আরব আমিরাতের বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। শনিবার দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)…
মেলবোর্ন, ১৭ জানুয়ারি- নেদারল্যান্ডসের হেগে জাতিসংঘের সর্বোচ্চ বিচারিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিসে রোহিঙ্গা গণহত্যা সংক্রান্ত মামলায় নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে শুরু করেছে মিয়ানমার। শুনানির প্রথম দিনে দেশটির পক্ষ থেকে গণহত্যার সব অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করা হয়েছে। মিয়ানমার সরকারের প্রতিনিধি কো কো হ্লাইং আদালতে বলেন, এই মামলায় অভিযোগকারী দেশ গাম্বিয়া গণহত্যার পক্ষে পর্যাপ্ত ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি।
আইসিজেতে দেওয়া বক্তব্যে কো কো হ্লাইং দাবি করেন, মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো বাস্তবতার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয় এবং আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে সেগুলো টেকসইও নয়। তিনি বলেন, অভিযোগগুলো অনুমাননির্ভর এবং সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে এগুলোকে গণহত্যার পর্যায়ে ফেলা যায় না।
এর আগে চলতি সপ্তাহের শুরুতে মামলার বাদী পক্ষের হয়ে গাম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাওদা জ্যালো আদালতে বলেন, মিয়ানমার সরকার একটি সুপরিকল্পিত গণহত্যামূলক নীতি অনুসরণ করে দেশটির সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিম জনগোষ্ঠীকে নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা চালিয়েছে। তার বক্তব্যে ২০১৭ সালের রাখাইন রাজ্যের সামরিক অভিযানের প্রসঙ্গ তুলে ধরা হয়, যেখানে ব্যাপক হত্যাকাণ্ড, গ্রাম ধ্বংস, ধর্ষণ এবং জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করার অভিযোগ রয়েছে।
২০১৭ সালে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অভিযানের সময় হাজার হাজার রোহিঙ্গা নিহত হন এবং প্রাণ বাঁচাতে প্রায় ৭ লাখ ৪০ হাজারের বেশি মানুষ সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। পরবর্তীতে ২০১৮ সালে জাতিসংঘের একটি স্বাধীন তদন্ত প্রতিবেদনে মিয়ানমারের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে রাখাইন রাজ্যে গণহত্যা এবং অন্যান্য এলাকায় মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের জন্য তদন্তের সুপারিশ করা হয়।
তবে মিয়ানমার সরকার শুরু থেকেই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। বর্তমান সামরিক জান্তা সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময়কার সামরিক অভিযান কোনো নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে নয়, বরং সশস্ত্র বিদ্রোহী ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে পরিচালিত হয়েছিল।
শুক্রবার আইসিজেতে শুনানিকালে কো কো হ্লাইং বলেন, রাখাইন রাজ্যে সন্ত্রাসী তৎপরতা চলতে থাকলে রাষ্ট্র হিসেবে মিয়ানমারের নিশ্চুপ থাকা সম্ভব ছিল না। তার দাবি, যে ‘ক্লিয়ারেন্স অপারেশন’ শব্দটি আন্তর্জাতিকভাবে সমালোচিত হয়েছে, সেটি আসলে একটি সামরিক পরিভাষা, যা বিদ্রোহ দমন বা সন্ত্রাসবাদবিরোধী অভিযানের ক্ষেত্রেই সাধারণত ব্যবহার করা হয়।
২০২১ সালে নির্বাচিত বেসামরিক সরকারকে উৎখাত করে সামরিক বাহিনী ক্ষমতা দখলের পর এই প্রথম আন্তর্জাতিক কোনো আদালতে এত বড় আইনি লড়াইয়ে অংশ নিচ্ছে মিয়ানমার। বিশ্লেষকদের মতে, এই মামলার চূড়ান্ত রায় শুধু আন্তর্জাতিক পরিসরে মিয়ানমারের অবস্থান নির্ধারণেই নয়, বরং রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ন্যায়বিচার প্রাপ্তির প্রশ্নেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।
সূত্র: বিবিসি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au