মেলবোর্ন, ১৭ জানুয়ারি- ইরানে সামরিক হামলা চালানো থেকে যুক্তরাষ্ট্র কেন আপাতত বিরত রয়েছে, সে বিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, উপসাগরীয় দেশ বা ইসরাইলের কোনো অনুরোধে নয়, বরং ইরানের সাম্প্রতিক কিছু সিদ্ধান্তই ওয়াশিংটনের অবস্থান পুনর্বিবেচনায় প্রভাব ফেলেছে।
শনিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, সৌদি আরব, কাতার কিংবা ওমান তাকে ইরানে হামলা থেকে বিরত থাকতে রাজি করিয়েছে-এমন দাবি সঠিক নয়। তার ভাষায়, “কেউ আমাকে বোঝায়নি। আমি নিজেই নিজেকে বুঝিয়েছি।”
ট্রাম্প জানান, ইরানের নেতৃত্ব বিক্ষোভকারীদের জন্য নির্ধারিত সব ফাঁসি বাতিল করেছে। এই সিদ্ধান্তকে তিনি ‘গুরুত্বপূর্ণ ও সম্মানজনক পদক্ষেপ’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি লেখেন, “ইরানের নেতৃত্ব যে গতকাল নির্ধারিত সব ফাঁসি বাতিল করেছে, সেটিকে আমি অত্যন্ত সম্মান করি। ধন্যবাদ।”
পরে হোয়াইট হাউস ছাড়ার সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময়ও ট্রাম্প একই কথা পুনরুল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ফাঁসি বাতিলের সিদ্ধান্ত তার জন্য বড় প্রভাব ফেলেছে এবং এটি পরিস্থিতি মূল্যায়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয় ছিল।
এর আগে বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউস জানায়, টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে ইরানি কর্তৃপক্ষ প্রায় ৮০০টি নির্ধারিত মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলেও জানানো হয়।
ইরানে চলমান বিক্ষোভ নিয়ে ট্রাম্প বরাবরই কঠোর অবস্থান নিয়ে আসছেন। তিনি একাধিকবার প্রকাশ্যে ইরানি বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন এবং দমন-পীড়নের অভিযোগ তুলে তেহরানকে সতর্ক করেছেন। মঙ্গলবার তিনি বিক্ষোভকারীদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সহায়তা আসবে।
তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হলে ইরানকে কঠোর প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়তে হবে।
অন্যদিকে, ইরানের সরকার এই বিক্ষোভকে ‘দাঙ্গা’ ও ‘সন্ত্রাসবাদ’ হিসেবে বর্ণনা করে আসছে। তেহরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল এসব অস্থিরতার পেছনে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ডিসেম্বর ইরানে সহিংস বিক্ষোভ শুরু হয়। তবে হতাহত ও গ্রেপ্তারের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি ইরানি কর্তৃপক্ষ।