‘সমাজ সংস্কার’-এর নামে গ্রামে নোটিশ জারি গানবাজনা বন্ধের ঘোষণা
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার একটি গ্রামে ‘সমাজ সংস্কার’-এর কথা বলে গানবাজনা ও বাদ্যযন্ত্র বাজানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করে নোটিশ জারি করেছিল স্থানীয় একটি জামে…
মেলবোর্ন, ১৩ জানুয়ারি- ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ঘিরে পরিস্থিতি দিন দিন আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। টানা ১৬ দিনের আন্দোলনে এখন পর্যন্ত অন্তত ৬৪৮ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে নরওয়েভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ইরান হিউম্যান রাইটস। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আরেক সংস্থা এইচআরএএনএর হিসাব অনুযায়ী, গ্রেপ্তার হয়েছেন সাড়ে ১০ হাজারের বেশি মানুষ। এর মধ্যেই তেহরানের বিরুদ্ধে আবারও কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সোমবার এয়ারফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে ট্রাম্প বলেন, বিক্ষোভকারীদের দমনে ইরান সরকার যে পদক্ষেপ নিচ্ছে, তা যুক্তরাষ্ট্র খুব গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে। তাঁর ভাষায়, ইরান হয়তো ‘শেষ সীমা’ অতিক্রম করা শুরু করেছে। তিনি জানান, সামরিক বাহিনীসহ বিভিন্ন সংস্থার কাছ থেকে পরিস্থিতি সম্পর্কে নিয়মিত তথ্য পাচ্ছেন এবং সম্ভাব্য কঠোর পদক্ষেপ নিয়েও ভাবা হচ্ছে।
ইরানে এই আন্দোলন শুরু হয়েছে চরম অর্থনৈতিক সংকট ও দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অসন্তোষের প্রেক্ষাপটে। বিশ্লেষকদের মতে, ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর এটিই সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে ইরানের দাবি অনুযায়ী, তাদেরও ১০৯ জন সদস্য নিহত হয়েছেন। তবে বিক্ষোভকারীদের হতাহতের সরকারি কোনো সংখ্যা প্রকাশ করেনি তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি দাবি করেছেন, পরিস্থিতি এখন ‘পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে’।
তবে একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংলাপের পথ খোলা রাখার বার্তাও দিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাগেরি বলেছেন, ইরান আলোচনায় প্রস্তুত, তবে কোনো ধরনের বিদেশি হস্তক্ষেপ তারা মেনে নেবে না। আরাগচিও বলেছেন, ইরান যুদ্ধ চায় না, কিন্তু যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় তারা সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
এই প্রেক্ষাপটে আজ মঙ্গলবার জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে, তা নিয়েই এই আলোচনা। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য বিকল্পের মধ্যে রয়েছে সামরিক হামলা, সাইবার অভিযান, নতুন নিষেধাজ্ঞা এবং সরকারবিরোধী গোষ্ঠীগুলোকে সহায়তা দেওয়া।
এ ধরনের পদক্ষেপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেই প্রশ্ন উঠেছে। রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট দলের কয়েকজন আইনপ্রণেতা সামরিক অভিযানের ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেছেন। তাঁদের আশঙ্কা, এতে বিপুল বেসামরিক প্রাণহানি হতে পারে এবং মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে।
অন্যদিকে ইরানও কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে। দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ বলেছেন, ইরানে হামলা হলে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে। বর্তমানে ইরান ঘিরে অঞ্চলজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, যেগুলো সম্ভাব্য হামলার ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন।
এর মধ্যেই ইরানের বিভিন্ন শহরে সরকারপন্থী সমাবেশ হয়েছে। রাজধানী তেহরানে আয়োজিত এক সমাবেশে যোগ দিয়ে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলার আশ্বাস দেন এবং বলেন, সরকার জনগণের কথা শুনতে প্রস্তুত।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও প্রতিক্রিয়া জোরালো হচ্ছে। ইউরোপীয় পার্লামেন্ট ইরানের দমন–পীড়নের নিন্দা জানিয়েছে, কানাডা ও জার্মানিসহ কয়েকটি দেশ সংযম দেখানোর আহ্বান জানিয়েছে। জাতিসংঘ মহাসচিবও পরিস্থিতি সামাল দিতে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ না করার আহ্বান জানিয়েছেন।
সব মিলিয়ে ইরানের অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ এখন আন্তর্জাতিক রাজনীতির কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের পরবর্তী সিদ্ধান্ত শুধু ইরান নয়, গোটা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিতেই বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au