চাঁদা না পেয়ে কক্সবাজারে গণেশ পালকে কুপিয়ে হত্যা
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- কক্সবাজার শহরে বাড়ি নির্মাণের চাঁদা না দেওয়ার জেরে গণেশ পাল (২৯) নামে এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৭ মার্চ)…
মেলবোর্ন, ২৭ জানুয়ারি- এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম মিত্র হিসেবে পরিচিত দক্ষিণ কোরিয়ার পণ্যে শুল্ক বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই ঘোষণার পর দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্কে নতুন করে টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়েছে।
গেল বছরে সই হওয়া একটি বাণিজ্য চুক্তির শর্ত সিউল পূরণে ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ করে ট্রাম্প কোরীয় পণ্যে শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘দক্ষিণ কোরিয়ার আইনপ্রণেতারা চুক্তিটি অনুমোদনের ক্ষেত্রে ধীরগতি দেখাচ্ছেন, অথচ যুক্তরাষ্ট্র চুক্তির আওতায় নিজেদের শুল্ক কমানোর বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে।’
তার ভাষায়, এই অসামঞ্জস্য মেনে নেওয়া যায় না। নতুন শুল্কহার গাড়ি, কাঠ, ওষুধসহ একাধিক পণ্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।
তবে দক্ষিণ কোরিয়া জানিয়েছে, শুল্ক বাড়ানোর বিষয়ে তারা এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো নোটিশ পায়নি। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ওয়াশিংটনের সঙ্গে দ্রুত আলোচনার আগ্রহ প্রকাশ করেছে সিউল।
দেশটির শিল্পমন্ত্রী কিম জং-কোয়ান বর্তমানে কানাডায় অবস্থান করলেও যত দ্রুত সম্ভব যুক্তরাষ্ট্র সফর করে মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লাটনিকের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে জানিয়েছে সরকার।
এই ঘোষণার প্রভাব তাৎক্ষণিকভাবে দক্ষিণ কোরিয়ার শেয়ারবাজারে পড়েছে। মঙ্গলবার সকালে দেশটির প্রধান সূচক কোসপি কিছুটা কমে গেলেও পরে বড় রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ঘুরে দাঁড়ানোয় সূচকটি প্রায় ১ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে লেনদেন হয়।
গত বছরের অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য চুক্তি হয়। সেখানে দক্ষিণ কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্রে ৩৫০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের অঙ্গীকার করে। যার একটি অংশ জাহাজ নির্মাণ খাতে ব্যয় হওয়ার কথা।
পরের মাসে দুই দেশ একমত হয় যে, দক্ষিণ কোরিয়া চুক্তিটি অনুমোদনের প্রক্রিয়া শুরু করলে যুক্তরাষ্ট্র কিছু পণ্যের ওপর শুল্ক কমাবে। চুক্তিটি গত ২৬ নভেম্বর থেকে দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় পরিষদে পর্যালোচনাধীন রয়েছে।
স্থানীয় গণমাধ্যমের ধারণা, আগামী মাসেই এটি অনুমোদন পেতে পারে।
শুল্ক বাড়ানোর এই সিদ্ধান্তের ফলে মূলত যুক্তরাষ্ট্রের আমদানিকারক কোম্পানিগুলোকেই বাড়তি কর দিতে হবে। দক্ষিণ কোরিয়া থেকে পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে এখন তাদের ২৫ শতাংশ শুল্ক পরিশোধ করতে হবে।
হোয়াইট হাউসে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ট্রাম্প নিয়মিতভাবে শুল্ককে পররাষ্ট্রনীতির চাপ তৈরির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন। সম্প্রতি কানাডা ও চীনের সঙ্গে সম্ভাব্য বাণিজ্য সম্পর্ক এবং গ্রিনল্যান্ড ইস্যু ঘিরেও শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন তিনি।
যদিও পরে কিছু ক্ষেত্রে সেই অবস্থান থেকে সরে আসেন ট্রাম্প। তবে এসব পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক মিত্র দেশের সঙ্গে সম্পর্কে অনিশ্চয়তা ও উত্তেজনা বাড়িয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার ক্ষেত্রেও নতুন শুল্ক সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হয় কি না, সেদিকেই এখন নজর আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিশ্লেষকদের।
সূত্র: বিবিসি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au