‘সমাজ সংস্কার’-এর নামে গ্রামে নোটিশ জারি গানবাজনা বন্ধের ঘোষণা
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার একটি গ্রামে ‘সমাজ সংস্কার’-এর কথা বলে গানবাজনা ও বাদ্যযন্ত্র বাজানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করে নোটিশ জারি করেছিল স্থানীয় একটি জামে…
মেলবোর্ন, ১৫ জানুয়ারি: তেহরানের একটি মর্গ থেকে পাওয়া নতুন ভিডিওগুলো ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে চালানো ভয়াবহ দমন–পীড়নের ভয়ংকর চিত্র সামনে এনেছে। ভিডিওতে দেখা যায় সারি সারি মৃতদেহ, রক্তে ভেজা মেঝে এবং নিখোঁজ স্বজনদের খুঁজতে ছুটে আসা মানুষের ভিড়। ২৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া সরকারবিরোধী আন্দোলনের পর এই ভিডিওগুলো এখন পর্যন্ত পাওয়া সবচেয়ে মর্মান্তিক প্রমাণগুলোর একটি।
BBC Verify ও BBC Persian বিশ্লেষণ করা এই ভিডিওগুলো এতটাই ভয়াবহ যে সেগুলো সরাসরি প্রকাশ করা হয়নি। ফরেনসিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মর্গ কমপ্লেক্সের বিভিন্ন অংশে প্রায় ২০০টির কাছাকাছি মরদেহ রাখা হয়েছে। অনেকের শরীরে স্পষ্ট আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। একজন নিহত কিশোরের বয়স মাত্র ১৬ বছর বলে শনাক্ত হয়েছে।
ইরানের অন্তত ৬৮টি শহর ও জনপদে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে বলে যাচাইকৃত ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে। তবে প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। গত সপ্তাহ থেকে সরকার প্রায় সম্পূর্ণ ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়ায় প্রায় ৯ কোটি ইরানি কার্যত বাইরের দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন।
নিহতের প্রকৃত সংখ্যা এখনও নিশ্চিত নয়। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক Human Rights Activists News Agency (HRANA) জানিয়েছে, নিহতের সংখ্যা ২,৫০০ ছাড়িয়ে গেছে। এর আগে একজন ইরানি কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছিলেন, অন্তত ২,০০০ মানুষ নিহত হয়েছে, তবে তিনি দায় চাপান “সন্ত্রাসীদের” ওপর।
ভিডিওগুলো ১০ জানুয়ারি দক্ষিণ তেহরানের কাহরিজাক ফরেনসিক মেডিক্যাল সেন্টারে ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী ইরানি অ্যাক্টিভিস্ট ও সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার বাহিদ। তিনি বলেন, যিনি ভিডিও করেছেন তিনি প্রায় এক হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ইন্টারনেট সংযোগ খুঁজে বের করেছিলেন এবং পাশের দেশের মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে ভিডিও আপলোড করেন।
ভিডিওতে দেখা যায়, মর্গ কমপ্লেক্সের বিভিন্ন অংশে সারি সারি বডি ব্যাগ রাখা। কোনো কোনো জায়গায় খোলা ব্যাগে মৃতদের মুখ ও ক্ষত স্পষ্ট দেখা যায়। মেঝে ও কাপড়ে রক্তের দাগ ছড়িয়ে আছে। কিছু মরদেহ পুরোপুরি রক্তে ভেজা, কারও পেটে গভীর ক্ষত।
কিছু বডি ব্যাগে নাম, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, জন্ম ও মৃত্যুর তারিখ এমনকি বাবার নামও লেখা আছে। অন্তত দুইজন পুরুষকে ‘অজ্ঞাত’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে নারী ও কিশোরও রয়েছে। একটি বডি ব্যাগে ইরানি ক্যালেন্ডারে জন্মতারিখ লেখা ছিল ১/১/১৩৮৮, যা গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারে ২১ মার্চ ২০০৯। অর্থাৎ ওই কিশোরের বয়স ছিল মাত্র ১৬ বছর।
এক পর্যায়ে ভিডিও ধারণকারী ব্যক্তি একটি ভবনের দিকে ক্যামেরা ঘুরিয়ে বলেন, “ভেতরে আরও অনেক লাশ আছে… এখানে ঢোকা সম্ভব না… এটা নারীদের এলাকা।” ইরানে ধর্মীয় কারণে নারী ও পুরুষের মরদেহ আলাদা রাখা হয়।
ভিডিওতে দেখা যায়, অনেক মানুষ মর্গ প্রাঙ্গণে ঢুকছেন ও বের হচ্ছেন, নিজেদের প্রিয়জনকে খুঁজছেন। কান্না আর আর্তনাদ শোনা যায় বারবার। একজন লোককে শোনা যায় বলতে, “আমাদের সেরা মানুষগুলোকে মেরে ফেলা হয়েছে।”
অ্যাম্বুলেন্স, হিয়ার্স এবং ভ্যান সারি দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। কর্মকর্তারা মরদেহ পরীক্ষা করছেন, নমুনা নিচ্ছেন এবং স্বজনদের সঙ্গে কথা বলছেন। এক দৃশ্যে একটি হিয়ার্সের পেছনে থাকা একটি মরদেহের দিকে ইঙ্গিত করে এক ব্যক্তি একজন নারী কর্মকর্তাকে বলেন, সেটি তার বোন।
BBC Persian–কে দেওয়া প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় বলা হয়েছে, আহত ও নিহতের সংখ্যায় হাসপাতালগুলো এতটাই ভরে গেছে যে অনেক মরদেহ মর্গে পাঠানো হচ্ছে। HRANA জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ২,৪০৩ জন বিক্ষোভকারী, সরকারপন্থী ১৪৭ জন, নয়জন সাধারণ নাগরিক ও ১২ জন শিশু নিহত হয়েছে।
ইরানি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন স্বীকার করেছে, “উল্লেখযোগ্য” সংখ্যক মরদেহ মর্গে আনা হয়েছে। তবে তারা দাবি করেছে, নিহতদের বেশিরভাগই নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য অথবা এমন মানুষ যারা বিক্ষোভে জড়িত ছিলেন না।
ইরানে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর কাজ করার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকায় BBC সহ বিশ্বমাধ্যমগুলোকে মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাওয়া ভিডিও যাচাই করেই খবর দিতে হচ্ছে।
শায়ান সারদারিজাদেহ, মার্লিন থমাস (BBC Verify) এবং গনচেহ হাবিবিয়াজাদ (BBC Persian)
অতিরিক্ত প্রতিবেদন: রোজা আসাদি ও রিচার্ড আরভিন–ব্রাউন (BBC)
BBC প্রতিবেদন অবলম্বনে ওটিএন্ বাংলা
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au