চাঁদা না পেয়ে কক্সবাজারে গণেশ পালকে কুপিয়ে হত্যা
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- কক্সবাজার শহরে বাড়ি নির্মাণের চাঁদা না দেওয়ার জেরে গণেশ পাল (২৯) নামে এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৭ মার্চ)…
মেলবোর্ন ২২ জানুয়ারি- গ্রিনল্যান্ড দখল নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উচ্চাকাঙ্ক্ষার বিষয়ে প্রকাশ্য অবস্থান নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, এই বিষয়টি রাশিয়ার নয়। পুতিনের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোভুক্ত দেশগুলো নিজেদের মধ্যেই এই ইস্যু মীমাংসা করবে।
মস্কোয় জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের এক বৈঠকে টেলিভিশনে সম্প্রচারিত বক্তব্যে পুতিন বলেন, “গ্রিনল্যান্ডের ক্ষেত্রে কী ঘটবে, সেটি আমাদের উদ্বেগের বিষয় নয়।” তিনি যোগ করেন, “আমার ধারণা, যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্ররা বিষয়টি নিজেদের মধ্যেই সমাধান করে নেবে।”
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, ট্রাম্পের এই বিতর্কিত উদ্যোগ থেকে মস্কোর প্রকাশ্য দূরত্ব বজায় রাখা আসলে একটি হিসাবি কৌশল। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মধ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনায় রাশিয়া সরাসরি জড়াতে চাইছে না, অন্যদিকে পশ্চিমা ঐক্যে ফাটল ধরার সম্ভাবনাকে নীরবে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছে ক্রেমলিন।
পুতিন তার বক্তব্যে ডেনমার্কের ভূমিকাও সমালোচনার সুরে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ডেনমার্ক দীর্ঘদিন ধরেই গ্রিনল্যান্ডের সঙ্গে উপনিবেশের মতো আচরণ করেছে এবং দ্বীপটির বাসিন্দাদের প্রতি কঠোর ছিল। তবে তিনি এটিও বলেন, বর্তমান বাস্তবতায় এই ইতিহাস আদৌ কেউ গুরুত্ব দেবে কি না, তা নিয়ে তিনি সন্দিহান।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট স্মরণ করিয়ে দেন, অতীতেও বড় ভূখণ্ড হস্তান্তরের নজির রয়েছে। তিনি ১৯১৭ সালে ডেনমার্কের ভার্জিন আইল্যান্ডস যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিক্রির ঘটনা এবং ১৮৬৭ সালে রাশিয়ার কাছ থেকে আলাস্কা কেনার প্রসঙ্গ টানেন।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মধ্যে গ্রিনল্যান্ড প্রশ্নে যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে, তা রাশিয়ার জন্য কৌশলগতভাবে সুবিধাজনক। ক্রেমলিনপন্থী গণমাধ্যম ও বিশ্লেষকেরা প্রকাশ্যে এই পরিস্থিতি নিয়ে উল্লাস বা বিদ্রূপমূলক মন্তব্য করছেন। তাদের মতে, এই বিতর্ক ন্যাটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের ঐক্য দুর্বল করতে পারে এবং ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে পশ্চিমাদের মনোযোগ কিছুটা সরিয়ে নিতে পারে।
তবে বিষয়টির আরেকটি দিকও রয়েছে। খনিজসমৃদ্ধ ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বাড়লে তা রাশিয়ার আর্কটিক স্বার্থের জন্য দীর্ঘমেয়াদে উদ্বেগের কারণ হতে পারে। আর্কটিক অঞ্চলে রাশিয়া ইতিমধ্যে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করেছে, যেখানে নর্দান ফ্লিটের ঘাঁটি রয়েছে এবং সোভিয়েত আমলে পারমাণবিক পরীক্ষা চালানো হয়েছিল।
এদিকে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প আবারও বলেন, তিনি গ্রিনল্যান্ড “পেতে চান”, তবে এজন্য শক্তি প্রয়োগ করবেন না। একই সঙ্গে তিনি ইউরোপীয় মিত্রদের কটাক্ষ করেন এবং ন্যাটো যেন তার এই উদ্যোগে বাধা না দেয়, সে প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন।
ক্রেমলিন আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রাম্পের এই অবস্থানের সমালোচনা বা সমর্থন কোনোটিই করেনি। ক্রেমলিন মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প যদি গ্রিনল্যান্ড দখলে সফল হন, তবে তিনি শুধু যুক্তরাষ্ট্রের নয়, বিশ্ব ইতিহাসেও স্থান করে নেবেন—এমন মন্তব্যের সঙ্গে একমত না হওয়া কঠিন।
গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে এই নীরবতা বর্তমান মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের চেষ্টার অংশ বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা। ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি কাটিয়ে উঠতে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সংঘাতে না জড়ানোর কৌশল নিয়েছে মস্কো।
এর মধ্যেই ট্রাম্প দাবি করেছেন, তার প্রস্তাবিত ‘বোর্ড অব পিস’ বা শান্তি পরিষদে যোগ দিতে পুতিন সম্মত হয়েছেন। যদিও ক্রেমলিন জানিয়েছে, আমন্ত্রণটি এখনো পর্যালোচনাধীন। পুতিন জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নথিপত্র খতিয়ে দেখতে এবং কৌশলগত অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনা করতে বলা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, গ্রিনল্যান্ড প্রশ্নে পুতিনের এই নির্লিপ্ত অবস্থান আসলে উদাসীনতা নয়; বরং যুক্তরাষ্ট্র-ইউরোপ দ্বন্দ্বকে দূর থেকে পর্যবেক্ষণ করে লাভবান হওয়ার একটি সচেতন কৌশল।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au