লোডশেডিংয়ের প্রকৃত চিত্র আড়াল করছে সরকার
মেলবোর্ন, ২২ এপ্রিল- বাংলাদেশে গরম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশে বিদ্যুতের সংকট আরও তীব্র হয়ে উঠেছে, আর সেই সংকটের বাস্তব চিত্র ও সরকারি হিসাবে বড় ধরনের…
মেলবোর্ন, ২৭ জানুয়ারি- ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে আটক করার অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র একটি গোপন অস্ত্র ব্যবহার করেছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই অস্ত্রকে তিনি ‘ডিসকম্বোবুলেটর’ নামে উল্লেখ করেছেন, যার মাধ্যমে শত্রুপক্ষের প্রতিরক্ষা ও যন্ত্রপাতি নিষ্ক্রিয় করা সম্ভব হয়েছে বলে তাঁর দাবি।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, অভিযানের সময় এই অস্ত্র ব্যবহার করায় মাদুরোকে আটক করা সহজ হয়েছে। তবে অস্ত্রটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তাঁর কিছু বলার এখতিয়ার নেই। সাক্ষাৎকারটি গত শনিবার প্রকাশিত হয়।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ট্রাম্পের দাবির বিষয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তাঁর মতে, ‘ডিসকম্বোবুলেটর’ নামে কোনো নির্দিষ্ট অস্ত্রের অস্তিত্ব নেই। বরং বিভিন্ন সামরিক ও সাইবার সক্ষমতার সমন্বিত ব্যবহারের কথাই ট্রাম্প ইঙ্গিত করেছেন। ওই কর্মকর্তা জানান, অভিযানের সময় ভেনেজুয়েলার আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা, যোগাযোগ নেটওয়ার্ক ও প্রতিরক্ষাব্যবস্থা অচল করতে সাইবার সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের সেনাদের বিভ্রান্ত করতে উচ্চমাত্রার শব্দব্যবস্থাও কাজে লাগানো হয়েছিল।
মার্কিন সেনাবাহিনীর কাছে অ্যাকটিভ ডিনায়েল সিস্টেম (এডিএস) নামে একটি তাপ বিকিরণ অস্ত্র রয়েছে, যা প্রাণঘাতী নয় বলে দাবি করা হয়। বিদ্যুৎচৌম্বকীয় তরঙ্গের মাধ্যমে এটি মানুষের ত্বকে তীব্র গরম অনুভূতি সৃষ্টি করে, ফলে আক্রান্ত ব্যক্তিকে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করে। মাদুরোকে আটক করার সময় এই অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়ার কয়েক দিন পর হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লেভিট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্ট রিপোস্ট করেন, যেখানে নিজেকে ভেনেজুয়েলার নিরাপত্তারক্ষী দাবি করা এক ব্যক্তির সাক্ষাৎকার ছিল। সেখানে তিনি বলেন, অভিযানের সময় তীব্র শব্দতরঙ্গের মতো কিছু অনুভূত হয়, যাতে তাদের মাথা ফেটে যাওয়ার উপক্রম হয়, নাক দিয়ে রক্ত পড়তে থাকে এবং অনেকে অচেতন হয়ে পড়েন। তবে এই বক্তব্য যাচাই করতে পারেনি সিএনএন।
গত ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের অভিযান শুরু হয়। প্রথম ধাপে দেশটির রাডার, যোগাযোগব্যবস্থা ও আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস করা হয়, যাতে মার্কিন হেলিকপ্টারগুলো নির্বিঘ্নে অগ্রসর হতে পারে। অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের ২০টি স্থল ও সামুদ্রিক ঘাঁটি থেকে ১৫০টির বেশি বোমারু ও নজরদারি বিমান ব্যবহৃত হয় বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফসের জেনারেল ড্যান কেইন।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, উপকূলীয় শহর হিগুয়েরোতে হামলায় একমুখী ড্রোনও ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে। এই শহরটি ভেনেজুয়েলার বিমান প্রতিরক্ষার গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। তবে ঠিক কোথা থেকে এবং কীভাবে মাদুরোকে আটক করা হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ করেনি যুক্তরাষ্ট্র।
সুত্রঃ সিএনএন
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au