বাংলাদেশে দায়মুক্তি পাচ্ছেন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকারীরা। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১৫ জানুয়ারি- বাংলাদেশে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের দায়মুক্তি দিতে একটি অধ্যাদেশের অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ। বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ অধ্যাদেশ’ অনুমোদিত হয়। পরে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানান, আগামী পাঁচ থেকে সাত দিনের মধ্যে এ অধ্যাদেশের গেজেট প্রকাশ করা হবে।
আইন উপদেষ্টা বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজনৈতিক প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে সংঘটিত কর্মকাণ্ডের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায়মুক্তি দেওয়া হচ্ছে। তার ভাষায়, রাজনৈতিক প্রতিরোধ বলতে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন ঘটিয়ে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে যে কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে, সেগুলোকেই বোঝানো হয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দায়দায়িত্ব আরোপ করা হবে না।
তিনি আরও জানান, জুলাই ও আগস্ট মাসে সংঘটিত এমন কর্মকাণ্ডের কারণে যদি ইতোমধ্যে কোনো জুলাই অভ্যুত্থানকারীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা হয়ে থাকে, তাহলে সরকার সেগুলো প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেবে। পাশাপাশি, এ সময়ের রাজনৈতিক প্রতিরোধমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য ভবিষ্যতে নতুন করে কোনো মামলা দায়ের করা যাবে না বলেও স্পষ্ট করেন তিনি।
তবে এই দায়মুক্তির আওতায় সব ধরনের অপরাধ পড়বে না বলে জানান আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, রাজনৈতিক প্রতিরোধের নামে যদি ব্যক্তিগত লোভ, প্রতিশোধ বা সংকীর্ণ স্বার্থে কোনো হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়ে থাকে, সে ক্ষেত্রে এই অধ্যাদেশ প্রযোজ্য হবে না। এমন অপরাধের জন্য দায়ী ব্যক্তিরা ফৌজদারি মামলার মুখোমুখি হবেন এবং কোনো ধরনের আইনি ছাড় পাবেন না।
আইন উপদেষ্টা বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যদি গণতান্ত্রিক আন্দোলনের কোনো সম্পর্ক না থাকে এবং তা একান্তই ব্যক্তিগত বা স্বার্থসংশ্লিষ্ট কারণে ঘটে থাকে, তাহলে এই আইনের মাধ্যমে কাউকে দায়মুক্তি দেওয়া হবে না। এই অধ্যাদেশ মূলত ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য সমন্বিতভাবে পরিচালিত কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের জন্যই প্রণয়ন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, সরকার আগেই ঘোষণা দিয়েছিল যে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকারীদের দায়মুক্তি দেওয়া হবে। সে প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতেই এই অধ্যাদেশ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
কোন হত্যাকাণ্ড রাজনৈতিক প্রতিরোধের অংশ আর কোনটি ব্যক্তিগত স্বার্থে সংঘটিত হয়েছে, তা নির্ধারণের দায়িত্ব জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে দেওয়া হয়েছে বলে জানান আইন উপদেষ্টা। তিনি বলেন, কোনো ভুক্তভোগীর পরিবার যদি মনে করে যে তাদের স্বজনের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের আন্দোলনের কোনো সম্পর্ক নেই, তাহলে তারা জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের কাছে অভিযোগ করতে পারবেন। কমিশন তদন্ত করে প্রতিবেদন প্রস্তুত করবে এবং সেই প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হবে। এ ক্ষেত্রে মানবাধিকার কমিশনের প্রতিবেদন পুলিশের প্রতিবেদনের সমান গুরুত্ব পাবে।
তিনি আরও বলেন, তদন্তে যদি দেখা যায় হত্যাকাণ্ডটি রাজনৈতিক প্রতিরোধের প্রেক্ষাপটে ঘটেছে, তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে দায়মুক্তি দেওয়া হবে। আর যদি ব্যক্তিগত বা সংকীর্ণ স্বার্থে অপরাধ সংঘটিত হয়ে থাকে, তাহলে কাউকে রেহাই দেওয়া হবে না।
সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিক জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বর্তমানে কার্যকর না থাকার বিষয়টি তুলে ধরলে আইন উপদেষ্টা জানান, আগামী ৩১ জানুয়ারির মধ্যে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন গঠন করা হবে।