‘সমাজ সংস্কার’-এর নামে গ্রামে নোটিশ জারি গানবাজনা বন্ধের ঘোষণা
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার একটি গ্রামে ‘সমাজ সংস্কার’-এর কথা বলে গানবাজনা ও বাদ্যযন্ত্র বাজানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করে নোটিশ জারি করেছিল স্থানীয় একটি জামে…
মেলবোর্ন, ২৭ জানুয়ারি- শুল্কযুদ্ধ, বাণিজ্য উত্তেজনা এবং কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ঐতিহাসিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করল ভারত। এই চুক্তিকে ‘মাদার অফ অল ডিলস’ আখ্যা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, এটি শুধু ভারত ও ইউরোপের জন্য নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতির ক্ষেত্রেও একটি বড় মাইলফলক। কূটনৈতিক মহলের মতে, এই চুক্তির মাধ্যমে কার্যত যুক্তরাষ্ট্রকে একঘরে করে দিল ভারত ও ইউরোপ।
মঙ্গলবার সকালে ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তনিও কোস্টা এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েনের উপস্থিতিতে এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে সই করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। চুক্তি সইয়ের পর প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে এমন একটি বড় সমঝোতা হয়েছে, যাকে বিশ্ব ‘মাদার অফ অল ডিলস’ বলে উল্লেখ করছে। তাঁর ভাষায়, এই চুক্তি দুই অঞ্চলের নাগরিকদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করবে এবং বিশ্বের প্রধান দুই অর্থনীতির মধ্যে অংশীদারিত্বের এক অনন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে।
নরেন্দ্র মোদি বলেন, ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই অংশীদারিত্ব বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলবে। তাঁর দাবি, এই চুক্তির আওতায় থাকা দেশগুলো একসঙ্গে বিশ্বের মোট জিডিপির প্রায় ২৫ শতাংশ এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের এক-তৃতীয়াংশের প্রতিনিধিত্ব করবে। এমনিতেই ইউরোপীয় ইউনিয়ন ভারতের অন্যতম বড় বাণিজ্যিক অংশীদার। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ভারত ও ইউরোপের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ১৩৫ বিলিয়ন ডলার। নতুন এই চুক্তির ফলে সেই বাণিজ্য আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই চুক্তির অন্যতম বড় দিক হলো, ইউরোপের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যে মার্কিন নির্ভরতা কমে আসবে। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য চুক্তি না হওয়া এবং পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপের কারণে ভারতীয় বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে ইউরোপের সঙ্গে এই সমঝোতাকে বিকল্প ও কৌশলগত বাজার হিসেবে দেখছে নয়াদিল্লি।
সূত্রের খবর, চুক্তির আওতায় ইউরোপীয় দেশগুলো থেকে আমদানি হওয়া উচ্চমূল্যের গাড়ির ওপর শুল্ক উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে পারে। যেসব গাড়ির আমদানিমূল্য ১৫ হাজার ইউরোর বেশি, সেগুলোর ওপর বর্তমানে প্রায় ১১০ শতাংশ শুল্ক রয়েছে। নতুন চুক্তির পর তা কমে প্রায় ৪০ শতাংশের কাছাকাছি নেমে আসতে পারে। এর ফলে বিএমডব্লিউ, মার্সিডিজ বেঞ্জসহ ইউরোপীয় নামী ব্র্যান্ডের গাড়ি ভারতের বাজারে তুলনামূলকভাবে সস্তা হতে পারে।
এ ছাড়া বিদেশি ওয়াইনের ওপর শুল্ক কমানোর বিষয়টিও এই চুক্তির অংশ হিসেবে আলোচনায় রয়েছে। চুক্তি কার্যকর হলে দেশের বাজারে ইউরোপীয় ওয়াইনও কম দামে পাওয়া যেতে পারে। তবে ভারতের দুধ, দুগ্ধজাত পণ্য এবং কৃষিখাতকে এই চুক্তির বাইরে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে উৎপাদন শিল্প, প্রযুক্তি, শক্তিসম্পদ এবং ওষুধ শিল্পকে চুক্তির আওতায় আনা হয়েছে, যা ভারতের রপ্তানি সক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছিল ২০০৭ সালে। দীর্ঘ ১৮ বছরের টানাপোড়েন, স্থবিরতা এবং পুনরায় আলোচনার পর অবশেষে এটি বাস্তবায়নের পথে এগোল। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন এই চুক্তিকে ‘মাদার অফ অল ডিলস’ বলে অভিহিত করেন। যদিও ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশের সঙ্গে চুক্তির বিস্তারিত শর্ত এখনো সরকারিভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
চুক্তি সই হলেও তা পুরোপুরি কার্যকর হতে সময় লাগবে বলে জানানো হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ২০২৭ সাল থেকে ধাপে ধাপে ভারত ও ইউরোপের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য কার্যক্রম শুরু হবে।
এই চুক্তির রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক তাৎপর্যও কম নয়। একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে অচলাবস্থা, অন্যদিকে গ্রিনল্যান্ড ইস্যুসহ বিভিন্ন কারণে ইউরোপের সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কযুদ্ধ ইউরোপীয় নেতৃত্বের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি অনাস্থা তৈরি করেছে। এই পরিস্থিতিতে ভারত ও ইউরোপের ঘনিষ্ঠতা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে কার্যত একঘরে করে দিল বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকেরা।
সব মিলিয়ে, ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি শুধু অর্থনৈতিক নয়, বৈশ্বিক রাজনীতিতেও নতুন সমীকরণ তৈরি করতে যাচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।
সূত্রঃ রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au