আরব আমিরাতের বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। শনিবার দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)…
মেলবোর্ন, ২০ জানুয়ারি: ঘৃণা ও সহিংসতা ছড়ানো গোষ্ঠীগুলোকে নিষিদ্ধ করার লক্ষ্যে প্রস্তাবিত নতুন আইন সংসদে পাস হতে যাচ্ছে। লেবার সরকার বিলটির পরিধি সীমিত ও স্পষ্ট করতে লিবারেল পার্টির সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানোর পর এ অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে। তবে ন্যাশনাল পার্টির অবস্থান এখনো অনিশ্চিত।
মঙ্গলবার সিনেটে লেবার সরকারের অস্ত্র সংস্কার প্যাকেজ গ্রিনস দলের সমর্থনে পাস হয়, যা অস্ট্রেলিয়ার কঠোর অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করবে। এর আগে সোমবার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ ও বিরোধীদলীয় নেতা সুসান লে একমত হন যে, হিজবুত তাহরির ও নব্য–নাৎসিদের মতো ঘৃণা প্রচারকারী সংগঠন নিষিদ্ধ করার প্রস্তাবিত আইনে কিছু পরিবর্তন আনা হবে।
বিরোধীরা আশঙ্কা করছিলেন, বিলটির ভাষা খুব বিস্তৃত হওয়ায় তা বাকস্বাধীনতাকে সীমিত করতে পারে। সংশোধিত বিলে এখন “সহিংসতার প্রচার” শব্দগুচ্ছ যুক্ত করা হয়েছে, যাতে ঘৃণা ছড়ানো গোষ্ঠীর সংজ্ঞা আরও সুনির্দিষ্ট হয়।
সুসান লে বলেন,
“আলবানিজ সরকার যে আইনটি খারাপভাবে সামলেছিল, সেটিকে ঠিক করতে লিবারেল পার্টি দায়িত্ব নিয়েছে। চূড়ান্ত সমঝোতা বিলকে আরও শক্তিশালী এবং অস্ট্রেলিয়ানদের নিরাপত্তার ওপর যথাযথভাবে কেন্দ্রীভূত করেছে।”
তবে লিবারেল ও ন্যাশনাল দল যৌথ অবস্থান নির্ধারণে আনুষ্ঠানিক বৈঠক করেনি। ন্যাশনাল পার্টির নেতা ডেভিড লিটলপ্রাউড জানান, বিলের প্রভাব সম্পর্কে যথেষ্ট নিশ্চয়তা না পাওয়ায় তার দল নিম্নকক্ষে ভোটদানে বিরত থাকবে। কিছু সরকারি সংশোধনীতে ন্যাশনাল দলের এমপি লিউ ও’ব্রায়েন ও কলিন বয়েস বিপক্ষে ভোট দিলেও সংশোধনীগুলো পাস হয়ে যায় এবং বিলটি নিম্নকক্ষ অতিক্রম করে।
এবিসি নিউজ এর বরাত দিয়ে বলা হয় লিবারেল দলের ভেতরেও বিল নিয়ে অস্বস্তি রয়ে গেছে। এক এমপি জানান, দলের অনেকেই “দাঁত কামড়ে” বিলটির পক্ষে ভোট দিচ্ছেন।
মঙ্গলবার সকালে লিবারেল নেতা জুলিয়ান লিজার জানান, দলটি “গঠনমূলক ভূমিকা নিয়ে আইনটিকে সঠিক পথে এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।” বিরোধী আইনপ্রণেতা অ্যান্ড্রু ওয়ালেস পুরো প্রক্রিয়াকে “বিশৃঙ্খল” বললেও বিলটিকে নীতিগতভাবে সমর্থন করেন।
বন্ডাই সন্ত্রাসী হামলার প্রেক্ষাপটে তৈরি এই আইনে শুরুতে ঘৃণা প্রচারের জন্য নতুন ফৌজদারি অপরাধ যুক্ত করার প্রস্তাব ছিল, যা সপ্তাহান্তে বাদ দেওয়া হয়—এটি ছিল কোয়ালিশনের সমর্থন আদায়ের বড় শর্ত।
ন্যাশনাল পার্টির সিনেটর ম্যাট ক্যানাভান উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, সহিংস উগ্রবাদীদের বাইরে অন্য গোষ্ঠীগুলোও এই আইনের আওতায় পড়ে যেতে পারে। তবে লিবারেল সিনেটর জনাথন ডুনিয়াম এ আশঙ্কাকে “ভিত্তিহীন” বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “প্রো–লাইফ বা ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলোকে এই আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হবে—এ কথা সম্পূর্ণ বাজে।”
অ্যাটর্নি–জেনারেল মিশেল রোল্যান্ড স্পষ্ট করেন, আইনটি “বৈধ মুক্ত মতপ্রকাশে হস্তক্ষেপ করবে না।” তার ভাষায়, “আইনসম্মত বিতর্ক, ধর্মীয় আলোচনা, রাজনৈতিক সমালোচনা, কমেডি বা শিল্প–অভিব্যক্তিকে লক্ষ্যবস্তু করা এর উদ্দেশ্য নয়।”
বিলে ঘৃণা ছড়ানো গোষ্ঠী নির্ধারণের একটি প্রক্রিয়া নির্ধারণ করা হয়েছে, যেখানে গোয়েন্দা ও আইনশৃঙ্খলা সংস্থার মতামত নেওয়া হবে এবং বিরোধীদলীয় নেতাকে অবহিত করা বাধ্যতামূলক। আগের খসড়ার তুলনায় নতুন সংস্করণে তালিকাভুক্তি ও তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার—দুই ক্ষেত্রেই ব্রিফিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
এছাড়া প্রতি দুই বছর পর আইনটির কার্যকারিতা সংসদীয় যৌথ গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা কমিটি পর্যালোচনা করবে। বিলটিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ঘৃণা প্রচারকারীদের নির্বাসনের ব্যাপক ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে, যা কোয়ালিশন ইতোমধ্যে সমর্থন জানিয়েছে।
সব মিলিয়ে, রাজনৈতিক টানাপোড়েন সত্ত্বেও অস্ট্রেলিয়ায় ঘৃণা ও সহিংসতা দমনে নতুন আইন কার্যকর হওয়ার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে।
সূত্র: এবিসি নিউজ
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au