‘সমাজ সংস্কার’-এর নামে গ্রামে নোটিশ জারি গানবাজনা বন্ধের ঘোষণা
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার একটি গ্রামে ‘সমাজ সংস্কার’-এর কথা বলে গানবাজনা ও বাদ্যযন্ত্র বাজানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করে নোটিশ জারি করেছিল স্থানীয় একটি জামে…
মেলবোর্ন, ১৩ জানুয়ারি- ইরানে চলমান বিক্ষোভের সঙ্গে সৃষ্ট সহিংসতার মাত্রা আরও বাড়তে পারে এবং সরকারের কঠোর দমন আরও তীব্র আকার নিতে পারে, কারণ দেশজুড়ে ইন্টারনেট বন্ধের পরিস্থিতি পঞ্চম দিনে প্রবেশ করেছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর হিসাব অনুযায়ী, এই বিক্ষোভে ইতিমধ্যেই ৫০০ এর বেশি মানুষ নিহত হয়েছে এবং ১০ হাজার ৬০০ জনেরও বেশি গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সামাজিক মাধ্যমে খুব কম ভিডিও প্রকাশিত হয়েছে, ফলে তথ্য যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়েছে। দেশটির বাইরে থেকে পর্যবেক্ষকরা সতর্ক করেছেন, ইন্টারনেট পুনরায় চালু হলে নিহত এবং আটক ব্যক্তিদের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
কুর্দি মানবাধিকার সংস্থা হেঙ্গাওর সদস্য আরিনা মোরাদি বলেন, “আগেও আমরা দেখেছি, ইন্টারনেট বন্ধ করার কারণ হলো সরকার বিক্ষোভ দমন এবং মানুষের উপর সহিংসতা চালানোর সুযোগকে সর্বাধিক ব্যবহার করতে চায়।”
বিক্ষোভ শুরু হয় ডিসেম্বরের শেষ দিকে। তেহরানের বাজারে রিয়াল-এর মুল্য ডলারের বিপরীতে ইতিহাসিক নিম্ন পর্যায়ে পৌঁছালে ব্যবসায়ীরা দোকান বন্ধ করে দেন। এরপর অর্থনৈতিক সমস্যার কারণে তেহরান থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দ্রুত অন্যান্য শহর ও বিভিন্ন শ্রেণির মানুষকে স্পর্শ করে। কিছু অংশগ্রহণকারী বলেছেন, জনগণ “নিরাশার প্রান্তে” পৌঁছে গেছে।
ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভ দমন করতে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে। কখনও অশ্রুস্রাব গ্যাস, কখনও সরাসরি গুলির ব্যবহার করা হয়েছে। হেঙ্গাওর মোরাদি বলেন, “বিক্ষোভের পরিসর দ্রুত বড় হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৩১টি প্রদেশের শতাধিক শহর ও পৌরসভায় বিক্ষোভ দেখা গেছে।” তিনি আরও বলেন, “শুরুর দিকে বিষয়টি ছিল অর্থনৈতিক কষ্ট ও জীবনযাত্রার সমস্যা নিয়ে, কিন্তু এখন দাবিগুলো আরও বড় এবং গভীর। মানুষ তাদের মৌলিক অধিকার, স্বাধীনতা এবং এমনকি ইসলামী প্রজাতন্ত্রের অবসানের দাবি করছে।”
৮ জানুয়ারি বিক্ষোভ শীর্ষে পৌঁছায় এবং বড় শহরগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। নরওয়ের অসলো ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ইরান হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, অন্তত ৫০টি কুর্দি শহরে সাধারণ ধর্মঘট চলেছে। ওই দিন রাত ১০টার মধ্যে ইরানজুড়ে ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া হয়।
লন্ডনের স্বাধীন সংস্থা নেটব্লকস জানায়, পরের দিন সকাল নাগাদ দেশের ৯৯ শতাংশ ইন্টারনেট অচল ছিল। সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা আলপ টোকার বলেন, “এ ধরনের সম্পূর্ণ ব্ল্যাকআউট খুব ব্যয়বহুল এবং এটি সরকারের জন্য চরম ব্যবস্থা।”
ইরান একটি ‘কিল সুইচ’ ব্যবহার করে, যার মাধ্যমে তারা পুরো ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণ করে। চারদিনের ব্ল্যাকআউটেও সাধারণ সংযোগ মাত্র ১ শতাংশে ছিল। অনলাইন মনিটর ক্লাউডফ্লেয়ার রাডারের তথ্য অনুযায়ী, রাতের সময় ইন্টারনেট ট্রাফিক প্রায় শূন্যে নেমে আসে।
ইরান ২০১৯ ও ২০২২ সালে এবং ২০২৫ সালে ইসরাইলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধে এই জাতীয় ব্ল্যাকআউট প্রয়োগ করেছে। নেটব্লকসের টোকার বলেন, “প্রযুক্তি অগ্রসর হচ্ছে। আগে ধাপে ধাপে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হতো, এখন একধাপেই পুরো দেশ অফলাইনে চলে যায়।”
আগের ব্ল্যাকআউটে কিছু মানুষ স্টারলিংক স্যাটেলাইট ব্যবহার করেছিল। ২০২৪ সালের শেষ নাগাদ প্রায় ১০,০০০ থেকে ২০,০০০ স্টারলিংক টার্মিনাল ইরানে কার্যকর ছিল। এবার সরকার স্টারলিংককেও লক্ষ্যবস্তু করেছে। ইন্টারনেট বিশেষজ্ঞ আমির রাশিদি বলেন, “আমি ২০ বছর ধরে ইন্টারনেট অ্যাক্সেস পর্যবেক্ষণ করি, এমন কিছু আগে দেখিনি।”
ইরানী-আমেরিকান মানবাধিকার কর্মী মাজিদ সাদেগহুর বলেন, “সরকার ব্ল্যাকআউট চালাবে যতক্ষণ না বিদ্রোহ থেমে যায় বা মানুষ হত্যার মাধ্যমে দমন করা হয়। এবার বিক্ষোভ অনেক বেশি সংগঠিত এবং সকল বয়স ও সামাজিক স্তরকে অন্তর্ভুক্ত করছে।”
যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সতর্কবার্তা
ইন্টারনেট বন্ধের কারণে বিক্ষোভের প্রকৃত পরিধি জানা কঠিন। সীমান্তের কাছাকাছি কিছু মানুষ প্রতিবেশী দেশ থেকে সংযোগ পেতে পারছে। লন্ডনের নেটব্লকস-এর টোকার বলেন, “তারা জানে না দেশের অন্য অংশে কী হচ্ছে।”
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর শক্তি প্রয়োগ না করার জন্য সতর্ক করেছে। স্থানীয় সময় রবিবার, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘শক্তিশালী বিকল্প’, যার মধ্যে সামরিক হস্তক্ষেপও থাকতে পারে, বিবেচনা করছে। ট্রাম্প বলেন, “সামরিক পদক্ষেপ পরীক্ষা করা হচ্ছে, আমরা কিছু শক্তিশালী বিকল্প দেখছি।”
তবে নোটর ডেম বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য ও প্রোপাগান্ডা বিশেষজ্ঞ এমা ব্রাইন্ট মনে করেন, বিদেশি হস্তক্ষেপ বিপর্যয় সৃষ্টি করতে পারে। তিনি বলেন, “বিদেশি হামলা হলে সরকারের অবকাঠামো ধ্বংস হবে, যা দেশে আরও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করবে। ইন্টারনেট বিচ্ছিন্নতার কারণে বিদ্রোহকে সংগঠিত করা কঠিন হচ্ছে।”
বিশ্লেষকরা বলছেন, বিক্ষোভ সফল করতে হলে ইরানিরা যোগাযোগ ও সংগঠনের বিকল্প পথ খুঁজতে বাধ্য।
সূত্রঃ এবিসি নিউজ
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au