আরব আমিরাতের বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। শনিবার দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)…
মেলবোর্ন, ৩১ জানুয়ারি- গণভোটকে কেন্দ্র করে এবার সরাসরি প্রচারণায় জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ উঠেছে এক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার ওসি নূর নবীর একটি ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে শুরু হয় তীব্র আলোচনা ও সমালোচনা।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, ওই পুলিশ কর্মকর্তা গণভোট প্রসঙ্গে সরাসরি ভোটের পক্ষে মতামত প্রকাশ করছেন। ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, যারা চান দেশ পরিবর্তন হোক এবং আগের মতো পরিস্থিতি আর না থাকুক, তারা হ্যাঁ ভোট দেবেন। আর যারা পরিবর্তন চান না, তারা না ভোট দেবেন। একজন দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তার এমন বক্তব্য গণভোটের ও নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ভিডিওটি প্রকাশের পর ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই অভিযোগ করছেন, পুলিশ যেখানে নির্বাচন ও গণভোটে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং নিরপেক্ষ দায়িত্ব পালনের কথা, সেখানে একজন ওসি প্রকাশ্যে একটি পক্ষের পক্ষে প্রচারণায় নেমেছেন। সমালোচকদের মতে, এটি পুলিশের পেশাগত নিরপেক্ষতার পরিপন্থী। কেউ কেউ আরও বলছেন, শেখ হাসিনার শাসনামলে নির্বাচন সংক্রান্ত দায়িত্ব পালনের অভিযোগে পুলিশ কর্মকর্তা ও অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে বর্তমান পরিস্থিতিতে এমন আচরণকে তারা ‘এক দেশে দুই নীতি’ হিসেবে দেখছেন।
এই বিতর্কের মধ্যেই গণভোট নিয়ে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ভূমিকা স্পষ্ট করে নতুন করে নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। কমিশন জানিয়েছে, গণভোটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা হ্যাঁ বা না এর পক্ষে কোনো ধরনের প্রচারণা চালাতে পারবেন না। গণভোটের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে এমন সব কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক করা হয়েছে।
এ সংক্রান্ত একটি চিঠি বৃহস্পতিবার দেশের সব রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন। একই সঙ্গে চিঠির অনুলিপি পাঠানো হয়েছে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে। এতে আইন ও বিধির বিষয়টি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, গণভোট অধ্যাদেশ ২০২৫ এর ধারা ২১ এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২ এর অনুচ্ছেদ ৮৬ অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত কোনো ব্যক্তি গণভোট বিষয়ে জনগণকে তথ্য জানাতে এবং ভোটারদের সচেতনতা বাড়াতে পারেন। তবে তিনি কোনো অবস্থাতেই হ্যাঁ বা না এর পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানাতে পারবেন না।
নির্বাচন কমিশন আরও উল্লেখ করেছে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পক্ষ নেওয়ার মতো যেকোনো আচরণ গণভোটের ফলাফলকে প্রভাবিত করতে পারে। আইন অনুযায়ী এ ধরনের কর্মকাণ্ড দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। তাই সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আইন ও বিধান কঠোরভাবে অনুসরণ করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া গণভোটকে ঘিরে সরকারের পক্ষ থেকে হ্যাঁ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালানো নিয়ে এরই মধ্যে বিভিন্ন মহলে বিতর্ক চলছে। সেই প্রেক্ষাপটে একজন থানার ওসির এমন বক্তব্য নতুন করে বিতর্কে ঘি ঢেলেছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। নির্বাচন কমিশনের ভাষ্য অনুযায়ী, গণভোট সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য করতে হলে সরকারি কর্মচারীদের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় কি না, সে দিকেও এখন নজর রাখছে সংশ্লিষ্ট মহল।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au