আংশিক খুলছে কাতারের আকাশপথ, ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বাংকারে লাখো ইসরায়েলি
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনা ও সামরিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে কাতার সীমিত পরিসরে তাদের আকাশপথ আবার খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।…
মেলবোর্ন, ২৮ জানুয়ারি- অস্ট্রেলিয়ার পার্থ শহরে ইনভেশন ডে উপলক্ষে ২৬ জানুয়ারি আয়োজিত এক সমাবেশে বোমা নিক্ষেপের অভিযোগকে সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে তদন্ত করছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলো। ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া (ডব্লিউএ) পুলিশ, অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশ (এএফপি) এবং দেশটির অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা এএসআইও যৌথভাবে এ ঘটনার তদন্ত চালাচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ।
এক যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, তদন্ত এখনও চলমান এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হিসেবে ৩১ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে জননিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেলা ও বিস্ফোরক আইনে একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রয়োজনে আরও অভিযোগ আনা হতে পারে। তবে বর্তমানে জনসাধারণের জন্য কোনো তাৎক্ষণিক নিরাপত্তা হুমকি নেই।
ডব্লিউএ পুলিশের দাবি, ওই ব্যক্তি দুই হাজারের বেশি মানুষের সমাবেশে একটি হাতে তৈরি বিস্ফোরক নিক্ষেপ করেছিলেন, যার উদ্দেশ্য ছিল সেটি বিস্ফোরণ ঘটানো। তবে অজ্ঞাত কারণে বিস্ফোরকটি বিস্ফোরিত হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, বোমাটি একটি শিশুর মোজার ভেতরে লুকানো ছিল এবং আঘাত লাগলেই বিস্ফোরণের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছিল। এর ভেতরে ছিল বল বেয়ারিং, স্ক্রু এবং তরল বিস্ফোরক ।
ঘটনার পরপরই বিষয়টি ঘিরে ব্যাপক উদ্বেগ ও নানা প্রশ্ন তৈরি হয়। বিশেষ করে পুলিশ কেন শুরুতে ঘটনাটিকে সরাসরি ‘সন্ত্রাসী হামলা’ হিসেবে ঘোষণা করেনি, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। অনেকের মতে, মানুষের ভিড়ে ঠাসা একটি জনসমাবেশে বিস্ফোরক নিক্ষেপের অভিযোগ থাকলে সেটিকে সন্ত্রাসী হামলার বৈশিষ্ট্য হিসেবেই দেখা যায়।
এ বিষয়ে টরেস স্ট্রেইট আইল্যান্ডার কমিশনার কেটি কিস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট শেয়ার করে বলেন, এসব প্রশ্ন তোলার যথেষ্ট কারণ আছে। ওই পোস্টে বলা হয়, “অন্য কোনো অনুষ্ঠানে এমন ঘটনা ঘটলে আমরা একে সন্ত্রাসবাদই বলতাম।” পোস্টটির লেখক গুনডুংগুরা সম্প্রদায়ের সদস্য ও পরামর্শক জ্যাকব জেমস প্রশ্ন তুলেছেন, কেন ফার্স্ট নেশনস জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে হামলার ক্ষেত্রে এই দ্বিধা দেখা যাচ্ছে।
একই ধরনের মন্তব্য করেন ‘হরিবল মিন ব্যাড ওম্যান’ নামে পরিচিত এক জনপ্রিয় ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারী। তিনি বলেন, ফার্স্ট নেশনস জনগণ ও তাদের সমর্থকদের লক্ষ্য করেই এই সহিংসতার চেষ্টা করা হয়েছে, যা বিষয়টিকে আরও গুরুতর করে তোলে।
এ বিষয়ে ডব্লিউএ পুলিশের কমিশনার কর্নেল ব্লাঞ্চ জানান, তদন্তের এই পর্যায়ে ঘটনাটিকে ‘শত্রুতামূলক হামলা’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তার ভাষায়, কোনো ঘটনাকে সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে চিহ্নিত করতে হলে রাজনৈতিক, ধর্মীয় বা আদর্শগত উদ্দেশ্য প্রমাণ করতে হয়। সেই উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় সন্ত্রাসী হামলা ঘোষণা করলে যে অতিরিক্ত ক্ষমতা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পায়, সেগুলোর প্রয়োজন এই মুহূর্তে হয়নি। কারণ অভিযুক্ত ব্যক্তি ইতোমধ্যেই পুলিশের হেফাজতে এবং জনসাধারণের জন্য আর কোনো তাৎক্ষণিক ঝুঁকি নেই।
সন্ত্রাসবাদ গবেষকরা বলছেন, এককভাবে কাজ করা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে আদর্শগত উদ্দেশ্য চিহ্নিত করা কঠিন হয়ে পড়ে। কার্টিন এক্সট্রিমিজম রিসার্চ নেটওয়ার্কের পরিচালক বেন রিচ বলেন, কেউ কেউ শুধুই ভয় সৃষ্টি করার জন্য এমন কাজ করতে পারে, যার পেছনে স্পষ্ট কোনো মতাদর্শ নাও থাকতে পারে। তবে সন্ত্রাসবাদ আর সাধারণ সহিংসতার মধ্যে পার্থক্য নির্ধারণে এই উদ্দেশ্য শনাক্ত করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
সমাবেশের আয়োজক ফ্যাবিয়ান ইয়ারান দাবি করেছেন, ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন এবং এটি যদি ফার্স্ট নেশনস জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী হামলা বা ঘৃণাজনিত অপরাধ হিসেবে প্রমাণিত হয়, তবে সে অনুযায়ী অভিযোগ আনা উচিত। তিনি অভিযোগ করেন, ঘটনার পর প্রথম ২৪ ঘণ্টায় পুলিশ, সরকার ও গণমাধ্যমের প্রতিক্রিয়া যথেষ্ট ছিল না।
রাজনৈতিক নেতারাও ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। আদিবাসী বিষয়ক মন্ত্রী সিনেটর মালার্নদিরি ম্যাকার্থি বলেন, শান্তিপূর্ণ সমাবেশে অংশ নেওয়ার সময় কারও নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা থাকা উচিত নয়। প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ ঘটনাটিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন।
ঘটনার দিন সমাবেশস্থলে পুলিশের হঠাৎ উপস্থিতি এবং লোকজন সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়েও সমালোচনা উঠেছে। অনেক অংশগ্রহণকারী বুঝতে পারেননি কী ঘটছে। মাইকে বারবার আতঙ্ক না ছড়িয়ে ধীরে সরে যাওয়ার অনুরোধ করা হয়। পরে পুলিশ জানায়, হঠাৎ ‘বোমা’ শব্দ ব্যবহার করলে বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারত, তাই নিয়ন্ত্রিতভাবে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।
তবে এখনও পর্যন্ত এই ঘটনাকে আনুষ্ঠানিকভাবে সন্ত্রাসী হামলা ঘোষণা করেনি ডব্লিউএ পুলিশ। তদন্ত শেষ হলে বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সূত্রঃ এবিসি নিউজ
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au