্জার বা ওয়ালেট থাকলেও ক্যামেরা সেটিকে ফোন ভেবে জরিমানা দিয়েছে।”
তিনি আরও বলেন,
“এআই ক্যামেরা চালুর পর ভুল জরিমানার সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।”
অবিনাশ সিং অভিযোগ করেন, এআই ক্যামেরার মাধ্যমে দেওয়া জরিমানা চ্যালেঞ্জ করা সাধারণ মানুষের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
“এক্ষেত্রে প্রথমে জরিমানা দেওয়া হয়, তারপর চালককে প্রমাণ করতে হয় তিনি দোষী নন। অনেক সময় মাসখানেক পর নোটিস আসে, তখন চালকের পক্ষে ঘটনা মনে করাও কঠিন হয়ে যায়।”
তিনি আরও বলেন,
“আইনি লড়াইয়ের খরচ অনেক সময় জরিমানার চেয়েও বেশি হয়। ফলে অনেকে বাধ্য হয়ে জরিমানা দিয়েই বিষয়টি মিটিয়ে ফেলেন।”
ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ায় এখন পরীক্ষামূলকভাবে এআই ক্যামেরা চালু হয়েছে, যা মোবাইল ফোন ব্যবহার, সিটবেল্ট ও গতি লঙ্ঘন শনাক্ত করতে পারে। পার্থ ও আশপাশে মোবাইল ট্রেইলার ক্যামেরা বসানো হয়েছে এবং কুইনানা ফ্রিওয়েতে স্থায়ী ক্যামেরা রয়েছে।
তাসমানিয়ায় নতুন ব্রিজওয়াটার ব্রিজে চালু হওয়া স্পিড ক্যামেরা এক সপ্তাহেই ৪০ হাজার ডলারের বেশি জরিমানা আদায় করেছে।
ভিক্টোরিয়া ও কুইন্সল্যান্ডেও এআই–চালিত ক্যামেরা ব্যবহৃত হচ্ছে, যেখানে সন্দেহজনক ছবি হিউম্যান স্টাফ দিয়ে পর্যালোচনা করেন।
এআই প্রযুক্তি সড়ক নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য চালু হলেও, ভুল শনাক্তকরণের কারণে নির্দোষ চালকেরা এখন বড় ধরনের আর্থিক ও মানসিক চাপে পড়ছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই প্রযুক্তির ওপর আরও কঠোর হিউম্যান তদারকি প্রয়োজন, না হলে ন্যায়বিচার প্রশ্নের মুখে পড়বে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au