‘সমাজ সংস্কার’-এর নামে গ্রামে নোটিশ জারি গানবাজনা বন্ধের ঘোষণা
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার একটি গ্রামে ‘সমাজ সংস্কার’-এর কথা বলে গানবাজনা ও বাদ্যযন্ত্র বাজানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করে নোটিশ জারি করেছিল স্থানীয় একটি জামে…
মেলবোর্ন, ১৬ জানুয়ারি- ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা বেড়ে প্রায় সাড়ে তিন হাজারে পৌঁছেছে। নরওয়েভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ইরান হিউম্যান রাইটস (আইএইচআর) বুধবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, এ পর্যন্ত অন্তত ৩ হাজার ৪২৮ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে শত শত বিক্ষোভকারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
আইএইচআরের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৮ ডিসেম্বর রাজধানী তেহরান থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ এখন ইরানের ৩১টি প্রদেশের অন্তত ১৯০টি শহরে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে দেশজুড়ে ইন্টারনেট সংযোগ প্রায় সম্পূর্ণ বন্ধ থাকায় হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা নির্ভরযোগ্যভাবে যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ কারণে নিহতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।
মানবাধিকার সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, শুধু ৮ থেকে ১২ জানুয়ারির মধ্যেই অন্তত ৩ হাজার ৩৭৯ জন বিক্ষোভকারীর মৃত্যুর তথ্য নথিভুক্ত করা হয়েছে। ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সূত্রের বরাত দিয়ে আইএইচআর জানিয়েছে, নিহতদের বড় একটি অংশের বয়স ৩০ বছরের নিচে। এদের মধ্যে অন্তত ১৫ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
এদিকে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজসহ কয়েকটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম দাবি করেছে, বিক্ষোভে নিহত ব্যক্তির প্রকৃত সংখ্যা ২০ হাজার পর্যন্ত হতে পারে। তবে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ থাকায় এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় উঠে এসেছে ভয়াবহ দমন–পীড়নের চিত্র। তারা জানিয়েছেন, ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের ওপর মেশিনগান ব্যবহার করছে। রাজপথে আহত অবস্থায় পড়ে থাকা লোকজনের ওপর কাছ থেকে গুলি চালিয়ে তাদের মৃত্যু নিশ্চিত করার ঘটনাও ঘটেছে। উত্তরাঞ্চলীয় শহর রাশতের এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, একদল তরুণ বিক্ষোভকারীকে ঘিরে ফেলার পর তারা আত্মসমর্পণের ইঙ্গিতে হাত তুলেছিল। এরপরও নিরাপত্তা বাহিনী তাদের গুলি করে হত্যা করে।
কারাজ শহরে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের মরদেহের সঙ্গে সেলফি তোলার অভিযোগও পাওয়া গেছে। পাশাপাশি কুর্দি–অধ্যুষিত অঞ্চলে অঘোষিত সামরিক আইন জারি করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ধরপাকড় চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো।
আইএইচআরের পরিচালক মাহমুদ আমিরি-মোগাদ্দাম বলেন, ক্ষমতা ধরে রাখতে ১৯৮০-এর দশকে ইরানের শাসকগোষ্ঠী যে ধরনের অপরাধ করেছিল, বর্তমানে আবারও সেই একই পথ অনুসরণ করা হচ্ছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যদি এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে সামনে আরও হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটতে পারে।
ইন্টারনেট পর্যবেক্ষণ সংস্থা নেটব্লকস জানিয়েছে, ৮ জানুয়ারি থেকে ইরানে প্রায় ৯৯ শতাংশ ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রয়েছে। এর ফলে দেশটি কার্যত বহির্বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং দমন–পীড়নের প্রকৃত চিত্র জানা কঠিন হয়ে উঠেছে।
মানবাধিকার সংস্থাগুলোর হিসাব অনুযায়ী, বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ১০ হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরিস্থিতি ক্রমেই আরও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকেরা।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au