আরব আমিরাতের বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। শনিবার দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)…
মেলবোর্ন, ২০ জানুয়ারি- অস্ট্রেলিয়ার ডানপন্থী রাজনীতিক পলিন হ্যানসন দাবি করেছেন, ডানপন্থী রাজনৈতিক ভাষ্যকার চার্লি কির্কের কথিত হত্যাকাণ্ড অস্ট্রেলীয়দের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা। একই সময়ে জনমত জরিপে তাঁর দল ওয়ান নেশনের ভোট হঠাৎ বেড়ে যাওয়াকে তিনি নিজের রাজনৈতিক অবস্থানের স্বীকৃতি হিসেবে তুলে ধরেন।
সর্বশেষ নিউসপোল জরিপে ওয়ান নেশন প্রথমবারের মতো প্রধান বিরোধী জোট কোয়ালিশনকে ছাড়িয়ে গেছে। গত দুই মাসে দলটির সমর্থন সাত শতাংশ পয়েন্ট বেড়ে প্রাথমিক ভোটের ২২ শতাংশে পৌঁছেছে। এই উত্থান নিয়ে সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে সিনেটর হ্যানসন বলেন, তিনি নাইজেল ফারাজ ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনেক আগেই রাজনীতিতে ছিলেন। তাঁর দাবি, বিশ্বজুড়ে ডানপন্থী রাজনীতির যে ধারা দেখা যাচ্ছে, সেটির পথপ্রদর্শক তিনি নিজেই।
তিনি বলেন, অতীতে দেওয়া বক্তব্যের জন্য তিনি কোনো কিছুতেই পিছু হটেন না। তিনি যা বিশ্বাস করেন, সেটার পক্ষেই দাঁড়ান। তাঁর মতে, বছরের পর বছর ধরে যেসব বিষয় তিনি বলে এসেছেন, সেগুলোর অনেকটাই এখন অস্ট্রেলিয়ায় বাস্তবে ঘটছে। এ কারণেই মানুষ এখন বুঝতে পারছে, তিনি নিজের অবস্থানে অটল ছিলেন।
ওয়ান নেশনের এই জনপ্রিয়তা নিয়ে হ্যানসন বলেন, তিনি এই সমর্থন পেয়ে গর্বিত। তাঁর অভিযোগ, অস্ট্রেলিয়ার দুই প্রধান দলই কার্যত ব্যর্থ। জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। তিনি আরও বলেন, বন্ডি এলাকায় ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক সহিংস ঘটনা এবং তার আগে চার্লি কির্কের কথিত হত্যাকাণ্ড অনেক অস্ট্রেলীয়ের চোখ খুলে দিয়েছে।
হ্যানসনের মতে, ব্যাপক অভিবাসন অস্ট্রেলিয়ার জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বহু বছর ধরে মানুষ সরকারকে অভিবাসন কমানোর আহ্বান জানিয়ে এলেও তা শোনা হয়নি। বাসস্থানের সংকট, কর্মসংস্থানের অভাব, নিরাপত্তাহীনতা এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি সব মিলিয়ে মানুষের ক্ষোভ বাড়ছে। তাঁর ভাষায়, মানুষ এমন একজনকে খুঁজছে, যিনি সত্যিকার অর্থে দেশ, জনগণ এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবেন।
এর আগে হ্যানসন বন্ডি বিচে সন্ত্রাসী হামলার জন্য ‘চরমপন্থী ইসলাম’ এবং অভিবাসনকে দায়ী করেছিলেন। গত বছর সংসদে বোরকা পরে আসার ঘটনায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ার পর তাঁকে নিহতদের স্মরণে আনা সিনেটের শোক প্রস্তাব থেকেও বাদ দেওয়া হয়।
এই ধরনের কর্মকাণ্ড আবার করবেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে হ্যানসন বলেন, তিনি নিজের অবস্থানে অনড়। তাঁর দাবি, সংসদে বোরকা পরা কোনো নাটক ছিল না। বরং তিনি জনসমক্ষে বোরকা বা সম্পূর্ণ মুখঢাকা পোশাক নিষিদ্ধ করার আইন না আনার প্রতিবাদ জানাতেই তা করেছিলেন।
দলটিকে বিকল্প সরকার হিসেবে গড়ে তুলতে চান কি না, জানতে চাইলে হ্যানসন স্পষ্টভাবে বলেন, সেটাই তাঁর লক্ষ্য। তিনি জানান, গত তিন দশক ধরে তিনি ধারাবাহিকভাবে স্পষ্ট নীতিমালা দিয়ে আসছেন এবং শুধু কোয়ালিশন বা লেবার পার্টিকে টিকিয়ে রাখার জন্য রাজনীতি করছেন না।
তিনি স্বীকার করেন, জরিপে ২২ শতাংশ সমর্থন পাওয়া বড় চ্যালেঞ্জ। এই সমর্থন ধরে রাখতে তাঁকে এবং তাঁর সহকর্মীদের কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। তাঁর আশা, জনগণের আস্থা বজায় রাখতে পারলে ভবিষ্যতে সরকার গঠন করাও সম্ভব হবে।
এদিকে, গত বছর ন্যাশনাল পার্টি ছেড়ে ওয়ান নেশনে যোগ দেওয়া বার্নাবি জয়েস অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ দলটিকে চরম ডানপন্থী হিসেবে চিহ্নিত করছেন। জয়েস বলেন, সত্য যদি সত্য হয়, তবে সেটাকে চরমপন্থা বলা যায় না। তিনি আরও বলেন, শোক প্রকাশের কথা বলা হলেও যদি তার পর কোনো বাস্তব পদক্ষেপ না আসে, তাহলে শুধু সহানুভূতি দেখানোর অর্থ থাকে না।
ওয়ান নেশনের নেতৃত্ব নেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে জয়েস বিষয়টি এড়িয়ে যান এবং বলেন, অন্য সংসদ সদস্যরা চাইলে সে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
অন্যদিকে, লিবারেল পার্টির সিনেটর জনাথন ডুনিয়াম স্বীকার করেন, এই জরিপ ফলাফল দেখাচ্ছে যে তাদের সামনে কঠিন কাজ রয়েছে। তিনি বলেন, ভোটারদের কাছে নিজেদের অবস্থান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে না পারলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au