মেলবোর্ন, ২২ জানুয়ারি- বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনে যোগ দিতে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে যাওয়ার পথে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বহনকারী এয়ার ফোর্স ওয়ান উড্ডয়নের প্রায় এক ঘণ্টা পরই যাত্রা বাতিল করে ফিরে আসে। মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাত ১১টার কিছু পর বিমানটি মেরিল্যান্ডের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে অবতরণ করে।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, বিমানে একটি ছোটখাটো বৈদ্যুতিক ত্রুটি ধরা পড়ায় নিরাপত্তার স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সফরসঙ্গী কর্মকর্তা ও সাংবাদিকরাও ওই বিমানে ছিলেন।
পরবর্তীতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিকল্প হিসেবে একটি ছোট বোয়িং ৭৫৭ বিমানে করে আবার দাভোসের উদ্দেশে রওনা হন। নতুন বিমানটি বুধবার মধ্যরাতের কিছু পর উড্ডয়ন করে, যা নির্ধারিত সময়ের তুলনায় দুই ঘণ্টারও বেশি বিলম্বিত ছিল। সাধারণত এই ধরনের বিমান যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট বা অপেক্ষাকৃত ছোট বিমানবন্দরে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
নীল-সাদা রঙের পরিচিত নকশার এয়ার ফোর্স ওয়ান শুধু একটি বিমান নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্সির প্রতীক হিসেবেও পরিচিত। বর্তমানে প্রেসিডেন্টের জন্য ব্যবহৃত দুটি এয়ার ফোর্স ওয়ান বিমান প্রায় চার দশক ধরে পরিচালিত হচ্ছে। এগুলোর বিকল্প হিসেবে নতুন বিমান নির্মাণের দায়িত্বে রয়েছে বোয়িং, তবে প্রকল্পটি একাধিকবার বিলম্বের মুখে পড়েছে।
এয়ার ফোর্স ওয়ান বিমানে বিকিরণ প্রতিরোধী ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলার প্রযুক্তি এবং উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা রয়েছে, যা প্রেসিডেন্টকে বিশ্বের যেকোনো স্থান থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ দেয়। এদিকে গত বছর কাতারের শাসক পরিবার একটি বিলাসবহুল বোয়িং ৭৪৭-৮ জেট বিমান উপহার দেয়, যা ভবিষ্যতে এয়ার ফোর্স ওয়ান বহরে যুক্ত করার লক্ষ্যে বর্তমানে নিরাপত্তা মান অনুযায়ী সংস্কার করা হচ্ছে।
এর আগে বিভিন্ন সময় মার্কিন শীর্ষ কর্মকর্তাদের বহনকারী সামরিক বিমানে যান্ত্রিক সমস্যার নজির রয়েছে। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে জার্মানিগামী পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর বিমান মাঝপথে ওয়াশিংটনে ফিরে আসে। একইভাবে গত অক্টোবরে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে বহনকারী একটি সামরিক বিমান যুক্তরাজ্যে জরুরি অবতরণ করতে বাধ্য হয়, বিমানের সামনের কাচে ফাটল দেখা দেওয়ায়।
সূত্র : আলজাজিরা।