আরব আমিরাতের বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। শনিবার দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)…
মেলবোর্ন ২০ জানুয়ারি- গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যকে ঘিরে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যেই সেখানে সামরিক তৎপরতা জোরদার হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার যৌথ সামরিক কমান্ড নর্থ আমেরিকান অ্যারোস্পেস ডিফেন্স কমান্ড (নোরাড) জানিয়েছে, শিগগিরই তাদের সামরিক বিমান গ্রিনল্যান্ডের একটি মার্কিন ঘাঁটিতে পৌঁছাবে। একই সময়ে ডেনমার্কও গ্রিনল্যান্ডে অতিরিক্ত সেনা পাঠাচ্ছে।
সোমবার দেওয়া এক বিবৃতিতে নোরাড জানায়, এসব সামরিক কার্যক্রম আগে থেকেই পরিকল্পিত ছিল এবং এর লক্ষ্য প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করা। সংস্থাটি জানায়, গ্রিনল্যান্ডের পিটুফিক স্পেস বেসকে কেন্দ্র করে পরিচালিত এই কার্যক্রম ডেনমার্কের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমেই হচ্ছে এবং গ্রিনল্যান্ড কর্তৃপক্ষকেও বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।
নোরাডের বিবৃতিতে বলা হয়, গ্রিনল্যান্ডে আসা বিমানগুলো যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ড ও কানাডার বিভিন্ন ঘাঁটি থেকে পরিচালিত অন্যান্য বিমানের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করবে। এতে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে বিদ্যমান প্রতিরক্ষা সহযোগিতার পাশাপাশি ডেনমার্ক রাজ্যের সঙ্গে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে। সংস্থাটি উল্লেখ করে, উত্তর আমেরিকার আকাশ ও মহাকাশ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা নিয়মিত দীর্ঘমেয়াদি সামরিক মহড়া ও নজরদারি কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে।
এই ঘোষণা এসেছে এমন এক সময়ে, যখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রকাশ্যে গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার আকাঙ্ক্ষা পুনর্ব্যক্ত করছেন। ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত এই অঞ্চলটি কৌশলগত অবস্থান ও বিপুল খনিজ সম্পদের কারণে দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু। ট্রাম্প সাম্প্রতিক বক্তব্যে বলেন, গ্রিনল্যান্ড তিনি ‘এভাবে না হলে অন্যভাবে’ যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে আনবেন। এমনকি তাঁর পরিকল্পনার বিরোধিতা করলে ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর নতুন শুল্ক আরোপের হুমকিও দেন তিনি।
এদিকে পরিস্থিতি মোকাবিলায় ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করছে। ডেনিশ গণমাধ্যম ডিআর ও অন্যান্য সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, সোমবার সন্ধ্যায় ডেনমার্কের রয়্যাল আর্মির প্রধান পিটার বয়েসেনের নেতৃত্বে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সেনা পশ্চিম গ্রিনল্যান্ডের কাংগারলুসুয়াকে পৌঁছান। সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম টিভি ২ জানায়, ওই দিন ৫৮ জন ডেনিশ সেনা সেখানে অবতরণ করেন, যারা এর আগে পাঠানো প্রায় ৬০ জন সেনার সঙ্গে যোগ দেন।
এই সেনারা ‘অপারেশন আর্কটিক এন্ডিউরেন্স’ নামের একটি চলমান বহুজাতিক সামরিক মহড়ায় অংশ নিচ্ছেন। ডেনমার্ক ইতিমধ্যে ন্যাটোর মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডে নজরদারি জোরদারের প্রস্তাবও দিয়েছে, যাতে আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলা করা যায়।
ডেনমার্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সেনা মোতায়েনের কয়েক ঘণ্টা আগেই ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড দখলে সামরিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা নাকচ করতে অস্বীকৃতি জানান। এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি শুধু বলেন, ‘নো কমেন্ট।’
এর আগে সপ্তাহান্তে নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী ইয়োনাস গার স্টোরকে পাঠানো এক বার্তায় ট্রাম্প বলেন, নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ায় তিনি আর কেবল শান্তির কথাই ভাবতে বাধ্য বোধ করছেন না। এই মন্তব্যও ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au