চাঁদা না পেয়ে কক্সবাজারে গণেশ পালকে কুপিয়ে হত্যা
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- কক্সবাজার শহরে বাড়ি নির্মাণের চাঁদা না দেওয়ার জেরে গণেশ পাল (২৯) নামে এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৭ মার্চ)…
মেলবোর্ন, ১৭ জানুয়ারি- গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানকে সমর্থন না করলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেনে উত্তেজনা কমাতে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিদলীয় কংগ্রেস সদস্যদের একটি প্রতিনিধি দল সফরে থাকা অবস্থায় এই মন্তব্য করেন তিনি।
জানুয়ারিতে আবার হোয়াইট হাউসে ফেরার পর থেকেই ট্রাম্প বারবার দাবি করে আসছেন, ন্যাটোভুক্ত দেশ ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকা উচিত। চলতি সপ্তাহের শুরুতে তিনি বলেন, আর্কটিক অঞ্চলের এই দ্বীপটি যুক্তরাষ্ট্রের হাতে না এলে তা ‘গ্রহণযোগ্য নয়’।
শুক্রবার গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক একটি আলাদা অনুষ্ঠানে ট্রাম্প জানান, আগে তিনি ইউরোপীয় মিত্রদের ওষুধ খাতে শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন। এরপর গ্রিনল্যান্ড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রয়োজনে এখানেও একই পথ নিতে পারেন। তার ভাষায়, গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয়, তাই বিষয়টিতে সমর্থন না দিলে শুল্ক আরোপ করা হতে পারে।
গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত অবস্থান এবং সেখানে বিপুল খনিজ সম্পদের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প আগেও বলেছেন, দ্বীপটি যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এমনকি প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগের সম্ভাবনাও তিনি পুরোপুরি নাকচ করেননি। তবে এর আগে শুল্ককে চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের কথা প্রকাশ্যে বলেননি।
এই সপ্তাহের শুরুতে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ওয়াশিংটনে গিয়ে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে বড় মতপার্থক্য দূর না হলেও একটি যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের বিষয়ে সমঝোতা হয়। তবে এই গ্রুপের উদ্দেশ্য নিয়ে ডেনমার্ক ও হোয়াইট হাউসের বক্তব্যে ভিন্নতা দেখা যায়।
ইউরোপীয় নেতারা স্পষ্ট করে বলেছেন, গ্রিনল্যান্ড সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার একমাত্র ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের। ডেনমার্ক সরকার জানিয়েছে, মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে তারা গ্রিনল্যান্ডে সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছে।
এর মধ্যেই শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিদলীয় আইনপ্রণেতাদের একটি প্রতিনিধি দল কোপেনহেগেনে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। প্রতিনিধি দলটি জানায়, ট্রাম্পের বক্তব্যের পর উত্তেজনা কমানোই তাদের লক্ষ্য। তারা গ্রিনল্যান্ডকে মিত্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পক্ষে কংগ্রেসের সমর্থনের আশ্বাস দেন, কোনো সম্পত্তি হিসেবে নয়।
ডেনমার্কের অনুরোধে ইউরোপের কয়েকটি দেশ ইতোমধ্যে সীমিত সংখ্যক সেনা গ্রিনল্যান্ডে পাঠিয়েছে। ১১ সদস্যের মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস কুনস। তিনি ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন, গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স ফ্রেডেরিক নিলসেন এবং উভয় দেশের সংসদ সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে কুনস সাংবাদিকদের বলেন, ওয়াশিংটনে আলোচনায় অনেক বক্তব্য আছে, বাস্তবতা কম। দেশে ফিরে গিয়ে উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা করবেন তারা।
এদিকে গ্রিনল্যান্ডের জন্য নিযুক্ত ট্রাম্পের বিশেষ দূত জেফ ল্যান্ড্রি জানিয়েছেন, তিনি মার্চে ওই অঞ্চলে সফরের পরিকল্পনা করছেন এবং একটি সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব বলে মনে করেন। ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ডেনমার্ককে স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন তিনি কী চান। এখন বিষয়টি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের মাধ্যমে আলোচনার মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়ার সময়।
সূত্রঃ আল জাজিরা
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au