চাঁদা না পেয়ে কক্সবাজারে গণেশ পালকে কুপিয়ে হত্যা
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- কক্সবাজার শহরে বাড়ি নির্মাণের চাঁদা না দেওয়ার জেরে গণেশ পাল (২৯) নামে এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৭ মার্চ)…
মেলবোর্ন, ২০ জানুয়ারি- বিদ্যমান আইন অনুযায়ী ঋণখেলাপিদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ না থাকলেও বাস্তবে সেই বাধা কার্যকর করা যায়নি। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঋণখেলাপি হয়েও অন্তত ৪৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকার সুযোগ পেয়েছেন। রিটার্নিং কর্মকর্তাদের প্রাথমিক বাছাই ও নির্বাচন কমিশনের আপিল শুনানি শেষে এই চিত্র স্পষ্ট হয়েছে। একই সঙ্গে ঋণখেলাপির অভিযোগে ৬৮ জন প্রার্থী নির্বাচনের বাইরে ছিটকে পড়েছেন। এখন শেষ ধাপে উচ্চ আদালতে আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বাদ পড়া অনেক প্রার্থী।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণ তথ্য ব্যুরোর তালিকায় ঋণখেলাপি হিসেবে নাম থাকা সত্ত্বেও মনোনয়নপত্র দাখিলের আগেই ৩১ জন প্রার্থী উচ্চ আদালত থেকে স্থগিতাদেশ নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পান। রিটার্নিং কর্মকর্তাদের বাছাইয়ে এই ৩১ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ হলেও পরে নির্বাচন কমিশনের আপিল শুনানিতে কুমিল্লা-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী বাদ পড়ে যান। হাইকোর্টের আদেশ আপিলে আটকে যাওয়ায় তিনি আবার খেলাপির তালিকায় চলে যান।
ঋণখেলাপি প্রার্থীদের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে পড়েছে। আপিল শুনানি শেষে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ প্রকাশ্যে বলেন, তারা মনে কষ্ট নিয়েই কিছু ঋণখেলাপি প্রার্থীকে বৈধতা দিয়েছেন, কারণ আইন তাদের সে সুযোগ দিয়েছে। তাঁর এই বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, আইন ও বাস্তবতার মধ্যে বড় ধরনের ফাঁক রয়ে গেছে।
একই ধরনের বৈপরীত্য দেখা গেছে বিভিন্ন আসনের সিদ্ধান্তে। ঋণখেলাপির কারণে চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী সারোয়ার আলমগীরের মনোনয়ন বাতিল হলেও চট্টগ্রাম-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর মনোনয়ন বহাল রাখা হয়। আসলাম চৌধুরীর মনোনয়ন বাতিল চেয়ে দুটি ব্যাংক আপিল করলেও শুনানি শেষে নির্বাচন কমিশন তাঁর প্রার্থিতা বহাল রাখে। ওই সময় নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ প্রার্থীকে উদ্দেশ করে বলেন, মনোনয়নপত্র বৈধ করা হলো, তবে ব্যাংকের টাকা পরিশোধ করে দেওয়ার অনুরোধ জানান।
শুধু বিএনপির প্রার্থীরাই নয়, এবারের নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীরাও ঋণখেলাপির তালিকায় রয়েছেন। রিটার্নিং কর্মকর্তাদের বাছাইয়ে ঋণখেলাপির কারণে বাতিল হওয়া ৮২ জনের মধ্যে নির্বাচন কমিশনের আপিল শুনানিতে ১৫ জন প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। তাঁদের মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর দুজন এবং ইসলামী আন্দোলনের দুজন রয়েছেন। যদিও অন্তর্বর্তী সরকার শুরুতে স্পষ্টভাবে ঘোষণা দিয়েছিল, কোনো ঋণখেলাপি এবারের নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না।
২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের প্রায় দেড় বছর পর আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। প্রচলিত আইনে ঋণখেলাপিদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ নেই। কেউ অন্যের ঋণের গ্যারান্টর হলেও তাকেও খেলাপি হিসেবে ধরা হয়। এমনকি সংশোধিত আরপিও অনুযায়ী, নির্বাচিত হওয়ার পরও যদি কোনো সাংসদের খেলাপি হওয়ার সত্যতা প্রমাণিত হয়, তবে তাঁর পদ বাতিল হতে পারে।
এর পরও বাস্তবে ঋণখেলাপিদের ঠেকাতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কঠোর অবস্থান কার্যকর হয়নি। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর আগেই বলেছিলেন, আদালতের স্থগিতাদেশ থাকলেও যেন কেউ নির্বাচনে অংশ নিতে না পারেন, সে ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হবে। অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদও বলেছিলেন, ঋণখেলাপিদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আদালতের স্থগিতাদেশ ও আইনি জটিলতার কারণে সেই অবস্থান বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি।
আওয়ামী লীগ সরকার পতনের আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষার্থীদের গড়া জাতীয় নাগরিক পার্টি ঋণখেলাপিদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোর বিরোধিতা করেছে। দলটির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, কোনো ঋণখেলাপি যদি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পায়, তবে তারা রাজপথে নামবেন।
বিশ্লেষকরাও এই পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক মইনুল ইসলাম বলেন, কীভাবে বা কোন ফাঁকফোকর দিয়ে ঋণখেলাপিরা সুযোগ পাচ্ছেন, তা পরিষ্কার নয়। তবে এটি মোটেও ভালো লক্ষণ নয়। এভাবে চলতে থাকলে ঋণখেলাপির সমস্যা কখনোই সমাধান হবে না।
এর আগের একতরফা নির্বাচনগুলোতেও আদালতের স্থগিতাদেশ বা ঋণখেলাপির তথ্য গোপন করে অনেক প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। সর্বশেষ ২০২৪ সালের নির্বাচনে এমন ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটেছিল। সে সময় ঋণের তথ্য হালনাগাদের ক্ষমতা ব্যাংকগুলোর হাতে ছেড়ে দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে এবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দিয়েছিল, যেন কোনো ঋণখেলাপি নির্বাচনে অংশ নিতে না পারে। তবু আদালতের আদেশ ও নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের কারণে সেই লক্ষ্য পূরণ হয়নি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হাতে কারও প্রার্থিতা বাতিল করার ক্ষমতা নেই। তারা কেবল ঋণখেলাপি সংক্রান্ত তথ্য দিতে পারে। আদালত বা নির্বাচন কমিশন যদি কাউকে বৈধ ঘোষণা করে, তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আর কিছু করার থাকে না।
সব মিলিয়ে, আইন থাকা সত্ত্বেও ঋণখেলাপিদের একটি বড় অংশকে নির্বাচনের বাইরে রাখা সম্ভব হয়নি। এতে নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও আর্থিক শৃঙ্খলা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে, যা আগামী দিনে আরও বড় রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্কের জন্ম দিতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সূত্রঃ সমকাল
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au