‘সমাজ সংস্কার’-এর নামে গ্রামে নোটিশ জারি গানবাজনা বন্ধের ঘোষণা
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার একটি গ্রামে ‘সমাজ সংস্কার’-এর কথা বলে গানবাজনা ও বাদ্যযন্ত্র বাজানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করে নোটিশ জারি করেছিল স্থানীয় একটি জামে…
মেলবোর্ন, ১৮ জানুয়ারি: বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী দল আওয়ামী লীগকে আসন্ন নির্বাচন থেকে বাদ দিলে দেশে কোনো স্থিতিশীলতা ফিরবে না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাসান মাহমুদ। ২০২৪ সালে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের এই সাবেক মন্ত্রী নয়াদিল্লিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন।
ভারতের সঙ্গে আওয়ামী লীগের ঐতিহাসিক সুসম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ঢাকার বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সময় যদি ভারতের নিরাপত্তার প্রতি কোনো হুমকি তৈরি হয়, তবে ভারত অবশ্যই ব্যবস্থা নেবে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা থাকলেও এ নির্বাচন আদৌ হবে কি না, তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি। হাসান মাহমুদ বলেন,
“যে দল বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়েছে এবং একাধিকবার দেশ শাসন করেছে, তাকে নির্বাচন থেকে বাদ দেওয়া মানে হলো—এই নির্বাচন হবে সাজানো আয়োজন মাত্র। এমন প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশে কোনো স্থিতিশীলতা আসবে না।”
তিনি আরও জানান, নির্বাচন থেকে আওয়ামী লীগকে দূরে রাখার চেষ্টা চললেও দলটি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রচার চালাচ্ছে—গত ১৬ মাসে বাংলাদেশে সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘন ও সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনাগুলো তুলে ধরতে। শিগগিরই ভারতে আরেকটি গণমাধ্যম সংযোগ কর্মসূচি আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে দলের।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মুহাম্মদ ইউনূস প্রশাসন অভিযোগ করে আসছে, শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের নেতারা ভারতে অবস্থান করে বাংলাদেশে সহিংসতা উসকে দিচ্ছেন। তবে গত বছর ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রি সংসদীয় কমিটিকে জানিয়েছিলেন, শেখ হাসিনা ভারতে থেকে কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ভারতের সমর্থন পাননি।
এ অভিযোগ নাকচ করে হাসান মাহমুদ বলেন, “আওয়ামী লীগ ও ভারতের সম্পর্ক ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। তখন ভারত প্রায় এক কোটি বাংলাদেশিকে আশ্রয় দিয়েছিল, শুধু সীমান্ত নয়—ভারতের মানুষ আমাদের জন্য হৃদয়ও খুলে দিয়েছিল।”
প্রেস ক্লাব অব ইন্ডিয়ায় ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস রিসার্চ ফাউন্ডেশন আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, শেখ হাসিনা সম্প্রতি ভারতে এলে তাকে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রটোকল দেওয়া হয়েছিল, যা দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বেরই প্রতিফলন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, হাসিনা সরকারের পতনের পর কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়া উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলো বাংলাদেশের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিশোধমূলক হামলায় বহু পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন এবং দেশে এক ধরনের দায়মুক্তির সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে, যা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে।
হাসান মাহমুদ আরও সতর্ক করে বলেন, কিছু ছাত্র উপদেষ্টার পক্ষ থেকে ভারতের উত্তর–পূর্বাঞ্চলকে বিচ্ছিন্ন করার মতো বক্তব্য শোনা গেছে, যা উদ্বেগজনক। ঢাকা থেকে ভারতের ভূখণ্ডগত অখণ্ডতার প্রতি কোনো হুমকি দেখা দিলে ভারত নিশ্চয়ই পদক্ষেপ নেবে।
প্রতিবেদন: কল্লোল ভট্টাচার্য, দ্য হিন্দু , ১৮ জানুয়ারি|
অনুবাদ: ওটিএন বাংলা
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au