‘সমাজ সংস্কার’-এর নামে গ্রামে নোটিশ জারি গানবাজনা বন্ধের ঘোষণা
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার একটি গ্রামে ‘সমাজ সংস্কার’-এর কথা বলে গানবাজনা ও বাদ্যযন্ত্র বাজানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করে নোটিশ জারি করেছিল স্থানীয় একটি জামে…
মেলবোর্ন, ১৩ জানুয়ারি- চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ফাইন্যান্স বিভাগে প্রভাষক নিয়োগকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা। বিভাগীয় ফলাফলে তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে থেকেও উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খানের কন্যা মাহিরা শামীম প্রভাষক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ায় এই বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিভাগীয় ফলাফলে তার চেয়ে এগিয়ে থাকা অন্তত ১১ জন প্রার্থী নিয়োগ থেকে বাদ পড়েছেন।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) উপাচার্যের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৬৫তম সিন্ডিকেট সভায় মাহিরা শামীমের নিয়োগ অনুমোদন দেওয়া হয়। এর আগে গত ১৯ ডিসেম্বর ফাইন্যান্স বিভাগের শিক্ষক নিয়োগ বোর্ড অনুষ্ঠিত হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্রজনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর নতুন প্রশাসন দায়িত্ব গ্রহণ করে। দায়িত্ব নেওয়ার পর শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা ফেরাতে নতুন নিয়োগ নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়। এই নীতিমালার আওতায় এখন পর্যন্ত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট ৭৮ জন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৫৬৫তম সিন্ডিকেট সভায় বিভিন্ন বিভাগে নতুন করে নিয়োগ পান ১৮ জন শিক্ষক। এর আগের ৫৬৪তম সিন্ডিকেট সভায় নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল ৩৮ জন শিক্ষক। অর্থাৎ টানা দুই সিন্ডিকেটে মোট ৫৬ জন এবং বর্তমান প্রশাসনের আমলে মোট ৭৮ জন শিক্ষক নিয়োগ পেয়েছেন।
ফাইন্যান্স বিভাগের প্রভাষক নিয়োগের জন্য গত বছরের ১৯ আগস্ট পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিজ্ঞপ্তিতে চারটি প্রভাষক পদের বিপরীতে নিয়োগের কথা উল্লেখ করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে ১৯ ডিসেম্বর নিয়োগ পরীক্ষা গ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করা হয় এবং উপাচার্যের কার্যালয়ে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানানো হয়।
চারটি প্রভাষক পদের বিপরীতে মোট ৫১ জন প্রার্থী আবেদন করেন। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এই চার পদের মধ্যে একটি পদে সহকারী অধ্যাপকের বিপরীতে এবং আরেকটি পদে সহযোগী অধ্যাপকদের বিপরীতে প্রভাষক নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার দপ্তর থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে দেখা যায়, আবেদনকারী ৫১ জনের তালিকায় উপ-উপাচার্য শামীম উদ্দিন খানের কন্যা মাহিরা শামীমের অবস্থান ছিল ৪৩ নম্বরে।
বিভাগীয় একাডেমিক ফলাফল পর্যালোচনায় দেখা গেছে, মাহিরা শামীমের স্নাতক পর্যায়ের সিজিপিএ ৩.৮০। তবে সিজিপিএর ভিত্তিতে তার চেয়ে এগিয়ে ছিলেন আরও অন্তত ১১ জন প্রার্থী। এদের মধ্যে প্রথম অবস্থানে থাকা প্রার্থীর সিজিপিএ ৩.৯৫। এছাড়া সিজিপিএ ৩.৯০ অর্জনকারী দুইজন, ৩.৮৯ একজন, ৩.৮৪ দুইজন, ৩.৮২ দুইজন এবং ৩.৮০ সমমানের আরও তিনজন প্রার্থী ছিলেন।
উপ-উপাচার্যের কন্যার নিয়োগকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন মহলে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়। এর প্রতিবাদে আজ সোমবার (১২ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র মজলিসের সভাপতি সাকিব মাহমুদ রুমি ব্যঙ্গাত্মক প্রতিবাদ জানান। তিনি ক্যাম্পাসের ড. এ আর মল্লিক ভবনের সামনে একটি প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়িয়ে থাকেন। প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘বাবা আমায় একটা নিয়োগ দেবে?’
এ বিষয়ে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান বলেন, ফাইন্যান্স বিভাগের এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার সঙ্গে তিনি কোনোভাবেই যুক্ত ছিলেন না। তিনি নিয়োগ বোর্ডের সদস্য নন এবং বোর্ড কীভাবে পরিচালিত হয়েছে, সে সম্পর্কেও তিনি অবগত নন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তার মেয়ে সেখানে আবেদন করেছে এটুকুই তিনি জানেন। তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যই ভালো বলতে পারবেন, কারণ তিনিই নিয়োগ বোর্ডের সভাপতি ছিলেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার বলেন, শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে কয়েকটি ধাপে প্রার্থীদের যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। এখানে স্বজনপ্রীতি বা পক্ষপাতিত্বের কোনো সুযোগ নেই বলে তিনি দাবি করেন। তিনি বলেন, নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ কিনা তা দেখার জন্য সবাইকে সরাসরি এসে পর্যবেক্ষণের আহ্বান জানানো হয়েছিল, তবে কেউ সে আহ্বানে সাড়া দেননি।
উপাচার্য জানান, প্রথমে লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হয়। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের ডেমনস্ট্রেশন বা উপস্থাপনার মাধ্যমে যাচাই করা হয়। এরপর সেই ধাপেও উত্তীর্ণ হলে প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়। এই তিনটি ধাপের সম্মিলিত ফলাফলের ভিত্তিতে সেরা প্রার্থীদের নিয়োগের জন্য চূড়ান্ত করা হয়।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান প্রশাসন পুরোপুরি নিরপেক্ষতার সঙ্গে শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তিনি দাবি করেন, দেশের আরও কয়েকটি বড় বিশ্ববিদ্যালয়ে কেবল মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়, যা যথাযথ প্রক্রিয়া নয় এবং এতে পক্ষপাতিত্বের সুযোগ থেকে যায়। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সেই সুযোগ নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
সূত্রঃ দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au