চাঁদা না পেয়ে কক্সবাজারে গণেশ পালকে কুপিয়ে হত্যা
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- কক্সবাজার শহরে বাড়ি নির্মাণের চাঁদা না দেওয়ার জেরে গণেশ পাল (২৯) নামে এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৭ মার্চ)…
মেলবোর্ন, ১৯ জানুয়ারি- ২০২৬ সালের আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ঘিরে নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়েছে। ভারতের মাটিতে খেলতে অনীহার বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান বদল না হলে পাকিস্তানও বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে নতুন করে ভাবতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে। এতে পুরো পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভিকে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে ভারতে বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলতে অস্বীকৃতি জানানোয় ঢাকা কূটনৈতিক ও ক্রিকেটীয় সহায়তার জন্য ইসলামাবাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। সূত্রের দাবি, বাংলাদেশের এই অনুরোধে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে পাকিস্তান। তারা জানিয়েছে, বাংলাদেশের বিষয়টি সমাধান না হলে নিজেরাও বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে পারে।
এই অবস্থান আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। কারণ, আইসিসি ইতোমধ্যে এই সংকট সমাধানে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়ার কথা ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের, যা যৌথভাবে আয়োজন করবে ভারত ও শ্রীলঙ্কা।
গত বছরের আগস্টে ঢাকায় রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পাকিস্তান ও বাংলাদেশের সম্পর্ক কিছুটা উষ্ণ হয়েছে। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর তিনি ভারতে চলে যান। পরে তাকে ফেরত চেয়ে বাংলাদেশের অনুরোধে সাড়া না দেওয়ায় ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কেও টানাপোড়েন দেখা দেয়।
এই সময়ের মধ্যে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের ক্রিকেট সম্পর্কও ভালো হয়েছে। গত এশিয়া কাপে দুই দেশের বোর্ড ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি এ সময় বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলামের সমর্থন পান। পাল্টা হিসেবে নাকভিও বাংলাদেশের অনুরোধে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের বৈঠক ডাকার পক্ষে অবস্থান নেন।
বর্তমান সংকটের সূত্রপাত হয়, যখন আইসিসির পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই বলে জানানো সত্ত্বেও বাংলাদেশ ভারতে দল পাঠাতে অস্বীকৃতি জানায়। শনিবার আইসিসির সঙ্গে বৈঠকের পর বিসিবি এক বিবৃতিতে জানায়, তারা বিষয়টি নিয়ে গঠনমূলক আলোচনায় থাকবে। তবে নিজেদের অবস্থান বদলের কোনো ইঙ্গিত দেয়নি।
সম্প্রতি ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্ক আরও চাপে পড়ে, যখন আইপিএল ২০২৬-এর জন্য কলকাতা নাইট রাইডার্স দলে থাকা বাংলাদেশি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে ছেড়ে দেওয়া হয়। আনুষ্ঠানিক কারণ জানানো না হলেও, অনেকেই এটিকে দুই দেশের সম্পর্কের অবনতির প্রতিফলন হিসেবে দেখেন। এর জবাবে বাংলাদেশ সরকার দেশটিতে আইপিএল সম্প্রচার নিষিদ্ধ করে।
এরপরই বিসিবি আনুষ্ঠানিকভাবে আইসিসিকে জানিয়ে দেয়, তারা ভারতে কোনো বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলবে না। সেই অবস্থান এখনো বহাল রয়েছে।
এ অবস্থায় পাকিস্তান বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দেওয়ায় আইসিসির ওপর চাপ আরও বেড়েছে। দুইটি পূর্ণ সদস্য দেশ যদি একসঙ্গে বিশ্বকাপ বয়কটের পথে হাঁটে, তাহলে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে তা হবে নজিরবিহীন সংকট।
সব মিলিয়ে সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে, আর এই জটিলতার কারণে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত সূচি নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
সূত্রঃ এনডিটিভি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au