দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইয়োল। ফাইল ছবি: এএফপি
মেলবোর্ন, ১৭ জানুয়ারি- দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইয়োলকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির আদালত। বিচার প্রক্রিয়ায় বাধা দেওয়া এবং জরুরি সামরিক আইন ঘোষণাসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগে তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। শুক্রবার সিউলের সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট আদালতে এই রায় ঘোষণা করা হয়।
রায় ঘোষণার সময় বিচারক বেক ডে হিউন বলেন, ইউন সুক ইয়োল রাষ্ট্রপ্রধানের ক্ষমতা ব্যবহার করে ইচ্ছাকৃতভাবে বিচারিক প্রক্রিয়া ব্যাহত করেছেন। তাঁকে গ্রেপ্তারের সময় তদন্তকারী কর্মকর্তাদের কাজে বাধা দেওয়া হয়, যা আইনের শাসনের প্রতি সরাসরি অবজ্ঞার শামিল।
আদালত আরও উল্লেখ করেন, প্রেসিডেন্ট থাকার সময় ইউন সুক ইয়োল ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। তিনি প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা বাহিনীকে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করেন এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষায় তাদের রক্ষীর ভূমিকায় নিয়োজিত করেন। বিচারকের মতে, এসব কর্মকাণ্ড একটি সাংবিধানিক রাষ্ট্রে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ইউন সুক ইয়োল আকস্মিকভাবে বেসামরিক শাসনব্যবস্থা স্থগিতের ঘোষণা দেন। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা তীব্র আকার ধারণ করে। পরবর্তীতে তিনি ক্ষমতাচ্যুত হন এবং তাঁর বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দায়ের করা হয়।
রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক বলেন, প্রেসিডেন্ট হিসেবে সংবিধান রক্ষা এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করা ছিল ইউন সুক ইয়োলের সর্বোচ্চ দায়িত্ব। কিন্তু তাঁর আচরণ সংবিধান ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি অবজ্ঞারই প্রতিফলন ঘটিয়েছে।
রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার জন্য ইউন সুক ইয়োল সাত দিনের সময় পাবেন। রায় ঘোষণার পর আদালতের বাইরে উপস্থিত তাঁর সমর্থকেরা কয়েক মিনিট নীরব থাকেন। পরে তারা ‘ইউন এগেইন’ স্লোগান দিতে শুরু করেন।
এদিকে ইউন সুক ইয়োলের আইনজীবীরা এই রায়ের সমালোচনা করে বলেছেন, এতে প্রেসিডেন্টের সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগের সীমা দুর্বল হয়ে পড়েছে। তবে রাষ্ট্রপক্ষের মতে, এই রায় দক্ষিণ কোরিয়ায় আইনের শাসন ও রাজনৈতিক জবাবদিহির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।