ডিআইজি শ্যামল কুমার মুখার্জীকে চাকরি থেকে বরখাস্ত, এরপর কে?
ওটিএন বাংলা রিপোর্ট : বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা ও পলায়নের অভিযোগে টুরিস্ট পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি শ্যামল কুমার মুখার্জীকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে সরকার।…
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল নতুন করে সামরিক অভিযান চালালে তার জবাব দেশের সীমান্তের বাইরেও দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি। একই সঙ্গে যেকোনো ধরনের হুমকির তাৎক্ষণিক ও কার্যকর জবাব দিতে সামরিক বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তুর তালিকা আরও বিস্তৃত ও হালনাগাদ করার নির্দেশও দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) ইরানের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠকে এসব নির্দেশ দেন মোজতবা খামেনি। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ইরান সরকারের এক বিবৃতিতে বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। এতে বলা হয়েছে, সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কমান্ডারদের সঙ্গে আলোচনায় মোজতবা খামেনি যেকোনো পর্যায়ের বা ধরনের হুমকির তাৎক্ষণিক ও কার্যকর জবাব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমারেখার মধ্যে প্রতিক্রিয়া সীমাবদ্ধ রাখার প্রয়োজন নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বৈঠকে সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তুর তালিকা হালনাগাদ করার নির্দেশ দেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা। তালিকায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দৃশ্যমান এবং অদৃশ্য সব ধরনের সম্পদ অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলেন তিনি। তাঁর এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতের ক্ষেত্রে ইরানের পাল্টা পদক্ষেপের পরিধি আরও বিস্তৃত হতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ আলি আবদোল্লাহি, সেনাপ্রধান আমির হাতামি এবং ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোরের (আইআরজিসি) কমান্ডার আহমাদ ওয়াহিদি। সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এটিই ছিল মোজতবা খামেনির প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর পর ইরানের বিষয়ে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছেন ট্রাম্প। গত সপ্তাহান্তে তিনি ইরানকে ‘একেবারে শেষ করে দেওয়ার’ বিষয়টি ভাবছেন বলেও মন্তব্য করেন।
অন্যদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানের সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য একটি ‘ঐতিহাসিক’ সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন। তবে গত ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে কোনো দল বা জোট এককভাবে পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। ফলে দেশটিতে এখনো নতুন সরকার গঠন করা সম্ভব হয়নি।
এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে সংঘাত শুরু হয়। এর জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সম্পদে পাল্টা হামলা চালায়। বর্তমানে দুই পক্ষের সরাসরি হামলা বন্ধ থাকলেও নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক তৎপরতাও অব্যাহত রয়েছে।
কূটনৈতিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে শুক্রবার কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা তেহরানে পৌঁছেছেন। এ ছাড়া মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান মহসেন রেজায়ির কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, বর্তমানে মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের কোনো পরিকল্পনা নেই।
এদিকে ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মোহাম্মদ আকারামিনিয়া সতর্ক করে বলেছেন, নতুন করে শত্রুতা শুরু হলে সংঘাতের পরিধি আরও বিস্তৃত হতে পারে। তাঁর ভাষ্য, যুদ্ধ শুরু হলে তা আরও বড় ভৌগোলিক এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সামরিক প্রস্তুতি ও পাল্টা জবাবের হুঁশিয়ারির পাশাপাশি ইরানকে ঘিরে কূটনৈতিক যোগাযোগও চলছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্ভাব্য হামলার জবাবে সীমান্তের বাইরেও পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে মোজতবা খামেনির নির্দেশ মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au