আরব আমিরাতের বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। শনিবার দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)…
মেলবোর্ন, ২৪ জানুয়ারি- রংপুরে পুলিশ হেফাজতে মুকুল মিয়া (৪৫) নামে এক আসামির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। গ্রেপ্তারের কিছুক্ষণ পরই তাঁর মরদেহ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে রেখে পুলিশ চলে গেছে বলে অভিযোগ পরিবারের। এ ঘটনার প্রতিবাদে লাশ নিয়ে ঢাকা–দিনাজপুর মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন এলাকাবাসী। পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ধস্তাধস্তির ঘটনাও ঘটে।
নিহত মুকুল মিয়া পেশায় ট্রাকচালক। তাঁর বাড়ি রংপুর নগরের ধাপ চিকলীভাটা এলাকায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে কোতোয়ালি থানার এএসআই মনিরুল ইসলামের নেতৃত্বে কয়েকজন পুলিশ সদস্য তাঁদের বাড়িতে গিয়ে মুকুল মিয়াকে গ্রেপ্তার করেন। রংপুর মহানগরের পরশুরাম থানায় দায়ের করা গাড়িসংক্রান্ত একটি মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল বলে জানায় পরিবার। হাতকড়া পরিয়ে তাঁকে নিয়ে যাওয়ার পর কিছুক্ষণের মধ্যেই মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ।
মুকুলের স্ত্রী লাভলী বেগম বলেন, গ্রেপ্তারের কিছু সময় পর রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এক ওয়ার্ডবয় ফোন করে জানান, জরুরি বিভাগের সামনে তাঁর স্বামীর মরদেহ পড়ে আছে। হাসপাতালে গিয়ে তাঁরা মরদেহ দেখতে পান, কিন্তু সেখানে কোনো পুলিশ সদস্যকে পাননি। খবর ছড়িয়ে পড়লে রাতেই আত্মীয়স্বজন ও এলাকাবাসী হাসপাতালে জড়ো হন এবং প্রতিবাদে মেডিকেল মোড়ে মহাসড়ক অবরোধ করেন।
গভীর রাতে অবরোধ চলাকালে কোতোয়ালি থানার ওসি শাহজাহান আলী ঘটনাস্থলে গেলে বিক্ষোভকারীদের তীব্র ক্ষোভের মুখে পড়েন। একপর্যায়ে তাঁর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ধস্তাধস্তি হয় এবং তিনি ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
এ ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এএসআই মনিরুল ইসলাম ফোনে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানিয়ে ওসির সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। ওসি শাহজাহান আলীর সঙ্গেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। পরে পরিদর্শক (তদন্ত) রফিকুল ইসলাম জানান, পরিবারের লিখিত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে একজন ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে সুরতহাল প্রতিবেদন করা হয়েছে।
রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মজিদ আলী বলেন, ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ তদন্তে পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে লাভলী বেগমের অভিযোগ, ‘বাড়ি থেকে মানুষটাকে সুস্থ অবস্থায় নিয়ে যাওয়া হলো, আর কিছুক্ষণ পর আমরা শুধু তাঁর লাশ পেলাম। কীভাবে মৃত্যু হলো, তার কোনো জবাব আমরা পাইনি।’ ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au