বিতর্কিত ১০০ কোটি ডলারের এলএনজি চুক্তি, বড় ধরণের জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় বাংলাদেশ
বাংলাদেশের জ্বালানি খাত বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই রাজনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে উচ্চ ব্যয়ের একটি নতুন ভাসমান তরলীকৃত প্রাকৃতিক…
মেলবোর্ন ২৪ জানুয়ারি- চব্বিশের অভ্যুত্থানে ক্ষমতা হারানোর পর নির্বাসিত জীবনে প্রথমবারের মতো কোনো রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। ভারতের দিল্লিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অডিও বার্তার মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে তীব্র ভাষায় আক্রমণ শানান।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার দিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাবে ‘সেইভ ডেমোক্রেসি ইন বাংলাদেশ’ শিরোনামে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা সরাসরি উপস্থিত ছিলেন না। তবে সম্মেলনের একপর্যায়ে তার রেকর্ড করা অডিও বক্তব্য প্রচার করা হয়। সেখানে আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক একাধিক মন্ত্রী ও দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন এবং তারা সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন।
অডিও বার্তায় শেখ হাসিনা অন্তর্বর্তী সরকারকে ‘অবৈধ ও সহিংস’ আখ্যা দিয়ে বলেন, মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে বাংলাদেশ এখন ভয়, নৈরাজ্য ও গণতন্ত্রের নির্বাসনের এক যুগে প্রবেশ করেছে। বক্তব্যের বিভিন্ন অংশে তিনি ইউনূসকে বারবার ‘খুনি ফ্যাসিস্ট’, ‘মহাজন’, ‘অর্থপাচারকারী’ ও ‘ক্ষমতালোভী বিশ্বাসঘাতক’ বলে উল্লেখ করেন।
তিনি দাবি করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তাকে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছে। তার ভাষায়, ওই দিনের পর থেকেই দেশ ভয়াবহ সন্ত্রাসের যুগে প্রবেশ করেছে, যেখানে গণতন্ত্র নির্বাসিত, মানবাধিকার ধুলায় পদদলিত এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ধ্বংস হয়ে গেছে।
দেশের বর্তমান পরিস্থিতিকে শেখ হাসিনা বর্ণনা করেন ‘এক বিশাল কারাগার’ ও ‘মৃত্যুকূপ’ হিসেবে। তিনি অভিযোগ করেন, রাজধানী থেকে গ্রাম পর্যন্ত গণপিটুনি, লুটপাট ও চাঁদাবাজি চলছে এবং নারী ও সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা নির্বিঘ্নে চলতে দেওয়া হচ্ছে। তার মতে, আইনশৃঙ্খলা সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়েছে এবং জীবন ও সম্পত্তির কোনো নিরাপত্তা নেই।
মুহাম্মদ ইউনূসকে লক্ষ্য করে শেখ হাসিনা আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা দেশকে নিঃস্ব করে দিচ্ছেন এবং ভূখণ্ড ও সম্পদ বিদেশি স্বার্থের কাছে বিক্রি করে বাংলাদেশকে বহুজাতিক সংঘাতের ঝুঁকির দিকে ঠেলে দিচ্ছেন। তিনি তার সমর্থকদের উদ্দেশে বিদেশি স্বার্থে পরিচালিত ‘পুতুল সরকার’ উৎখাতের আহ্বানও জানান।
একই সঙ্গে তিনি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সব গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল ও অসাম্প্রদায়িক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। তার ভাষায়, শহীদের রক্তে লেখা সংবিধান পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে। আওয়ামী লীগকে তিনি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ও বহুত্ববাদী ঐতিহ্যের একমাত্র বৈধ ধারক হিসেবেও তুলে ধরেন।
অডিও বার্তায় শেখ হাসিনা পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করেন। এর মধ্যে রয়েছে ইউনূস সরকারকে সরিয়ে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি, সহিংসতা ও নৈরাজ্যের অবসান, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হয়রানি বন্ধ এবং গত এক বছরের ঘটনাবলি নিয়ে জাতিসংঘের অধীনে নিরপেক্ষ তদন্ত।
শেখ হাসিনার এই বক্তব্য বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিদ্যমান গভীর বিভাজনের প্রতিফলন। তিনি বর্তমান পরিস্থিতিকে সাধারণ রাজনৈতিক পরিবর্তন নয়, বরং মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ বনাম চরমপন্থা ও বিদেশি প্রভাবের মধ্যে এক অস্তিত্বের লড়াই হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছেন।
সুত্রঃ এনডিটিভি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au