‘সমাজ সংস্কার’-এর নামে গ্রামে নোটিশ জারি গানবাজনা বন্ধের ঘোষণা
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার একটি গ্রামে ‘সমাজ সংস্কার’-এর কথা বলে গানবাজনা ও বাদ্যযন্ত্র বাজানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করে নোটিশ জারি করেছিল স্থানীয় একটি জামে…
মেলবোর্ন ১৪ জানুয়ারি- ইরানে চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলন দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানের ভয়াবহ ও রক্তক্ষয়ী চিত্র তুলে ধরেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। তাঁদের বর্ণনায়, নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি চালানো হয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে মানুষ কেবল স্লোগান দিচ্ছিল আর সেখানেই প্রাণ হারিয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষায়, এটি ছিল একতরফা যুদ্ধ।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে ইরানের বিভিন্ন শহরের প্রত্যক্ষদর্শী, চিকিৎসাকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের এসব বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে। কঠোর দমন-পীড়নের ঝুঁকি সত্ত্বেও যাঁরা কথা বলেছেন, তাঁদের একজন দক্ষিণ ইরানের এক শহরের বাসিন্দা ওমিদ। নিরাপত্তার কারণে তাঁর প্রকৃত নাম প্রকাশ করা হয়নি। তিনি জানান, কয়েক দিন ধরে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলাকালে নিরাপত্তা বাহিনী কালাশনিকভ ধরনের স্বয়ংক্রিয় রাইফেল দিয়ে নিরস্ত্র মানুষের ওপর গুলি চালিয়েছে।
ওমিদের ভাষায়, তিনি নিজের চোখে দেখেছেন বিক্ষোভকারীদের সারিতে সরাসরি গুলি ছোড়া হচ্ছে। যেখানে মানুষ দাঁড়িয়ে ছিল, সেখানেই তারা মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। তাঁর মতে, খালি হাতে একটি বর্বর শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে দাঁড়ানো মানুষদের ওপর এই হামলা ছিল নির্মম ও পরিকল্পিত।
রাজধানী তেহরানের এক তরুণী গত শুক্রবারের পরিস্থিতিকে ‘কেয়ামত’ বা বিচার দিবসের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার বিপুল সংখ্যক মানুষ রাজপথে নেমেছিল, এমনকি শহরের প্রান্তিক এলাকাও জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছিল। কিন্তু শুক্রবার নিরাপত্তা বাহিনী নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ চালায়। তাঁর দাবি, সেই দিন তেহরান কার্যত যুদ্ধক্ষেত্রে রূপ নেয়, তবে সেটি ছিল একতরফা যুদ্ধ, যেখানে একপক্ষে ছিল ভারী অস্ত্রে সজ্জিত বাহিনী, আর অন্যপক্ষে ছিল কেবল স্লোগান দেওয়া মানুষ।
তেহরানের পশ্চিমাঞ্চলের ফারদিস শহরের বাসিন্দারা জানান, ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের অধীন প্যারামিলিটারি বাহিনী বাসিজ ফোর্স হঠাৎ করেই বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলা চালায়। ইউনিফর্ম পরা সদস্যরা মোটরসাইকেলে এসে সরাসরি গুলি ছোড়ে। পাশাপাশি চিহ্নবিহীন গাড়ি থেকে গলিপথে ঢুকে বাসিন্দাদের লক্ষ্য করেও গুলি চালানো হয়, এমনকি যারা বিক্ষোভে অংশ নেয়নি তারাও রেহাই পায়নি।
এক প্রত্যক্ষদর্শীর ভাষায়, প্রায় প্রতিটি গলিতে দুই থেকে তিনজন করে গুলিতে নিহত হয়েছেন। বিবিসি পার্সিয়ানে কথা বলা প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, ইরানের ভেতরের বাস্তবতা বহির্বিশ্বের কল্পনারও বাইরে।
নিহতের সঠিক সংখ্যা এখনও প্রকাশ করেনি ইরান সরকার। তবে মঙ্গলবার এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, নিহতের সংখ্যা প্রায় দুই হাজার হতে পারে। এর মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যও রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। সরকার এই মৃত্যুর জন্য ‘সন্ত্রাসীদের’ দায়ী করছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের ভাষ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন শহরে মসজিদ ও ব্যাংকে আগুন দিয়েছে এবং প্রায় ১০০ নিরাপত্তাকর্মী নিহত হয়েছেন।
অন্যদিকে বিবিসি পার্সিয়ানে পাঠানো ভিডিও ও বর্ণনা এসেছে তেহরান, কারাজ, রাসত, মাশহাদ ও সিরাজসহ বড় শহরগুলো থেকে, যেখানে স্টারলিংক স্যাটেলাইটের মাধ্যমে আংশিকভাবে ইন্টারনেট চালু রয়েছে। ছোট শহরগুলো থেকে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে কম, কারণ সেখানে ইন্টারনেট প্রায় পুরোপুরি বন্ধ।
চিকিৎসক ও নার্সরা জানিয়েছেন, বহু শহরের হাসপাতাল মৃত ও আহত মানুষের ভিড়ে উপচে পড়েছে। গুরুতর আহত অনেকের চিকিৎসা করা সম্ভব হয়নি। আহতদের বড় অংশের মাথা ও চোখে গুলির আঘাত ছিল বলে তাঁরা জানিয়েছেন। কোথাও কোথাও লাশ স্তূপ করে রাখার দৃশ্যও প্রত্যক্ষ করা হয়েছে।
এই সহিংসতার ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ বাড়ছে। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সাম্প্রতিক সহিংসতা ও প্রাণহানিতে স্তম্ভিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন। ইরানে মানবাধিকার পরিস্থিতি বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত মাই সাতো বলেছেন, নিরাপত্তা বাহিনীর প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহারের বিষয়টি গভীর উদ্বেগের।
গত ২৮ ডিসেম্বর তেহরানের কয়েকটি বাজারে অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদে ছোট আকারের বিক্ষোভ থেকে এই আন্দোলনের সূচনা হয়। মূল্যবৃদ্ধি, মুদ্রাস্ফীতি ও রিয়ালের অবমূল্যায়নে ক্ষুব্ধ তরুণ ও সাধারণ মানুষের আন্দোলন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। নির্বাসিত শেষ শাহের ছেলে রেজা পাহলভির প্রতিবাদের আহ্বানের পর আন্দোলন আরও তীব্র হয়। এর পরই সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির কড়া হুঁশিয়ারির সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর দমন-পীড়ন নতুন মাত্রা পায়।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au