‘আর মাত্র ৫ বছর বাঁচব’, কী হয়েছে তানিয়া বৃষ্টির?
ওটিএন বাংলা রিপোর্ট : ‘আর মাত্র সাড়ে চার থেকে পাঁচ বছর বাঁচব’—চিকিৎসকের মুখে এমন কথা শুনতে হয়েছিল ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী তানিয়া বৃষ্টিকে। ব্রেন টিউমার…
পাকিস্তানে দুই মানবাধিকার আইনজীবী ইমান মাজারি-হাজির ও হাদি আলী চাটাকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়ার ঘটনায় দেশটির বিচারব্যবস্থার তীব্র সমালোচনা করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সংস্থাটির অভিযোগ, ভিন্নমত দমন এবং মানবাধিকারকর্মীদের কণ্ঠরোধ করতে পাকিস্তানে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অপব্যবহার করা হচ্ছে।
সম্প্রতি পাকিস্তানের একটি সন্ত্রাসবিরোধী আদালত এই দুই আইনজীবীকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন। এ রায়ের প্রতিক্রিয়ায় অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের আঞ্চলিক মানবাধিকারবিষয়ক জ্যেষ্ঠ পরিচালক ইয়াসমিন আহমেদ বলেন, এই দণ্ডাদেশ পাকিস্তানের বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে।
তিনি অভিযোগ করেন, মানবাধিকারকর্মীদের কণ্ঠরোধ এবং ভিন্নমত দমনের উদ্দেশ্যে সন্ত্রাসবিরোধী আইন ব্যবহার করা হচ্ছে। বিচার চলাকালে আইনজীবীদের প্রথমে আদালতে সশরীরে উপস্থিত হতে বাধা দেওয়া হয়। পরে কারাগার চত্বরে আদালতের কার্যক্রম স্থানান্তর করা হলে তাঁদের খাঁচার মতো একটি কাঠামোর পেছনে রাখা হয়েছিল। শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার চর্চা এবং মানবাধিকারের পক্ষে কথা বলার কারণেই তাঁদের এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ইমান মাজারি-হাজির ও হাদি আলী চাটা পাকিস্তানে বলপূর্বক গুম, রাষ্ট্রীয়ভাবে অন্যায় বিচারের অভিযোগ এবং ধর্ম অবমাননা আইনের শিকার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর পক্ষে কাজ করার জন্য পরিচিত। গত ২৪ জানুয়ারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সামরিক বাহিনীর সমালোচনা এবং বেলুচ ও পশতুন অধিকারকর্মীদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে তাঁদের বিরুদ্ধে ইলেকট্রনিক অপরাধ প্রতিরোধ আইনে মামলা করা হয়। ওই মামলায় তাঁদের ১০ থেকে ১৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।
তবে গত ১৭ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট তাঁদের সাজা স্থগিত করে জামিন মঞ্জুর করেন। কিন্তু একই দিন পৃথক সন্ত্রাসবিরোধী অভিযোগে তাঁদের আবার গ্রেপ্তার দেখানো হয়। নতুন মামলাগুলোর সঙ্গে ২০২৫ সালের মার্চে বেলুচ আন্দোলনকারীদের বিক্ষোভে সংঘটিত বিশৃঙ্খলা এবং ২০২৪ সালের একটি ক্রিকেট ম্যাচে নিরাপত্তাবেষ্টনী সরিয়ে ফেলার মতো পুরোনো ঘটনার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।
পাকিস্তানের বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে দেশজুড়ে উদ্বেগের মধ্যেই এই রায় দেওয়া হলো। বিশেষ করে দেশটির ২৬তম ও ২৭তম সাংবিধানিক সংশোধনীর পর বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও কার্যক্রম নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মতে, মানবাধিকারকর্মীদের শান্তিপূর্ণ কর্মকাণ্ডের কারণে তাঁদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের প্রয়োগ মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও মানবাধিকারের জন্য উদ্বেগজনক। সংস্থাটি এই ঘটনাকে পাকিস্তানে ভিন্নমত প্রকাশের অধিকার এবং বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতার ওপর চাপের একটি উদাহরণ হিসেবে দেখছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au