আরব আমিরাতের বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। শনিবার দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)…
মেলবোর্ন, ১৬ জানুয়ারি: বন্ডাই বিচ এলাকায় সন্ত্রাসী হামলার পর অস্ট্রেলিয়ায় ইহুদিবিদ্বেষ, ঘৃণামূলক বক্তব্য ও উগ্রবাদ মোকাবিলায় নতুন আইন প্রস্তাব করেছে লেবার সরকার। প্রস্তাবিত এই ব্যবস্থা একটি বৃহত্তর বিলের অংশ, যেখানে অস্ত্র সংস্কার এবং ঘৃণামূলক সংগঠন তালিকাভুক্ত করার বিধানও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বিলটি আগামী সপ্তাহে ক্যানবেরায় সংসদে বিতর্কের জন্য তোলা হবে।
প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ এই আইন বিবেচনার জন্য সংসদ পুনরায় আহ্বান করেছেন। প্রস্তাবিত আইনে প্রথমবারের মতো ফেডারেল পর্যায়ে ‘হিংসা উসকে দেওয়া’ নয়, বরং ‘ঘৃণা প্রচার’-কেই অপরাধ হিসেবে গণ্য করার সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে আইনটির ব্যাপ্তি, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর সম্ভাব্য প্রভাব এবং দ্রুত পাস করানোর সময়সীমা নিয়ে সমালোচনা ও আপত্তি উঠেছে।
নতুন প্রস্তাবিত ফেডারেল আইনে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে বর্ণগত ঘৃণা ছড়ানো বা উসকে দেওয়া অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে—যদি সেই আচরণ একজন ‘ব্যক্তি’র কাছে ভয়ভীতি, হয়রানি বা সহিংসতার আশঙ্কা সৃষ্টি করে। অর্থাৎ, বক্তব্য বা আচরণটি বাস্তবে কাউকে আতঙ্কিত করেছে কি না, সেটিই মুখ্য নয়; বরং সাধারণ বোধসম্পন্ন একজন মানুষের কাছে তা ভীতিকর বলে মনে হলেই আইন প্রযোজ্য হবে।
আইনে একটি ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে। যদি কোনো বক্তব্য বা লেখা কেবল ধর্মীয় শিক্ষা বা আলোচনার উদ্দেশ্যে ধর্মগ্রন্থ থেকে উদ্ধৃত করা হয়, তাহলে সেটিকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অপরাধ হিসেবে ধরা নাও হতে পারে। তবে এই ব্যতিক্রমের পরিসর সংকীর্ণ, এবং অপব্যবহারের সুযোগ সীমিত রাখার কথা বলা হয়েছে।
এই আইন শুধু কথাবার্তায় সীমাবদ্ধ নয়; বরং প্রতীক, অঙ্গভঙ্গি, জনসমক্ষে প্রদর্শিত চিহ্ন এবং অনলাইন যোগাযোগসহ সব ধরনের প্রকাশ্য আচরণের ওপরই প্রযোজ্য হবে—যদি সেগুলোর উদ্দেশ্য হয় কারও বর্ণ, গায়ের রং, জাতীয় বা জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে ঘৃণা উসকে দেওয়া।
অপরাধ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি গুরুতর হলে—যেমন কোনো ধর্মীয় নেতা বা প্রচারক এতে জড়িত থাকলে—শাস্তির মাত্রা আরও বাড়তে পারে। পাশাপাশি শিশুদের উগ্রবাদে প্রলুব্ধ বা উসকে দেওয়ার চেষ্টা করলে সেটিকে আলাদা করে ‘গুরুতর (অ্যাগ্রাভেটেড) অপরাধ’ হিসেবে গণ্য করার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
১৪ ডিসেম্বরের বন্ডাই সন্ত্রাসী হামলার পর ইহুদিবিদ্বেষ দমনে আরও কঠোর আইন প্রণয়নের দাবি ওঠে। অস্ট্রেলীয় ইহুদি সংগঠনসহ বিভিন্ন মহল জাতিগত বিদ্বেষের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিতে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে।
এর আগে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে হেট স্পিচ আইন হালনাগাদ করে নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগ বা সহিংসতার পক্ষে কথা বলাকে অপরাধ করা হয়। তবে তখনও ‘ঘৃণা প্রচার’ সরাসরি নিষিদ্ধ ছিল না। স্বাধীন এমপি Allegra Spender ও বিভিন্ন ইহুদি সংগঠন তখন থেকেই এই ঘাটতি পূরণের আহ্বান জানিয়ে আসছিলেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী টনি বার্ক বলেন, কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠী বিদ্যমান আইনের সীমার ঠিক নিচে থেকে ঘৃণা ছড়ালেও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছিল না।
এই আইন নিয়ে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সামাজিক নিরাপত্তার মধ্যে ভারসাম্য। কিছু কমিউনিটি নেতা আশঙ্কা করছেন, আইনটি ইসরায়েল রাষ্ট্রের সমালোচনার সঙ্গে ইহুদিবিদ্বেষকে এক করে দেখার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। মুসলিম নেতারা অভিযোগ করেছেন, তাদের সঙ্গে যথাযথ পরামর্শ করা হয়নি।
লেবানিজ মুসলিম অ্যাসোসিয়েশনের নেতা গামেল খেইর বলেন, আইনটি বর্ণভিত্তিক বিদ্বেষের ওপর অতিরিক্ত জোর দিয়েছে, ধর্মভিত্তিক বিদ্বেষকে উপেক্ষা করেছে এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সীমিত করছে।
অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেশন অব ইসলামিক কাউন্সিলস দ্রুত আইন পাস করানোর প্রক্রিয়াকে “গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণের নীতির পরিপন্থী” বলে আখ্যা দিয়েছে এবং ‘নির্বাচিত প্রয়োগ’-এর ঝুঁকির কথা তুলেছে।
অন্যদিকে গ্রিনস, ইকুয়ালিটি অস্ট্রেলিয়া ও এমপি স্পেন্ডার আইনটির আওতা বাড়িয়ে যৌনতা, ধর্ম ও জেন্ডার পরিচয়ভিত্তিক বিদ্বেষ অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানাচ্ছেন।
ওয়ান নেশন দলের নেত্রী পলিন হ্যানসনের দাবি , এই আইন কার্যকর হলে কেউ যদি বলেন “অস্ট্রেলিয়া পৃথিবীর সেরা দেশ”, তাতেও পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। হ্যানসনের ভাষ্য,
“এই আইন অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে। বোরকা নিষিদ্ধের দাবি জানানোও অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে। এমনকি অভিবাসন নীতির সমালোচনাও অপরাধে পরিণত হতে পারে, যদি তা কাউকে ভীত বা হুমকির মুখে ফেলার মতো বলে বিবেচিত হয়।”
এদিকে প্রধানমন্ত্রী আলবানিজ বলেছেন, বিরোধী জোটের অবস্থান পরিবর্তনে তিনি ‘বিস্মিত’। আগে ঘৃণাবিরোধী আইন কঠোর করার দাবি জানালেও এখন জোটের একাংশ আইনটিকে ‘তড়িঘড়ি ও অসম্পূর্ণ’ বলে সমালোচনা করছে। এর ফলে সিনেটে আইন পাসে লেবারকে গ্রিনস দলের ওপর নির্ভর করতে হতে পারে।
আরএমআইটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ড. নিকোল শ্যাকলেটন বলেন, আইনটি যেন ঘৃণা ও উগ্রবাদ ছড়ানো ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োগ হয়—সেই সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে নয়, যাদের রক্ষার কথা বলা হচ্ছে।
সংবিধান বিশেষজ্ঞ অ্যান টুমি সতর্ক করে বলেন, বর্তমান খসড়া ভবিষ্যতে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে ব্যবহার হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
বন্ডাই হামলার পর আইনগত প্রতিক্রিয়া নিয়ে গঠিত সংসদীয় তদন্ত কমিটি শুক্রবার সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেবে। সোমবার সংসদে ফের আলোচনা শুরু হবে। বিরোধীদলীয় নেতা সুসান লেই ইঙ্গিত দিয়েছেন, কোয়ালিশন এই বিলের বিপক্ষে ভোট দিতে পারে। সে ক্ষেত্রে সরকারকে গ্রিনসের সমর্থন নিয়ে সিনেটে বিল পাস করাতে হবে—সংসদ মুলতবি হওয়ার আগেই।
এই আইন নিয়ে বিতর্ক তাই এখনো তুঙ্গে—নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে, নাকি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত হবে—এই প্রশ্নই মূলত অস্ট্রেলিয়ার রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au