নোয়াখালীতে দুর্গামন্দিরের সীমানাপ্রাচীর ভাঙচুর। ছবিঃ সংগৃহীত
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী পৌর এলাকায় শ্রী শ্রী গদাধর কুন্ড দুর্গামন্দিরের সীমানাপ্রাচীর ভাঙচুর করে ভেতরে প্রবেশ এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন মন্দির কমিটির নেতারা।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে সোনাইমুড়ী থানা-পুলিশ। ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। অন্যদিকে, উপজেলা প্রশাসন বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।
মন্দির কমিটির সভাপতি দীপঙ্কর চক্রবর্তী অভিযোগ করেন, সোনাইমুড়ী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রওনক হাসান রিজবীর সঙ্গে মন্দিরের সীমানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। সম্প্রতি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মন্দিরের জায়গায় কক্ষ ও শৌচাগার নির্মাণ করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
দীপঙ্কর চক্রবর্তীর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই বিরোধের জের ধরে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে একদল দুর্বৃত্ত মন্দিরে এসে হামলা চালায়। এ সময় টিন ও সিমেন্টের পিলার দিয়ে তৈরি সীমানাপ্রাচীর ভেঙে ফেলা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ও মন্দির কমিটির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন।
মন্দির কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হৃদয় হরন বৈষ্ণবও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মন্দিরের জায়গা দখল এবং মন্দিরের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ করেন। তাঁর দাবি, মন্দির কমিটির সদস্যদের নিয়মিত হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এতে তাঁরা নিজেদের জীবন ও নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত।
সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন বলেন, মন্দিরের সীমানাপ্রাচীর ভাঙচুরের খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
সোনাইমুড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক নাসরিন আক্তার বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগের বিষয়ে সোনাইমুড়ী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রওনক হাসান রিজবীর বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
মন্দিরের সীমানা নিয়ে বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে মন্দির কমিটির নেতারা অভিযোগ করলেও ভাঙচুরের পেছনের কারণ ও কারা এতে জড়িত, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।