মহানবীকে কটূক্তির অভিযোগে হিন্দু যুবক গ্রেপ্তার
মেলবোর্ন, ২২ এপ্রিল- খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটূক্তির অভিযোগে শ্যামল গাইন (২০) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার…
মেলবোর্ন, ২২ জানুয়ারি- কর্মক্ষেত্রে জেন–জি প্রজন্মকে নিয়ে বিশ্বজুড়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক একাধিক জরিপে দেখা যাচ্ছে, এই প্রজন্মের প্রায় ৬০ শতাংশ কর্মী কোনো না কোনো সময় চাকরি হারাচ্ছেন বা প্রতিষ্ঠান ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন। তবে বিষয়টি শুধু অযোগ্যতা বা কাজে অনীহার প্রশ্ন নয়। বিশ্লেষকদের মতে, মূল সমস্যা তৈরি হচ্ছে জেন–জি প্রজন্মের কাজের দৃষ্টিভঙ্গি, প্রত্যাশা ও জীবনবোধের সঙ্গে চিরাচরিত করপোরেট সংস্কৃতির অসামঞ্জস্য থেকে।
জেন–জি প্রজন্ম মূলত কর্মজীবনে প্রবেশ করেছে করোনা মহামারির সময়। বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা, লকডাউন, চাকরি হারানোর ঘটনা ও অর্থনৈতিক সংকট তাদের পেশাজীবনের প্রথম অভিজ্ঞতাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। ফলে এই প্রজন্মের কাছে চাকরি আর আগের মতো আজীবন নিরাপত্তার প্রতীক নয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তিনটি প্রধান কারণে জেন–জি কর্মীরা তুলনামূলকভাবে বেশি চাকরিচ্যুত হচ্ছেন বা প্রথাগত কর্মক্ষেত্রে টিকে থাকতে পারছেন না।
২০০৮ সালের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা থেকে শুরু করে করোনা মহামারি—এই দুই বড় সংকটের মধ্য দিয়ে বেড়ে উঠেছে জেন–জি প্রজন্ম। ছোটবেলা থেকেই তারা দেখেছে চাকরি হারানো, বেতন কমে যাওয়া এবং হঠাৎ কর্মক্ষেত্র বদলে যাওয়ার বাস্তবতা। এর ফলে তাদের মধ্যে স্থায়ী চাকরি নিয়ে এক ধরনের ভীতি ও অনিশ্চয়তা কাজ করে। অনেকেই মনে করেন, নির্দিষ্ট সময় বেঁধে অফিসে বসে কাজ করলেই নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না। তাই তারা ফ্রিল্যান্সিং, রিমোট কাজ কিংবা নিজস্ব উদ্যোগে আয়ের পথ খুঁজতে বেশি আগ্রহী হচ্ছে।
জেন–জি প্রজন্ম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে দক্ষ হলেও মুখোমুখি অফিস যোগাযোগ, দীর্ঘ মিটিং বা কঠোর অফিস শৃঙ্খলায় অভ্যস্ত নয়। করোনাকালে ঘরে বসে কাজ করার অভ্যাস এই প্রবণতাকে আরও জোরদার করেছে। অনেক প্রতিষ্ঠানের অভিযোগ, তারা সময়ানুবর্তিতা বা আনুষ্ঠানিক আচরণে পিছিয়ে। তবে কর্মীরা বলছেন, তারা এমন কাজ খুঁজছেন যেখানে ফলাফলই মুখ্য, উপস্থিতি নয়। এই দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য থেকেই অনেক ক্ষেত্রে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হচ্ছে এবং শেষ পর্যন্ত চাকরি হারানোর ঘটনা ঘটছে।
জেন–জি প্রজন্মের কাছে কাজই জীবনের একমাত্র কেন্দ্র নয়। তারা মানসিক সুস্থতা, ব্যক্তিগত সময় এবং কাজের বাইরের জীবনকে সমান গুরুত্ব দিতে চায়। দীর্ঘ সময় কাজের চাপ, অতিরিক্ত ওভারটাইম বা ব্যক্তিগত জীবনে হস্তক্ষেপ তারা সহজে মেনে নেয় না। এই কারণেই অনেক প্রতিষ্ঠান তাদের ‘কমিটমেন্টের অভাব’ হিসেবে দেখলেও বাস্তবে তারা কাজ ও জীবনের মধ্যে ভারসাম্য খুঁজছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জেন–জি প্রজন্ম প্রথাগত চাকরির কাঠামোর বাইরে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এসেছে। তারা এমন কর্মপরিবেশ চায়, যেখানে স্বাধীনভাবে কাজ করা যায়, সৃজনশীলতা প্রকাশের সুযোগ থাকে এবং নিজের দক্ষতা অনুযায়ী আয় বাড়ানোর পথ খোলা থাকে।
এই প্রজন্মকে শুধু চাকরিচ্যুত বা উদাসীন হিসেবে দেখলে বাস্তব চিত্র ধরা পড়বে না। বরং প্রতিষ্ঠানগুলো যদি তাদের স্বাধীনতা, উদ্ভাবনী চিন্তা ও কাজের নতুন ধরনকে গুরুত্ব দেয়, তাহলে ভবিষ্যতের কর্মসংস্কৃতিতে টিকে থাকা এবং প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au