চাঁদা না পেয়ে কক্সবাজারে গণেশ পালকে কুপিয়ে হত্যা
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- কক্সবাজার শহরে বাড়ি নির্মাণের চাঁদা না দেওয়ার জেরে গণেশ পাল (২৯) নামে এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৭ মার্চ)…
মেলবোর্ন, ৩০ জানুয়ারি- হেলমেট না পরার অভিযোগকে কেন্দ্র করে সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলায় সেনাবাহিনীর টহল দলের মারধরে এক যুবকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ২৯ জানুয়ারি সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে আশাশুনি উপজেলার কাকবাশিয়া বাজার এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। নিহত যুবকের নাম ইসমাইল সানা। তার বয়স ২২ বছর। তিনি কাকবাশিয়া জেলেখালি এলাকার বাসিন্দা এবং মহিরউদ্দীন সানার ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ইসমাইল সানা তার দুই বন্ধুকে নিয়ে একটি মোটরসাইকেলে করে কাকবাশিয়া বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন। ইসমাইলের মায়ের জন্য ওষুধ কেনার উদ্দেশ্যেই তারা বাজারে যাচ্ছিলেন বলে তার বন্ধুরা জানিয়েছেন। মোটরসাইকেলে তিনজন আরোহী ছিলেন এবং কারও মাথায় হেলমেট ছিল না।
নিহতের সঙ্গে থাকা বন্ধু রাকিব সানা বলেন, বাজারে পৌঁছানোর কিছু আগে একটি সেনাবাহিনীর টহল দলের গাড়ি তাদের থামায়। এ সময় সেনাসদস্যরা মাথায় হেলমেট না থাকা এবং এক মোটরসাইকেলে তিনজন ওঠার বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন। কথাবার্তার এক পর্যায়ে সেনাবাহিনীর সদস্যরা হঠাৎ করেই তাদের মারধর শুরু করেন বলে অভিযোগ করেন রাকিব।
রাকিবের ভাষ্য অনুযায়ী, এলোপাতাড়ি মারধরের সময় ইসমাইল গুরুতর আঘাত পান। মারধরের এক পর্যায়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘটনাস্থলেই ইসমাইলের মৃত্যু হয়। ইসমাইল মারা গেছেন বুঝতে পেরে সেনাবাহিনীর টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে বলে তিনি দাবি করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দারাও জানান, সন্ধ্যার দিকে একটি মোটরসাইকেলে করে তিন বন্ধু হেলমেট ছাড়া বাজারে আসছিলেন। বাজারের কাছাকাছি পৌঁছালে সেনাবাহিনীর একটি টহল দলের সামনে পড়েন তারা। সেনাসদস্যরা তাদের গতিরোধ করেন এবং ইসমাইল হোসেনকে মারধর করেন। মারধরের পর ইসমাইল আর উঠতে পারেননি। স্থানীয়দের দাবি, ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এরপর সেনাবাহিনীর সদস্যরা দ্রুত সেখান থেকে চলে যান।
খবর পেয়ে আশাশুনি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। আশাশুনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শামীম আহমেদ খান বলেন, ঘটনাস্থলে একজন যুবকের মরদেহ পড়ে থাকার খবর পেয়ে সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পুরো বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষ হলে বিস্তারিত জানানো হবে।
আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইদুজ্জামান হিমু বলেন, তিনি মৌখিকভাবে এমন একটি ঘটনার অভিযোগের কথা শুনেছেন। তবে ঠিক কী কারণে এবং কীভাবে ওই যুবকের মৃত্যু হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি যাচাই করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সেনা ক্যাম্পের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট আসেফ আহসান চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এ ধরনের কোনো ঘটনার কথা তার জানা নেই। তিনি বর্তমানে ক্যাম্পের বাইরে অবস্থান করছেন বলেও জানান।
এই ঘটনার পর কাকবাশিয়া বাজারসহ আশপাশের এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। নিহত ইসমাইল হোসেনের পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au