চাঁদা না পেয়ে কক্সবাজারে গণেশ পালকে কুপিয়ে হত্যা
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- কক্সবাজার শহরে বাড়ি নির্মাণের চাঁদা না দেওয়ার জেরে গণেশ পাল (২৯) নামে এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৭ মার্চ)…
মেলবোর্ন, ১৬ জানুয়ারি: বাংলাদেশে গত ৪৫ দিনে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্তত ১৫ জন সদস্য নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন Rights & Risks Analysis Group (RRAG)। সংগঠনটি সতর্ক করে বলেছে, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে এই হত্যাকাণ্ডগুলো ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের জন্য ক্রমাবনত নিরাপত্তা পরিস্থিতিরই প্রতিফলন।
১৫ জানুয়ারি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে RRAG জানায়, হত্যাকাণ্ডগুলো ঘটেছে ২০২৫ সালের ১ ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ১৫ জানুয়ারির মধ্যে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সবার জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক ও নিরাপদ নির্বাচনী অংশগ্রহণ আদৌ সম্ভব কি না—তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে সংগঠনটি। RRAG-এর অভিযোগ, নিহতরা সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্যদের হামলার শিকার হয়েছেন।
RRAG-এর পরিচালক সুহাস চাকমার দেওয়া তথ্যে নিহতদের মধ্যে রয়েছেন—
সমীর দাস ও প্রলয় চাকি — ১১ জানুয়ারি ২০২৬
জয় মহাপাত্র — ১০ জানুয়ারি ২০২৬
মিঠুন সরকার ও শরত মণি চক্রবর্তী — ৬ জানুয়ারি ২০২৬
রানা প্রতাপ বৈরাগী — ৫ জানুয়ারি ২০২৬
খোকন চন্দ্র দাস — ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫
বজেন্দ্র বিশ্বাস — ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫
অমৃত মণ্ডল — ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫
দীপু চন্দ্র দাস — ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫
শান্ত চন্দ্র দাস (১৮ বছর) — ১২ ডিসেম্বর ২০২৫
যোগেশ চন্দ্র রায় ও সুবর্ণা রায় — ৭ ডিসেম্বর ২০২৫
প্রান্তোষ কর্মকার ও উৎপল সরকার — ২ ডিসেম্বর ২০২৫
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিহতদের বয়সসীমা কিশোর থেকে শুরু করে বয়স্ক মানুষ পর্যন্ত বিস্তৃত। কয়েকটি ঘটনায় চরম নৃশংস পদ্ধতি—যেমন গলা কেটে হত্যা—ব্যবহারের অভিযোগ করা হয়েছে, যাকে RRAG ‘তালেবান-ধাঁচের’ হত্যাকাণ্ড বলে বর্ণনা করেছে। এই ধরনের ঘটনার শিকারদের মধ্যে রানা প্রতাপ বৈরাগী, শান্ত চন্দ্র দাস, যোগেশ চন্দ্র রায় এবং বয়স্ক ভুক্তভোগী সুবর্ণা রায়ের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
RRAG বলছে, বহু হত্যাকাণ্ডই ছিল পরিকল্পিত এবং আর্থিক স্বার্থ জড়িত। উদাহরণ হিসেবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সমীর দাস ও শান্ত চন্দ্র দাসের মালিকানাধীন অটো ও রিকশা দখলের উদ্দেশ্যে তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয়। সংগঠনটির দাবি, নিহতরা অধিকাংশ ক্ষেত্রে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্যদের হামলার শিকার হয়েছেন।
সুহাস চাকমা বলেন,
“এই হত্যাকাণ্ডগুলো প্রতিদিনের সহিংসতার কেবলমাত্র দৃশ্যমান অংশ। হিন্দু ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে যে নিত্যদিনের নির্যাতন চলছে, তার বড় অংশই মূলধারার গণমাধ্যমে উঠে আসে না।”
প্রতিবেদনে মুহাম্মদ ইউনূস–এর নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে। RRAG-এর অভিযোগ, তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই সরকার এসব ঘটনার ধর্মীয় চরিত্র অস্বীকার করে সেগুলোকে ভারতের পক্ষ থেকে ছড়ানো ‘ভুল তথ্য প্রচার’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।

সংখ্যালঘু হত্যাকাণ্ডের নিন্দায় শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ। ছবি: সংগৃহীত
এ প্রসঙ্গে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে ড. ইউনুস জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনার ভলকার টার্ক–এর কাছে নির্বাচন-পূর্ব সময়ে তথাকথিত ডিসইনফরমেশন মোকাবিলায় কারিগরি সহায়তা চেয়েছেন। RRAG-এর মতে, এই অবস্থান ভবিষ্যতে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সহিংসতাকে ‘রাজনৈতিক সহিংসতা’ হিসেবে উপস্থাপনের পথ তৈরি করতে পারে—যেমনটি ২০২৪ সালের আগস্টে হিন্দুদের ওপর হামলার ক্ষেত্রে করা হয়েছিল।
RRAG সতর্ক করে বলেছে, ২২ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হলে সংখ্যালঘুদের—বিশেষ করে হিন্দুদের—ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে অভূতপূর্ব সহিংসতার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। সংগঠনটির মতে, ধর্মীয় উদ্দেশ্য স্বীকার না করা এবং কার্যকর সুরক্ষা ব্যবস্থা না নিলে সংখ্যালঘুদের পক্ষে অর্থবহভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়া সম্ভব হবে না।
এই প্রেক্ষাপটে RRAG ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ আন্তর্জাতিক নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, যাতে তারা অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে সংখ্যালঘু সুরক্ষার স্পষ্ট নিশ্চয়তা দাবি করে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ১১ জানুয়ারি ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রধান পর্যবেক্ষক ইভারস ইজাবস জাতিগত, ধর্মীয় ও আঞ্চলিক সংখ্যালঘুদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের আহ্বান জানিয়েছিলেন।
RRAG নির্বাচনী প্রক্রিয়ার পুরো সময়জুড়ে আদিবাসী, জাতিগত সম্প্রদায় এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য আন্তর্জাতিক মহলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
Source: The Tribune India
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au