রংপুরে পাটক্ষেতে মিলল নিখোঁজ শিশুর মরদেহ
মেলবোর্ন, ২০ জুন- রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর সানজিদা নামের নয় বছর বয়সী এক মাদরাসাছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার সকালে উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের…
মেলবোর্ন, ২৮ জানুয়ারি- রাজধানীর নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের আবাসন সংকট নিরসনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) যে প্রকল্পগুলো হাতে নিচ্ছে, বাস্তবে সেগুলোর চিত্র ভিন্ন বলে অভিযোগ উঠছে। কাগজে-কলমে ‘সাশ্রয়ী আবাসন’ হলেও ব্যয় ও সুবিধাভোগীদের দিক থেকে এসব প্রকল্প ক্রমেই বিলাসী আবাসনে পরিণত হচ্ছে। উত্তরার ১৭ নম্বর সেক্টরে প্রস্তাবিত নতুন আবাসন প্রকল্প তারই একটি উদাহরণ।
রাজউকের প্রস্তাবিত এই প্রকল্পে ৯৪০ কোটি ৪৬ লাখ টাকা ব্যয়ে মাত্র ৫৯২টি ফ্ল্যাট নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। হিসাব অনুযায়ী, প্রতিটি ফ্ল্যাটের গড় ব্যয় দাঁড়াচ্ছে এক কোটি ৫৮ লাখ টাকার বেশি। সরকারি জমিতে নির্মিত এই ফ্ল্যাটগুলো যাদের জন্য বলা হচ্ছে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষ, তাদের জন্য এই মূল্য কার্যত অধরাই থেকে যাচ্ছে।
এর আগেও রাজউকের ‘সাশ্রয়ী আবাসন’ প্রকল্প নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সর্বশেষ উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টরের প্রকল্প বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রায় ১ হাজার ৬৫০ বর্গফুট আয়তনের ফ্ল্যাটগুলোর প্রাথমিক মূল্য ধরা হয়েছিল প্রায় ৮০ লাখ টাকা। তবে বরাদ্দের ক্ষেত্রে নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের বদলে প্রভাবশালী ও ধনাঢ্য ব্যক্তিরাই এগিয়ে ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বরাদ্দ পাওয়ার পর অনেকেই এসব ফ্ল্যাট বাজারে বিক্রি করে দিয়েছেন, যেখানে বর্তমানে প্রতিটি ফ্ল্যাটের দাম দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৩০ লাখ থেকে দেড় কোটি টাকা পর্যন্ত।
নতুন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে উত্তরা আবাসিক মডেল টাউন তৃতীয় পর্যায়ের আওতায়। মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী এলাকা ভাগ করা হয়েছে ১৫, ১৬, ১৭ ও ১৮ নম্বর সেক্টরে। এর মধ্যে ১৭ নম্বর সেক্টরের ‘জে’ ব্লকে পাঁচ বছর মেয়াদি এই প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজউক। প্রকল্পের পুরো অর্থ ব্যয় হবে সরকারি কোষাগার থেকে।
ডিপিপি অনুযায়ী, ছয়তলা বিশিষ্ট ছয়টি আবাসিক ভবনে ৬০০ নেট বর্গফুটের ৩০৮টি এবং ৪০০ নেট বর্গফুটের ২৮৪টি ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি একটি বেজমেন্টসহ ১২ তলা বাণিজ্যিক ভবন ও ছয়তলা মসজিদ ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। অবকাঠামোর অংশ হিসেবে অভ্যন্তরীণ সড়ক, ফুটপাত, পার্ক, খেলার মাঠ, পাম্প হাউস, সাবস্টেশন এবং নিরাপত্তা গেট নির্মাণের কথাও বলা হয়েছে।
তবে প্রকল্পের ব্যয় বিশ্লেষণে অস্বাভাবিকতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। শুধু আবাসিক ভবন নির্মাণেই ব্যয় ধরা হয়েছে ২৮৩ কোটি টাকার বেশি। ভূমি উন্নয়ন, ল্যান্ডস্ক্যাপিং ও পার্ক নির্মাণে বরাদ্দ ১৬১ কোটি টাকা। অনাবাসিক ভবনে ২৫৬ কোটি টাকা এবং বৈদ্যুতিক সরঞ্জামাদিতে ৫৭ কোটি টাকার বেশি ব্যয় ধরা হয়েছে। এর বাইরে সেমিনার, সভা, উৎসব ভাতা, পরামর্শ সেবা, প্রচার-প্রচারণা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও যানবাহন কেনাসহ বিভিন্ন খাতে রয়েছে কোটি কোটি টাকার বরাদ্দ।
সব মিলিয়ে সরকারি জমিতে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য আবাসন নির্মাণের নামে নেওয়া এই প্রকল্পে ব্যয় ও লক্ষ্য জনগোষ্ঠীর মধ্যে স্পষ্ট বৈপরীত্য তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবে নিম্ন ও মধ্যবিত্তের আবাসন সংকট কমানোর বদলে সরকারি সম্পদের অপচয় এবং ধনীদের সুবিধা বাড়াচ্ছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজউকের নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ মো. গোলাম রাব্বী কালবেলা পত্রিকাকে বলেন, উত্তরায় নতুন এই প্রকল্পটি রাজউকের অধিগ্রহণ করা জমিতে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে এবং এটি নিম্নবিত্তদের কথা মাথায় রেখেই নেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত ব্যয় ধরা হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, নিয়ম মেনেই সব খাতে ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে বাস্তব চিত্র ও ব্যয়ের অঙ্ক সামনে আসায় ‘সাশ্রয়ী আবাসন’ প্রকল্প আসলে কার জন্য, সেই প্রশ্নই এখন সবচেয়ে বড় হয়ে উঠেছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au