চাঁদা না পেয়ে কক্সবাজারে গণেশ পালকে কুপিয়ে হত্যা
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- কক্সবাজার শহরে বাড়ি নির্মাণের চাঁদা না দেওয়ার জেরে গণেশ পাল (২৯) নামে এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৭ মার্চ)…
মেলবোর্ন, ১৮ জানুয়ারি- গ্রিনল্যান্ড কেনার অনুমতি না পাওয়া পর্যন্ত ইউরোপের আটটি দেশের ওপর ধাপে ধাপে বাড়তি শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ডেনমার্কের অধীন স্বায়ত্তশাসিত এই বিশাল আর্কটিক দ্বীপটির ভবিষ্যৎ নিয়ে চলমান বিরোধকে আরও তীব্র করল তাঁর এই অবস্থান।
শনিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন, ফ্রান্স, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, ফিনল্যান্ড ও গ্রেট ব্রিটেন থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। এসব দেশ ইতিমধ্যেই ট্রাম্প আরোপিত শুল্কের আওতায় রয়েছে। তাঁর ঘোষণায় বলা হয়, ১ জুন থেকে এই শুল্ক বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হবে এবং যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ড কেনার বিষয়ে কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো পর্যন্ত এই শুল্ক বহাল থাকবে।
গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে দাবি করে আসছেন ট্রাম্প। কৌশলগত অবস্থান ও বিপুল খনিজ সম্পদের কারণে দ্বীপটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য প্রয়োজনীয় বলে তিনি মনে করেন। এমনকি প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগের সম্ভাবনাও তিনি উড়িয়ে দেননি। এ সপ্তাহে ডেনমার্কের অনুরোধে কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ গ্রিনল্যান্ডে সামরিক সদস্য মোতায়েন করেছে।
ট্রাম্প তাঁর পোস্টে লিখেছেন, এই দেশগুলো খুবই বিপজ্জনক খেলায় নেমেছে এবং এমন ঝুঁকি তৈরি করেছে যা গ্রহণযোগ্য বা টেকসই নয়। একই সঙ্গে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ডেনমার্ক বা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত, যদিও বহু দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সুরক্ষা দিয়ে এসেছে।
এই ঘোষণার পর ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডে বিক্ষোভ হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা ট্রাম্পের দাবির বিরোধিতা করে বলেন, গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার সেখানকার মানুষেরই থাকা উচিত।
ট্রাম্প যেসব দেশের নাম উল্লেখ করেছেন, তারা সবাই ডেনমার্কের পাশে দাঁড়িয়েছে। তাদের সতর্কবার্তা হলো, ন্যাটোর কোনো সদস্য দেশের ভূখণ্ড দখলের চেষ্টা হলে জোটটির অস্তিত্বই হুমকির মুখে পড়তে পারে। ট্রাম্পের ঘোষণার পর নরওয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসপেন বার্থ আইডে আবারও ডেনমার্কের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেন, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে আলোচনায় শুল্কের বিষয়টি টেনে আনা উচিত নয়। তাঁর ভাষায়, ন্যাটোর ভেতরে আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়ে ঐকমত্য আছে, তবে শুল্ক এই আলোচনার অংশ নয়।
বিশ্লেষকদের মতে, এই হুমকি ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও গ্রেট ব্রিটেনের সঙ্গে ট্রাম্পের আগের বাণিজ্য সমঝোতাগুলোকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। ওই সমঝোতায় ইউরোপ থেকে আমদানির ওপর ১৫ শতাংশ এবং ব্রিটিশ পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক নির্ধারিত ছিল।
ট্রাম্পের শাসনামলে শুল্কই হয়ে উঠেছে কৌশলগত ও অর্থনৈতিক চাপ তৈরির প্রধান হাতিয়ার। এ সপ্তাহেই তিনি ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা যেকোনো দেশের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের কথাও বলেন, যদিও এ বিষয়ে হোয়াইট হাউসের ওয়েবসাইটে কোনো আনুষ্ঠানিক নথি প্রকাশ করা হয়নি।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের ব্যাপক শুল্ক আরোপের বৈধতা নিয়ে শুনানি নিয়েছে। আদালতের সিদ্ধান্ত বিশ্ব অর্থনীতি ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
রাশিয়া ও চীনের হুমকির কথা তুলে ধরে ট্রাম্প বারবার বলেছেন, গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা ছাড়া তিনি সন্তুষ্ট হবেন না। তবে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের নেতারা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, দ্বীপটি বিক্রির জন্য নয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হতে চায় না। ইউরোপীয় কর্মকর্তারা মনে করিয়ে দিয়েছেন, গ্রিনল্যান্ড ন্যাটোর অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় জোটের যৌথ নিরাপত্তা চুক্তির সুরক্ষায় রয়েছে।
বর্তমানে গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, যেখানে প্রায় ২০০ সেনা মোতায়েন আছে। ১৯৫১ সালের একটি চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনে আরও সেনা পাঠাতে পারে। এসব বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে অনেক ইউরোপীয় কর্মকর্তার ধারণা, ট্রাম্পের আগ্রহ মূলত নিরাপত্তার চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড বিস্তারের দিকেই বেশি।
সূত্রঃ রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au