রংপুরে পাটক্ষেতে মিলল নিখোঁজ শিশুর মরদেহ
মেলবোর্ন, ২০ জুন- রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর সানজিদা নামের নয় বছর বয়সী এক মাদরাসাছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার সকালে উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের…
মেলবোর্ন, ২০ জুন- দীর্ঘ চার বছর পর স্ত্রী মেগান মার্কেল ও দুই সন্তান প্রিন্স আর্চি এবং প্রিন্সেস লিলিবেটকে নিয়ে নিজ দেশ যুক্তরাজ্যে ফিরতে যাচ্ছেন প্রিন্স হ্যারি। এই সফরকে ব্রিটিশ রাজপরিবারে সম্পর্ক পুনর্গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হলেও, বড় ভাই প্রিন্স উইলিয়ামের সঙ্গে তাঁর বহু বছরের দূরত্ব এখনো কাটেনি বলে জানিয়েছে ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো।
রাজপরিবারের ভেতরের সূত্রের দাবি, গত কয়েক বছরে প্রিন্স হ্যারি একাধিকবার প্রিন্স উইলিয়ামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছেন। তবে সেই উদ্যোগের জবাবে খুব একটা সাড়া পাওয়া যায়নি। ফলে রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করলেও দুই ভাইয়ের সম্পর্কে এখনো স্বাভাবিকতা ফেরেনি।
ছবি : সংগৃহীত
আগামী মাসে যুক্তরাজ্য সফরে হ্যারি ও মেগানের মূল কর্মসূচি হবে বার্মিংহামে অনুষ্ঠিতব্য ইনভিকটাস গেমসের এক বছর বাকি থাকা উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া। পাশাপাশি বিভিন্ন দাতব্য সংস্থা ও সামাজিক কার্যক্রমেও অংশ নেবেন তারা।
পর্যবেক্ষকদের মতে, ২০২০ সালে রাজপরিবারের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। বিশেষ করে নেটফ্লিক্স ডকুমেন্টারি এবং প্রিন্স হ্যারির আত্মজীবনী স্পেয়ার-এ প্রকাশিত অভিযোগগুলো দুই ভাইয়ের সম্পর্কের অবনতিতে বড় ভূমিকা রাখে।
বইটিতে হ্যারি দাবি করেছিলেন, ২০১৯ সালে মেগান মার্কেলকে ঘিরে এক তর্কের সময় প্রিন্স উইলিয়াম তাঁর ওপর শারীরিকভাবে চড়াও হয়েছিলেন। এছাড়া মেগান ও বর্তমান প্রিন্সেস অব ওয়েলস ক্যাথরিনের সম্পর্ক নিয়েও বেশ কিছু বিতর্কিত তথ্য প্রকাশ্যে আসে, যা রাজপরিবারে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করেছিল।
সূত্রগুলো বলছে, প্রিন্স উইলিয়াম এখনো পরিবারের ব্যক্তিগত বিষয় প্রকাশ্যে আনা এবং স্ত্রী ক্যাথরিনকে ঘিরে করা সমালোচনা সহজভাবে নিতে পারেননি। ফলে দুই ভাইয়ের সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা থাকলেও তা এখনো বাস্তবে রূপ নেয়নি।
অন্যদিকে রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে প্রিন্স হ্যারির যোগাযোগ আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। গত বছর উভয় পক্ষের প্রতিনিধিদের মধ্যে একাধিক বৈঠক এবং সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে বলে জানা গেছে।
এই সফরের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, প্রিন্স আর্চি ও প্রিন্সেস লিলিবেট দীর্ঘদিন পর যুক্তরাজ্যে ফিরছে। বিশেষ করে লিলিবেটের জন্য এটি হবে জীবনের দ্বিতীয় ব্রিটেন সফর। ফলে রাজা চার্লসের সঙ্গে নাতি-নাতনিদের পুনর্মিলনের সুযোগও তৈরি হচ্ছে।
নিরাপত্তা ইস্যু দীর্ঘদিন ধরে হ্যারির ব্রিটেন সফরের প্রধান বাধা ছিল। তিনি বহুবার অভিযোগ করেছেন, রাজকীয় দায়িত্ব ছাড়ার পর তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা পর্যাপ্তভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। তবে ঘনিষ্ঠ সূত্রের ভাষ্য, এবার যুক্তরাজ্য সফরের সিদ্ধান্ত নেওয়ার অর্থ হলো তিনি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে সন্তুষ্ট হয়েছেন।
সব মিলিয়ে, প্রিন্স হ্যারি ও মেগানের আসন্ন ব্রিটেন সফর রাজপরিবারে সম্পর্ক পুনর্গঠনের নতুন সম্ভাবনার জন্ম দিলেও প্রিন্স উইলিয়াম ও প্রিন্স হ্যারির বহু আলোচিত দ্বন্দ্ব এখনো ব্রিটিশ রাজপরিবারের সবচেয়ে বড় অমীমাংসিত অধ্যায় হয়ে রয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au