মেলবোর্ন, ২০ জানুয়ারি- নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ায় তিনি আর কেবল শান্তির কথা ভাবতে বাধ্য নন বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জোনাস গর স্টোরকে লেখা এক চিঠিতে ট্রাম্প এ কথা বলেন। একই সঙ্গে তিনি গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার আগ্রহ পুনরায় প্রকাশ করেন এবং এ বিষয়ে বিরোধিতা করলে ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের হুমকিও দেন।
গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার ট্রাম্পের উদ্যোগের বিরোধিতা করে নরওয়ে ও ফিনল্যান্ড। এর প্রতিক্রিয়ায় নরওয়ের প্রধানমন্ত্রীকে ওই চিঠি পাঠান ট্রাম্প। চিঠিতে তিনি লেখেন, আটটির বেশি যুদ্ধ থামাতে ভূমিকা রাখার পরও নরওয়ে তাঁকে নোবেল শান্তি পুরস্কার না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সে কারণে তিনি এখন আর শুধু শান্তির কথাই ভাবতে বাধ্য নন। তবে শান্তি সব সময়ই তাঁর অগ্রাধিকারে থাকবে বলেও উল্লেখ করেন ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি বলেন, এখন তিনি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কোনটি ভালো ও সঠিক, সেটি নিয়েও ভাবতে পারবেন।
ডেনমার্কের অধীন স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার বিষয়ে ট্রাম্প বেশ কিছুদিন ধরেই প্রকাশ্যে অবস্থান জানিয়ে আসছেন। এই পথে কোনো দেশ বাধা দিলে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপসহ কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকিও দিয়েছেন তিনি। ট্রাম্পের এমন অবস্থানের পর যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।
চিঠিতে ট্রাম্প আরও দাবি করেন, রাশিয়া ও চীনের কাছ থেকে গ্রিনল্যান্ডকে সুরক্ষা দেওয়ার সক্ষমতা ডেনমার্কের নেই। তিনি প্রশ্ন তোলেন, গ্রিনল্যান্ডের ওপর ডেনমার্কের মালিকানা কেন এখনও বহাল রয়েছে। ট্রাম্পের ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে না এলে গ্রিনল্যান্ড নিরাপদ থাকবে না।
এদিকে ২০২৫ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার না পেলেও বিতর্কিত এক ঘটনায় ট্রাম্পের হাতে নোবেল পদক পৌঁছেছে। চলতি বছরের শান্তিতে নোবেলজয়ী ভেনেজুয়েলার বিরোধীদলীয় নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো গত বৃহস্পতিবার ব্যক্তিগতভাবে ট্রাম্পের হাতে পদকটি তুলে দেন। এতে ট্রাম্প সন্তোষ প্রকাশ করলেও নরওয়ের নোবেল কমিটি স্পষ্ট করে জানিয়েছে, পদক কার হাতে দেওয়া হলো, তা নির্বিশেষে পুরস্কার বিজয়ীর নামেই নোবেল শান্তি পুরস্কার থেকে যাবে।
নোবেল, গ্রিনল্যান্ড এবং ইউরোপের সঙ্গে শুল্ক ইস্যু ঘিরে ট্রাম্পের এই অবস্থান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক ও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।