মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তি করেছেন জুলাই আন্দোলনে আহত হওয়ার অভিযোগে মামলা
জুলাই আন্দোলনে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের হামলায় আহত হওয়ার অভিযোগে করা একটি মামলার তদন্তে ভিন্ন তথ্য পেয়েছে পুলিশ। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,…
মেলবোর্ন, ১৯ জানুয়ারি: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখল–সংক্রান্ত হুমকি ও শুল্ক আরোপের ঘোষণার পর ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন বলেছেন, “ইউরোপকে ব্ল্যাকমেইল করা যাবে না।” ইউরোপীয় নেতারা এখন যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞার প্রতিক্রিয়া কী হবে তা নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।
ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার প্রস্তাবের বিরোধিতা করলে আগামী ফেব্রুয়ারি থেকে ডেনমার্কসহ আটটি মার্কিন মিত্রদেশ—ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, সুইডেন ও যুক্তরাজ্যের ওপর নতুন শুল্ক আরোপ করা হবে। তিনি দাবি করছেন, গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রয়োজনে “বলপ্রয়োগের” সম্ভাবনাও নাকচ করেননি—যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
হুমকির মুখে থাকা দেশগুলো যৌথ বিবৃতিতে বলেছে, ট্রাম্পের পরিকল্পনা “বিপজ্জনক নিম্নমুখী স্রোত” সৃষ্টি করতে পারে। তারা সতর্ক করে জানিয়েছে, “শুল্কের হুমকি ট্রান্স–আটলান্টিক সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করে।” একই সঙ্গে তারা ডেনমার্ক রাজ্য ও গ্রিনল্যান্ডের জনগণের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ন্যাটো জোটের সদস্য হিসেবে আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা জোরদার করা একটি অভিন্ন ট্রান্স–আটলান্টিক স্বার্থ এবং তারা সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডগত অখণ্ডতার নীতির ভিত্তিতে সংলাপে অংশ নিতে প্রস্তুত।
ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী ফ্রেডেরিকসেন লেখেন, “আমরা সহযোগিতা চাই, সংঘাত নয়। ইউরোপের অন্যান্য দেশের ধারাবাহিক বার্তায় আমি আশ্বস্ত—ইউরোপ ব্ল্যাকমেইলের কাছে নতি স্বীকার করবে না।” তিনি আরও বলেন, “ইউরোপীয় সম্প্রদায় যে মৌলিক মূল্যবোধের ওপর দাঁড়িয়ে আছে, তা দৃঢ়ভাবে রক্ষা করা এখন আরও জরুরি।”
এদিকে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী সার কিয়ার স্টারমার জানিয়েছেন, তিনি রোববার ফ্রেডেরিকসেন, ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন এবং ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটের সঙ্গে ফোনালাপ করেছেন। স্টারমারের দপ্তর থেকে বলা হয়, তিনি পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ন্যাটোর সব সদস্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং সম্মিলিত নিরাপত্তা রক্ষার কারণে মিত্রদের ওপর শুল্ক আরোপ করা “ভুল পদক্ষেপ”।
ট্রাম্প প্রাথমিকভাবে ১ ফেব্রুয়ারি থেকে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পণ্যে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন, যা পরবর্তীতে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে এবং কোনো সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত বহাল থাকবে। তিনি বলেছেন, “এই দেশগুলো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ খেলা খেলছে, যা পৃথিবীর নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য বিপজ্জনক।”
গ্রিনল্যান্ড ভৌগোলিকভাবে উত্তর আমেরিকা ও আর্কটিক অঞ্চলের সংযোগস্থলে অবস্থিত এবং প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ। ক্ষেপণাস্ত্র সতর্কীকরণ ব্যবস্থা ও আঞ্চলিক নৌ চলাচল পর্যবেক্ষণের জন্য এলাকাটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট বলেছেন, “গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হলেই কেবল যথাযথভাবে রক্ষা করা সম্ভব।”
তবে নরওয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসপেন বার্থ আইডে বিবিসিকে বলেন, সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডগত অখণ্ডতার প্রতি পারস্পরিক সম্মান আন্তর্জাতিক আইন ও সহযোগিতার “অবিচ্ছেদ্য নীতি”। তিনি সতর্ক করে বলেন, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের জন্য একে অপরের সার্বভৌমত্ব স্বীকার করা ছাড়া বিকল্প নেই।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au