মহানবীকে কটূক্তির অভিযোগে হিন্দু যুবক গ্রেপ্তার
মেলবোর্ন, ২২ এপ্রিল- খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটূক্তির অভিযোগে শ্যামল গাইন (২০) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার…
মেলবোর্ন, ২৫ জানুয়ারি- সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠিত বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন তার নতুন উদ্যোগ ‘বোর্ড অব পিস’। ট্রাম্প এই বোর্ডকে বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাত নিরসনে, দশকের পর দশক ধরে চলা দুর্ভোগের অবসান ঘটাতে এবং স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে অঞ্চলভিত্তিক ও বৈশ্বিক সংঘাতের সমাধান সম্ভব হবে।
তবে বিশ্বের অনেক পর্যবেক্ষক এবং কূটনীতিক মনে করছেন, এটি কেবল শান্তি প্রতিষ্ঠার একটি উদ্যোগ নয়। তারা বলছেন, এটি ট্রাম্পের পরিকল্পিত প্রচেষ্টা যাতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর গড়ে ওঠা আন্তর্জাতিক কাঠামো দুর্বল হয় এবং নতুন একটি প্রতিষ্ঠান তৈরি করা যায়, যা তার প্রভাবের অধীনে থাকবে
ফাঁস হওয়া খসড়া সনদের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প আজীবনের জন্য বোর্ডের চেয়ারম্যান থাকবেন। তার ক্ষমতার মধ্যে থাকবে সদস্য দেশ আমন্ত্রণ, সহায়ক উপ-সংস্থা গঠন বা বিলুপ্ত করা এবং নিজের উত্তরসূরি মনোনয়নের অধিকার। স্থায়ী সদস্য হতে চাওয়া কোনো দেশের জন্য নির্ধারিত মূল্য প্রায় ১০০ কোটি ডলার। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধরনের ব্যবস্থা বোর্ডকে শান্তি প্রতিষ্ঠার পরিবর্তে একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার আশঙ্কা বাড়াচ্ছে।
দাভোসে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আর্জেন্টিনা, আজারবাইজান, সাবেক সোভিয়েত প্রজাতন্ত্র থেকে উপসাগরীয় রাজ্য পর্যন্ত ১৯টি দেশ উপস্থিত ছিল। তবে সুইডেন অংশ নিচ্ছে না এবং নরওয়ে আরও আলোচনার আহ্বান জানিয়েছে। স্লোভেনিয়া প্রকাশ্যে উদ্বেগ জানিয়েছে, উদ্যোগটি আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপের স্বরূপ।
মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিমপ্রধান কয়েকটি দেশ জানিয়েছেন, তারা গাজায় ন্যায্য ও স্থায়ী শান্তির জন্য বোর্ডের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। তবে ফাঁস হওয়া খসড়া সনদে গাজার কোনো উল্লেখ নেই।
ট্রাম্পের উদ্যোগ জাতিসংঘের ভূমিকাকে নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। নিজে তিনি বলেছেন, জাতিসংঘ তার পূর্ণ সম্ভাবনার ব্যবহার করতে পারেনি এবং বোর্ড হয়তো একদিন জাতিসংঘের স্থলাভিষিক্তও হতে পারে। বিশ্লেষকরা বলছেন, নিরাপত্তা পরিষদের অচলাবস্থা, বড় শক্তিগুলোর দ্বন্দ্ব এবং চলমান যুদ্ধগুলো সংস্থাটির কার্যকারিতা দুর্বল করেছে। এই পরিস্থিতি ট্রাম্পের জন্য সুযোগ হিসেবে কাজ করেছে।
গাজা, ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের বোর্ড নতুন আশার বার্তা দেয়, তবে সমালোচকরা এটিকে ব্যক্তিগত মর্যাদা ও বৈশ্বিক প্রভাব বাড়ানোর একটি কৌশল হিসেবে দেখছেন। তারা সতর্ক করছেন, বোর্ড যদি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও প্রতিনিধিত্বশীল না হয়, তা দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর হবে না।
বিশ্ব এখন দেখছে, এই বোর্ড কি সত্যিই যুদ্ধবিধ্বস্ত পৃথিবীতে স্থায়ী শান্তির পথ খুলবে, নাকি আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক কাঠামোর মধ্যে নতুন বিভাজন ও অস্থিরতার সূত্রপাত ঘটাবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au