চাঁদা না পেয়ে কক্সবাজারে গণেশ পালকে কুপিয়ে হত্যা
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- কক্সবাজার শহরে বাড়ি নির্মাণের চাঁদা না দেওয়ার জেরে গণেশ পাল (২৯) নামে এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৭ মার্চ)…
মেলবোর্ন, ১৩ জানুয়ারি- চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানের সময় শামসুজ্জামান ডাবলু নামে এক বিএনপি নেতার মৃত্যুকে ঘিরে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। গতকাল সোমবার রাতের এই ঘটনার পর থেকে জীবননগর পৌর শহরে অস্থির পরিস্থিতি বিরাজ করছে। নিহত ডাবলু জীবননগর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, অভিযানের সময় ডাবলুকে আটক করে নির্যাতন করা হয়েছে এবং সেই নির্যাতনের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, অভিযানের সময় আতঙ্কিত হয়ে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা গেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে জীবননগর পৌর শহরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী একটি ঝটিকা অভিযান চালায়। এ সময় জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে অবস্থিত ডাবলুর মালিকানাধীন ‘হাফিজা ফার্মেসি’ থেকে তাকে আটক করা হয়। আটকের প্রায় দুই ঘণ্টা পর রাত ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ে। পরে তার মরদেহ জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়, যেখানে আজ সকাল পর্যন্ত লাশটি রাখা ছিল।
খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা হাসপাতালের সামনে জড়ো হতে শুরু করেন। তারা অভিযোগ করেন, ডাবলুকে অমানবিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। ক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা রাতেই চুয়াডাঙ্গা-জীবননগর প্রধান সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে ব্যারিকেড দেন। এর ফলে সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হাসপাতাল ও আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান নেন।
রাত ২টার দিকে চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সভাপতি ও চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের বিএনপি প্রার্থী মাহমুদ হাসান খান বাবু হাসপাতালে পৌঁছান। তিনি বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। পরে রাত আড়াইটার দিকে তিনি হাসপাতালের ভেতরে গিয়ে ঘটনার প্রকৃত অবস্থা জানার চেষ্টা করেন। রাত ৩টার দিকে হাসপাতালের বাইরে এসে আবারও নেতা-কর্মীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান তিনি।
আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টা পর্যন্ত বিএনপি নেতা-কর্মীরা হাসপাতালের সামনের সড়ক অবরোধ করে রাখেন। এতে যান চলাচল ধীরগতিতে চললেও পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি।
নিহত ডাবলুর ভাই ও জীবননগর উপজেলা বন কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম কাজল অভিযোগ করে বলেন, তার ভাই কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। তিনি বলেন, যেভাবে তাকে পেটানো হয়েছে, তা কোনোভাবেই স্বাভাবিক মৃত্যু হতে পারে না। তার দাবি, এটি সরাসরি হত্যাকাণ্ড। একই অভিযোগ করেন উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব রিমন। তিনি বলেন, এর আগেও ডাবলুর পরিবারের সদস্যদের ওপর নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে।
এ ঘটনায় বিএনপির পক্ষ থেকে মামলা করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জীবননগর পৌর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শফিউদ্দিন শফি। তিনি বলেন, ডাবলুর মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিচারের দাবিতে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সোলায়মান সেখ ডাবলুর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করলেও এ নিয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি। অন্যদিকে হাসপাতাল এলাকায় অবস্থান করা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কয়েকজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে দাবি করেন, ডাবলুর মৃত্যু নির্যাতনের কারণে হয়নি। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানের সময় ভয় ও মানসিক চাপে তিনি হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।
এই মৃত্যুকে ঘিরে জীবননগরে রাজনৈতিক উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন রাখা হয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au