মহানবীকে কটূক্তির অভিযোগে হিন্দু যুবক গ্রেপ্তার
মেলবোর্ন, ২২ এপ্রিল- খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটূক্তির অভিযোগে শ্যামল গাইন (২০) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার…
মেলবোর্ন, ৩০ জানুয়ারি- সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির হাতে আটক জেলেদের উদ্ধারে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ চেয়েছেন নিখোঁজদের স্বজনেরা। তাঁদের অভিযোগ, গত পাঁচ মাসে টেকনাফ ও সেন্ট মার্টিন এলাকার অন্তত ৪২০ জন জেলেকে বাংলাদেশের জলসীমা থেকে ধরে নিয়ে গেছে আরাকান আর্মি। এত দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তাঁদের উদ্ধারে কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।
আজ বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা অনুষ্ঠানে এই অভিযোগ ও দাবি তুলে ধরা হয়। ‘দ্বীপের নারীরা: সেন্ট মার্টিন দ্বীপের জন্য একটি পরিবেশগত নারীবাদের দৃষ্টিভঙ্গি’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সেন্টার ফর ক্রিটিক্যাল ডিসকোর্স।
অনুষ্ঠানে অংশ নিতে সেন্ট মার্টিন থেকে ঢাকায় আসেন হুমায়রা বেগম ও রাবেয়া বেগম। তাঁদের স্বামীদের গত সেপ্টেম্বর মাসে মাছ ধরার সময় আরাকান আর্মি ধরে নিয়ে যায়। প্রায় পাঁচ মাস ধরে স্বামীদের কোনো খোঁজ না পেয়ে চরম অনিশ্চয়তা ও মানবেতর জীবনযাপন করছেন তাঁরা।
নিজের কষ্টের কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন হুমায়রা বেগম। তিনি বলেন, স্বামী বেঁচে আছে নাকি মারা গেছে, পাঁচ মাসেও সেটুকু জানার সুযোগ হয়নি। দুই সন্তান নিয়ে আধপেটা খেয়ে দিন কাটছে। এর ওপর রয়েছে দাদনের ঋণের চাপ। তিনি বলেন, সরকারের কাছে একটাই দাবি, তাঁর স্বামীকে জীবিত বা মৃত যেভাবেই হোক খুঁজে বের করার উদ্যোগ যেন নেওয়া হয়।
রাবেয়া বেগমও একই ধরনের দুর্দশার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, নিজের দেশের জলসীমার মধ্যেও এখন মাছ ধরতে গিয়ে নিরাপত্তা নেই। আরাকান আর্মি ধরে নিয়ে যাচ্ছে, আর সরকার তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারছে না। অবিলম্বে তাঁর স্বামীকে উদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
নিখোঁজ দুই জেলের মা মদিনা বেগম বলেন, কৈশোরে স্বামী হারিয়ে অনেক কষ্টে ছেলেদের বড় করেছিলেন। এখন তাঁর সেই ছেলেরা বন্দী অবস্থায় রয়েছে। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে একবার সন্তানদের মুখ দেখে যেতে চান বলে সরকারের কাছে আকুল আবেদন জানান তিনি।
সেন্ট মার্টিনের বাসিন্দা মো. যোবায়ের বলেন, পর্যটন মাত্র দুই মাসের হলেও দ্বীপবাসীর বংশপরম্পরার প্রধান পেশা মাছ ধরা। সেই পেশার ওপরই এখন বড় ধরনের আঘাত এসেছে। মাছ ধরতে গেলেই জেলেদের অপহরণ করা হচ্ছে, অথচ রাষ্ট্রীয়ভাবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে ছাত্র ইউনিয়নের একাংশের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মেঘমল্লার বসু বলেন, সীমান্তে বিএসএফের হাতে যদি এত সংখ্যক জেলে আটক থাকত, তাহলে দেশজুড়ে তীব্র আন্দোলন গড়ে উঠত। কিন্তু আরাকান আর্মির হাতে চার শতাধিক জেলে আটক থাকার পরও দৃশ্যমান কোনো প্রতিবাদ বা তৎপরতা নেই। তিনি বলেন, একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী যদি শত শত নাগরিককে আটকে রাখে আর রাষ্ট্র তার সমাধান করতে না পারে, তাহলে সেটি গভীর উদ্বেগের বিষয়। এ নিয়ে জনসচেতনতা গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক সাজ্জাদ সিদ্দিকী বলেন, যুদ্ধ না থাকলেই শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয় না। কাঠামোগত বৈষম্য ও নিরাপত্তাহীনতা ভবিষ্যৎ সংঘর্ষের ঝুঁকি তৈরি করে। সমুদ্রসীমা নিয়ে আন্তর্জাতিক বিজয় অর্জন হলেও বাস্তবে জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের একোয়াকালচার বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মীর মোহাম্মদ আলী বলেন, নিখোঁজ জেলেদের পরিবার শুধু এটুকু জানতে চায় তাঁদের স্বজনেরা বেঁচে আছে কি না। রাষ্ট্র সেই ন্যূনতম নিশ্চয়তাও দিতে পারছে না, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের গবেষক সামিরা আহমদ বলেন, সেন্ট মার্টিনকে শুধু পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে দেখলে এখানকার মানুষের বাস্তব জীবন ও সংকট আড়ালে পড়ে যায়। দ্বীপটিকে ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার আলোকে দেখার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন তিনি।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সেন্টার ফর ক্রিটিক্যাল স্টাডিজের প্রদায়ক শৈলি আখন্দ।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au