চাঁদা না পেয়ে কক্সবাজারে গণেশ পালকে কুপিয়ে হত্যা
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- কক্সবাজার শহরে বাড়ি নির্মাণের চাঁদা না দেওয়ার জেরে গণেশ পাল (২৯) নামে এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৭ মার্চ)…
মেলবোর্ন, ২৭ জানুয়ারি- বিশ্বের সবচেয়ে বড় দ্বীপ গ্রিনল্যান্ডে বাড়ির মালিক হওয়া যায় অনেকটাই সম্ভব, কিন্তু সেই বাড়ির নিচের জমি কেনা সম্ভব না। কারণ সেটা নিষিদ্ধ- এমনকি স্থানীয় নাগরিকদের জন্যও। এই ব্যতিক্রমী আইনের পেছনে আছে ইতিহাস, দর্শন ও সমষ্টিগত মালিকানার ধারণা।
বিশ্ব রাজনীতির মানচিত্রে গ্রিনল্যান্ড বারবার আলোচনায় এলেও, দ্বীপটির ভেতরের আইনকানুন অনেকের কাছেই অজানা। বিশেষ করে সম্পত্তির মালিকানা নিয়ে গ্রিনল্যান্ডের অবস্থান একেবারেই ব্যতিক্রম। এখানে কেউ চাইলে একটি বাড়ি কিনতে পারেন, সেখানে বসবাস করতে পারেন- কিন্তু যে জমির ওপর বাড়িটি দাঁড়িয়ে আছে, তার মালিকানা ব্যক্তিগতভাবে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আর এই অদ্ভুত আইনই গ্রিনল্যান্ডের ভূমি দর্শনের মূল ভিত্তি।
জমি ব্যক্তির নয়, জনগণের
গ্রিনল্যান্ডে সব জমির মালিক জনগণ সম্মিলিতভাবে। জমির দেখভাল ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব সরকারি কর্তৃপক্ষের হাতে। ব্যক্তিগত জমি মালিকানার ধারণা এখানে নেই বললেই চলে।
এই ব্যবস্থার পেছনে রয়েছে একটি বিশ্বাস- জমি কোনো পণ্য নয়, বরং একটি যৌথ সম্পদ। গ্রিনল্যান্ডবাসীর মতে, প্রকৃতি ও ভূমি সবার জন্য, কাউকে আলাদাভাবে মালিকানা দিয়ে সেটিকে সীমাবদ্ধ করা উচিত নয়।
তাহলে বাড়ির মালিকানা কীভাবে সম্ভব
গ্রিনল্যান্ডে জমি কেনা না গেলেও, জমির ওপর নির্মিত বাড়ি বা স্থাপনার মালিক হওয়া যায়। একে বলা হয় ‘সাইট বরাদ্দ’ বা জমি ব্যবহারের অধিকার। পৌরসভা নির্দিষ্ট উদ্দেশে নির্দিষ্ট জায়গা ব্যবহারের অনুমতি দেয়। এই অনুমতির ভিত্তিতেই কেউ বাড়ি নির্মাণ বা কেনার সুযোগ পান। তবে জমি ব্যবহারের অধিকার ছাড়া কোনো বাড়ি কেনাবেচা সম্ভব নয়।
কোন কোন কাজে সাইট বরাদ্দ দেওয়া হয়
গ্রিনল্যান্ডে সাইট বরাদ্দের জন্য আবেদন করা যায়- নতুন বাড়ি বা ভবন নির্মাণ।
বিদ্যমান বাড়ির সম্প্রসারণ।
বাড়ি কেনার পর জমি ব্যবহারের অনুমতি।
গাড়ি পার্কিং বা অবকাঠামো নির্মাণ।
দোকানকে আবাসিক ভবনে রূপান্তর।
পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা স্থাপন।
সব আবেদন সংশ্লিষ্ট পৌরসভায় জমা দিতে হয় এবং প্রতিটি ক্ষেত্রেই সরকারি অনুমোদন প্রয়োজন।
কারা সম্পত্তি কিনতে পারেন
গ্রিনল্যান্ড, ডেনমার্ক বা ফ্যারো দ্বীপপুঞ্জের নাগরিক না হলে সেখানে সরাসরি সম্পত্তি কেনা যায় না। তবে কেউ যদি টানা দুই বছর গ্রিনল্যান্ডে বসবাস করেন এবং নিয়মিত কর প্রদান করেন, তাহলে তিনি বাড়ি বা সম্পত্তির মালিক হওয়ার জন্য আবেদন করতে পারেন।
বাড়ির আকার নির্ধারিত হয় পরিবারের সদস্যসংখ্যা অনুযায়ী। তবে রাজধানী নুকের মতো জনবহুল শহরগুলোতে আবাসন সংকট তীব্র হওয়ায় অপেক্ষার তালিকা দীর্ঘ।
আবাসন সংকটের বাস্তব চিত্র
নর্ডিক কো-অপারেশনের তথ্য অনুযায়ী, গ্রিনল্যান্ডের বড় শহরগুলোতে বাড়ির সংকট দিন দিন বাড়ছে। ফলে বাইরে থেকে কাজ করতে আসা মানুষদের জন্য ভাড়া বাসা পাওয়া কঠিন হয়ে উঠেছে। এই কারণে অনেক নিয়োগকর্তা কর্মীদের জন্য আলাদা আবাসনের ব্যবস্থা করেন। রাজধানী নুকে পৌরসভা পরিচালিত ভাড়া বাসা পেতে অপেক্ষা করতে হয় ১০ থেকে ১২ বছর পর্যন্ত।
আইন নয়, দর্শনের প্রতিফলন
গ্রিনল্যান্ডের এই সম্পত্তি আইন কেবল প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়- এটি তাদের জীবনদর্শনের প্রতিফলন। এখানে জমি মানে মালিকানা নয়, বরং দায়িত্ব। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ভূমিকে রক্ষা করাই গ্রিনল্যান্ডবাসীর মূল লক্ষ্য।
বিশ্বের অনেক দেশে জমি বিনিয়োগের প্রধান মাধ্যম হলেও, গ্রিনল্যান্ডে চিত্রটা সম্পূর্ণ ভিন্ন। এখানে বাড়ি আপনার হতে পারে, কিন্তু জমি নয়। কারণ গ্রিনল্যান্ডের কাছে জমি কোনো ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়- এটি জনগণের যৌথ উত্তরাধিকার।
সূত্র: এনডিটিভি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au