মেলবোর্ন, ২০ জুন- রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর সানজিদা নামের নয় বছর বয়সী এক মাদরাসাছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার সকালে উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের ভীমপুর করানীপাড়া এলাকায় ডালিয়া ক্যানেলের পাশের একটি পাটক্ষেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত সানজিদা ভীমপুর গ্রামের সাইদুল ইসলামের মেয়ে এবং স্থানীয় একটি মাদরাসার শিক্ষার্থী ছিল। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেলে বাড়ির পাশেই সমবয়সী শিশুদের সঙ্গে খেলাধুলা করছিল সে। একপর্যায়ে তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলেও বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন।
পরে আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী এবং স্থানীয় লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় রাতভর খোঁজাখুঁজি চালানো হয়। কিন্তু কোথাও তার সন্ধান মেলেনি। নিখোঁজ শিশুকে ফিরে পাওয়ার আশায় পুরো রাত উৎকণ্ঠার মধ্যে কাটে পরিবারের।
শনিবার সকালে স্থানীয় কয়েকজন কৃষক ডালিয়া ক্যানেলের পাশে একটি পাটক্ষেতে শিশুটির মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে আশপাশের লোকজনকে খবর দেন। পরে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন পরিবারের সদস্যরা। সেখানে গিয়ে তারা মরদেহটি সানজিদার বলে শনাক্ত করেন।
খবর পেয়ে তারাগঞ্জ থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। পরবর্তীতে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের এলাকা থেকে শত শত মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় করেন। শিশুটির স্বজনদের কান্না আর আহাজারিতে পুরো এলাকা ভারী হয়ে ওঠে। অনেকেই এ ঘটনাকে মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক বলে অভিহিত করেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সানজিদা অত্যন্ত শান্ত, ভদ্র এবং সবার প্রিয় একটি শিশু ছিল। তার এমন করুণ মৃত্যু কেউ মেনে নিতে পারছেন না। গ্রামের মানুষের মধ্যে এখন আতঙ্ক ও নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে ঘটনাটি।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল ছাত্তার বলেন, “শুক্রবার বিকেল থেকেই মেয়েটিকে খুঁজছিল পরিবার। আমরাও খোঁজাখুঁজিতে অংশ নিয়েছিলাম। সকালে তার মরদেহ পাওয়ার খবর শুনে আমরা হতবাক হয়ে গেছি।”
আরেক বাসিন্দা রহিমা বেগম বলেন, “সানজিদা ছিল সবার আদরের মেয়ে। এমন মৃত্যু খুবই কষ্টের। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চাই এবং কীভাবে এ ঘটনা ঘটল তার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের দাবি জানাই।”
তারাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিন জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছে এবং ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠিয়েছে। তিনি বলেন, “ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।”
এদিকে ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।