বাংলাদেশ প্রথম ম্যাচ খেলবে ৭ ফেব্রুয়ারি কলকাতায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে—সূচি নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে।
মেলবোর্ন, ১৯ জানুয়ারি: ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ এবং বিশেষ করে দলটি ভারতে গিয়ে খেলবে কি না—এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ২১ জানুয়ারির মধ্যে নেওয়া হবে। শনিবার ঢাকায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বৈঠকে আইসিসি এই সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে বলে ইএসপিএনক্রিকইনফো জানতে পেরেছে।
সপ্তাহের ব্যবধানে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় বৈঠকে বিসিবি আবারও জানায় যে তারা বিশ্বকাপে খেলতে আগ্রহী, তবে ভারতের বাইরে কোনো ভেন্যুতে। বিকল্প হিসেবে সহ-আয়োজক দেশ শ্রীলঙ্কাকে সবচেয়ে যৌক্তিক স্থান হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। বিসিবির পক্ষ থেকে ভারতের মাটিতে দলের সফর ও ম্যাচ আয়োজন নিয়ে নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা তুলে ধরা হয়। তবে আইসিসি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তারা মূল সূচিতে কোনো পরিবর্তন আনবে না এবং বাংলাদেশ গ্রুপ ‘সি’-তেই থাকবে।
গত ৪ জানুয়ারি বিসিবি প্রথমবার তাদের উদ্বেগ আইসিসিকে জানায়। এরপর প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে অচলাবস্থা চলছে, অথচ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ৭ ফেব্রুয়ারি। সূচি অনুযায়ী, বাংলাদেশ প্রথম দিনই কলকাতায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মাঠে নামবে। পরবর্তী দুই ম্যাচও কলকাতায়, আর গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ মুম্বাইয়ে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।
শনিবারের আলোচনায় বিসিবি বাংলাদেশকে গ্রুপ ‘বি’-তে স্থানান্তর করে আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে অদলবদলের প্রস্তাব দেয়, যাতে তাদের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু আইসিসি এ প্রস্তাবে সম্মতি দেয়নি। সংস্থাটি বিসিবিকে আশ্বস্ত করেছে যে বাংলাদেশের জন্য ভারতে কোনো নির্দিষ্ট নিরাপত্তা হুমকি নেই।
২০টি অংশগ্রহণকারী দলের জন্য স্বাধীন নিরাপত্তা সংস্থার তৈরি পরামর্শপত্রে ভারতে সামগ্রিক হুমকির মাত্রা “মাঝারি থেকে উচ্চ” বলা হলেও কোনো দলের জন্য সুনির্দিষ্ট ঝুঁকির উল্লেখ নেই।
আইসিসি–বিসিবি আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আইসিসি এখন বিসিবির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকবে। যদি বাংলাদেশ ভারতে যেতে অস্বীকৃতি জানায়, তবে আইসিসি বিকল্প দল হিসেবে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করতে পারে—বর্তমান র্যাঙ্কিং অনুযায়ী তারাই পরবর্তী যোগ্য দল।
এই বিরোধের সূত্রপাত হয় কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) ২০২৬ আইপিএল স্কোয়াড থেকে মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার পর। সিদ্ধান্তের কোনো কারণ জানানো হয়নি। এর পর বাংলাদেশ সরকার দেশে আইপিএল সম্প্রচার নিষিদ্ধ করে এবং বিসিবি আইসিসিকে চিঠি দিয়ে জানায় যে তারা ভারতের মাটিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলবে না—যে অবস্থানে তারা এখনো অনড় রয়েছে।
Source: espncricinfo.com