ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এনপিএর ১০১ সদস্যবিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কাউন্সিল ঘোষণা করা হয়। ছবি: সমকাল
মেলবোর্ন, ১৭ জানুয়ারি- গণতন্ত্র, সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং প্রাণ ও পরিবেশ সুরক্ষার অঙ্গীকার নিয়ে নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ‘নেটওয়ার্ক ফর পিপলস অ্যাকশন (এনপিএ)’ আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে। শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্ল্যাটফর্মটির ১০১ সদস্যবিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কাউন্সিল ঘোষণা করা হয়।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এনপিএ কোনো প্রচলিত রাজনৈতিক দল নয়, বরং একটি নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম। এর লক্ষ্য রাষ্ট্র ও নাগরিকের সম্পর্কের মৌলিক রূপান্তর ঘটানো এবং একটি মানবিক, গণতান্ত্রিক ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গড়ে তোলা।
কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ফেরদৌস আরা রুমী, নাজিফা জান্নাত ও তুহিন খান। তারা নির্দিষ্ট সময় পরপর পালাক্রমে এই দায়িত্ব পালন করবেন। কাউন্সিলের সদস্য মীর হুযাইফা আল মামদূহ আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন। সদস্যদের নাম ঘোষণার পর তিন মুখপাত্র যৌথভাবে ঘোষণাপত্র পাঠ করেন।
ঘোষণাপত্রে বলা হয়, দেশের দীর্ঘ রাজনৈতিক সংকট, গণতান্ত্রিক ঘাটতি ও সামাজিক বৈষম্যের বাস্তবতা থেকেই এই প্ল্যাটফর্মের জন্ম। এনপিএ সর্বস্তরে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, সাম্য ও সমঅধিকার নিশ্চিতকরণ, সংবিধান সংস্কার, মৌলিক অধিকার সুরক্ষা, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কাঠামোগত সংস্কার এবং ন্যায়ভিত্তিক অর্থনৈতিক রূপান্তরের লক্ষ্যে কাজ করবে।
স্বাগত বক্তব্যে কাউন্সিল সদস্য অনিক রায় বলেন, এনপিএ রাজনীতিকে কেবল ক্ষমতার লড়াই বা স্লোগানের রাজনীতিতে সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না। আবার কল্যাণের নামে পৃষ্ঠপোষকতামূলক রাজনীতিও তাদের লক্ষ্য নয়। তিনি বলেন, “আমরা চাই রাষ্ট্র ও নাগরিকের সম্পর্কের একটি মৌলিক পরিবর্তন। আমরা চাই একটি মানবিক রাষ্ট্র, শক্তিশালী গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান এবং সম্পদের ন্যায্য বণ্টনের মাধ্যমে গড়ে ওঠা অর্থনৈতিক ব্যবস্থা।”
তিনি আরও বলেন, এনপিএ সামাজিক গণতন্ত্রের ধারণায় বিশ্বাসী। পুঁজির গণতান্ত্রিক বিকাশ, সামাজিক নিরাপত্তা এবং ন্যায়ভিত্তিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার মধ্য দিয়েই বাংলাদেশকে সত্যিকারের গণতান্ত্রিক ও মানবিক রাষ্ট্রে রূপান্তর করা সম্ভব বলে তারা মনে করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তারা বলেন, এনপিএ ভবিষ্যতে দেশব্যাপী সংগঠিত হয়ে জনগণের অধিকার, মর্যাদা ও ন্যায়ের প্রশ্নে সক্রিয় ভূমিকা রাখবে। রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে নতুন ধারার সূচনা করাই এই প্ল্যাটফর্মের মূল উদ্দেশ্য।