মেলবোর্ন ২৫ জানুয়ারি- কারাবন্দি বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দামের স্ত্রী ও ৯ মাসের শিশুপত্রের জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে পাশাপাশি দাফন করা হয়েছে।
শনিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রামে সাদ্দামের স্ত্রী কানিজ সুবর্ণা ওরফে স্বর্ণালী (২২) এবং তার ছেলে সেজাদ হাসান নাজিফকে দাফন করা হয়।
এর আগে শনিবার রাত সোয়া ১১টার দিকে স্থানীয় ঈদগাহ মাঠে মা ও ছেলের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় স্বজন, প্রতিবেশী ও স্থানীয়রা অংশ নেন।
আগের দিন শুক্রবার দুপুরে সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রামে কানিজ সুবর্ণার স্বামীর বাড়ি থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। একই স্থান থেকে তার ৯ মাস বয়সী শিশুসন্তানের নিথর দেহও উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি সারদেশে গভীর শোক ও আলোচনার সৃষ্টি করে।
ময়নাতদন্ত শেষে শনিবার দুপুরে মা ও ছেলের মরদেহ বাগেরহাট জেলা হাসপাতাল থেকে সুবর্ণার বাবার বাড়িতে নেওয়া হয়। সেখানে গোসল ও প্রস্তুতি শেষে বিকেল সোয়া চারটার দিকে মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্সে করে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয়।
কানিজ সুবর্ণার স্বামী সাদ্দাম বর্তমানে যশোর জেলা কারাগারে বন্দী রয়েছেন। স্ত্রী ও পু্ত্রের জানাজায় অংশ নিতে সাদ্দাম বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক এবং পরে যশোর জেলা প্রশাসকের কাছে প্যারোলে মুক্তির জন্য আবেদন করেছিলেন। কিন্তু তার আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়। পরে স্ত্রী ও পুত্রের মরদেহ যশোর কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। এই ঘটনা দেশব্যাপী তুমুল সমালোচনার জন্ম দেয়।
কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, মানবিক বিবেচনায় জুয়েলকে স্ত্রী ও সন্তানের মরদেহ শেষবারের মতো দেখার সুযোগ দেওয়া হয়। এ সময় তার পরিবারের ছয় সদস্যকে কারাফটকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, কয়েক বছর আগে কানিজ ও জুয়েলের বিয়ে হয়। সন্তানের জন্মের আগেই বিভিন্ন মামলায় জুয়েল কারাবন্দি হন।
কানিজ সুবর্ণার ভাই মো. শুভ বলেন, স্বামী কারাগারে থাকায় তাঁর বোন মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। তিনি বলেন, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত প্রয়োজন। “আমার দুলাভাই কোনো দিন ছেলেটাকে কোলে নিতে পারেনি। শেষবারের মতো যেন অন্তত দেখতে পারে, সেই চেষ্টাই করেছি,” বলেন তিনি।

সাদ্দামকে প্যারোলে মুক্তি না দেওয়ায় বিষয়ে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, যেহেতু সাদ্দাস যশোর কারাগারে বন্দী, তাই প্যারোলের আবেদন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে করতে হয়। তবে মরদেহ দেখার বিষয়ে প্রশাসন ও কারা কর্তৃপক্ষ সমন্বয় করে সহযোগিতা করেছে।
তবে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসকের এই দাবি সঠিক নয় জানিয়ে আইনজ্ঞরা বলছেন, আইন অনুযায়ী যে জেলায় মামলা, সেই জেলার প্রশাসক প্যারোলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেন।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সাদ্দাম ভারতে আত্মগোপনে ছিলেন। পরে গত বছরের ৫ এপ্রিল গোপালগঞ্জ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর থেকে তিনি বিভিন্ন মামলায় কারাবন্দি রয়েছেন।
পরিবারের দাবি, বারবার জামিনের চেষ্টা করেও জামিন না হওয়ায় পর তার স্ত্রী হতাশ হয়ে পড়েন। এক মামলায় জামিন হলে জেলগেটে আরেক মামলায় গ্রেপ্তার করা হয় সাদ্দামকে।